আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ৩ পুলিশসহ আহত ১৫


Published: 2021-06-12 18:32:40 BdST, Updated: 2021-08-06 08:37:42 BdST

মাদারীপুর লাইভ: একই স্থানে পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধন করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক সাংবাদিক, তিন জন পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ৮টি মোটরসাইকেল, বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুটি ব্যাংকের শাখা অফিস ভাংচুর করা হয়। মাদারীপুরে এই ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি, মৌলভী আছমত আলী খানকে নিয়ে কটুক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় মাদারীপুরে বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের শাজাহান খান গ্রুপের নেতা কর্মীরা প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করছেন।

এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ১০টার সময় মৌলভী আছমত আলী খানকে নিয়ে কটুক্তিকারী মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লার পদত্যাগের দাবিতে শাজাহান খান গ্রুপ সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কলাবাড়ি স্ট্যান্ডে একটি মানবন্ধনের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা গ্রুপের সমর্থকরা একই সময় মানববন্ধন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় উত্তেজিত নেতা কর্মীরা পার্শ্ববর্তী ঘটকচর স্ট্যান্ডে ৮টি মটর সাইকেল, কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের শাখা অফিস ভাংচুর করে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ, এক সাংবাদিকসহ আহত হয় ১৫ জন।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. এহসানুল রহমান ভূঁইয়া জানান, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক বলেন, শেখ হাসিনার কারামুক্তি উপলক্ষে কেন্দুয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাস্তার পাশে মানববন্ধন চলছিল। এসময় শাজাহান খানের সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান বলেন, মরহুম আচমত আলী খান জেলার সকলের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।

তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক এমপি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তাকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছেন আমাদের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই পদক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা কটূক্তি করে বক্তব্য দিয়েছেন।

আহত পুলিশও

 

শাহাবুদ্দিন মোল্লা তার বক্তব্যের মাধ্যমে তো আচমত আলী খানকে নয় বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসম্মান করছেন। রুবেল খান আরও বলেন, আমরা যেখানে প্রতিবাদ সভা বা মানববন্ধন করছি সেখানে শাহাবুদ্দিন আহমেদ লোক পাঠিয়ে হামলা করছেন।

শাহাবুদ্দিন মোল্লা গ্রুপের মানববন্ধন ছিল সকাল ৮টা থেকে ৯টা। আর আমাদের সময় সকাল ১০টা থেকে ১১ টা। ১০টার পরে আমরা মানববন্ধন করলে শাহাবুদ্দিন মোল্লার সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

ঢাকা, ১২ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।