ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং এ বেহালদশা...২ কোটি টাকা জামানত নিয়ে লাপাত্তা ব্যাংকের এজেন্ট!


Published: 2021-06-11 12:31:39 BdST, Updated: 2021-06-16 23:16:31 BdST

নড়াইল লাইভ: এবার ভিন্ন তরিকায় লাপাত্তা হলো এক প্রতারক। তবে তিনি ব্যাংকের এজেন্ট হয়েই এই ফাঁদ পাতে। অবশেষে ওই প্রতারক গ্রাহকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েগেছে। প্রায় ২ হাজার গ্রাহকের ৩ মাসের বিদ্যুৎ বিলের ৫ লক্ষাধিক টাকা আর জামানতের ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে ব্যাংক এশিয়ার চাচুড়ি বাজারের এজেন্ট বাশার। ব্যাংকে আমানতের টাকা জমা হয়নি এই খবর পেয়ে গ্রাহকরা হতাশ হয়ে ভিড় করছেন ব্যাংকে।

ব্যাংক থেকে গোপনে কম্পিউটার সরানো এবং ৫০ হাজার টাকা ভাড়া বকেয়া পড়ায় ভবন মালিক ব্যাংকে তালা মেরে দেন। ব্যাংক এশিয়া সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলার চাচুড়ি শাখাটি ২০১৯ সালের জুন মাসে স্থাপন হয়। স্থানীয় চন্দ্রপুর গ্রামের খায়রুল বাশারকে এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ পান। বর্তমানে শাখাটিতে ডিপিএস, মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয়ী হিসাব মিলে ১ হাজার ৩০০ গ্রাহক নিয়মিত লেনদেন করেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই মেয়াদি আমানতের গ্রাহক।

প্রতি মাসে ২ হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ব্যাংকটিতে পল্লী বিদ্যুতের বিল নেয়া শুরু হয়। আশপাশের ৪ ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার গ্রাহক এখানে বিদ্যুৎ বিল জমা দেয়। মার্চ মাস থেকে বিদ্যুৎ বিলে বকেয়া আসতে থাকায় গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে জমাকৃত বিলের টাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা হয়নি।

এই অবস্থা পরবর্তী এপ্রিল ও মে মাসে চলতে থাকে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে ধীরে ধীরে বের হতে থাকে অন্য জামানতের টাকার হিসাব। ব্যাংকিং পদ্ধতির বাইরে নিজ উদ্যোগে গ্রাহককে এককালীন জামানতে মাসিক বেশি অর্থ প্রদানের লোভ দেখিয়ে কয়েক’শ গ্রাহকের কাছ থেকে এককালীন জামানত নিয়ে ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজে হাতিয়ে নেন।

গ্রাহকদের ভিড়

 

এমনকি এজেন্ট অফিসে ১০ থেকে ১২ জন কর্মী নিয়োগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২/৪ লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন এজেন্ট কাম এমডি খায়রুল বাশার। চাচুড়ি গ্রামের কোহিনুর বেগম আড়াই লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা রেখে দুই মাস ইন্টারেস্ট পান। মে মাসে ইন্টারেস্টের টাকা নিতে এসে দেখেন ব্যাংকে তালা মারা, এজেন্ট হাওয়া। অসহায় কোহিনুর বলেন, ছেলের পাঠানো টাকা জমিয়ে অনেক কষ্টে টাকাগুলো জমা রেখেছিলাম, এখন তো সবই হাওয়া। আমি কি আত্মহত্যা করব নাকি?

একই ভাবে ডহর চাচুড়ি গ্রামের মফিজুর রহমান ১৫ লক্ষ, পুরুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখ ১২ লক্ষ, হাসান শেখের দেড় লক্ষসহ কয়েক’শ গ্রাহকের দুই কোটি জামানতের টাকার নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন বাশার। ব্যাংক এশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যাংকের ভুয়া ভাউচার ছাপিয়ে সেই ভাউচারে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এজেন্ট বাশার।

নড়াইল জেলা ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ব্যাংকের প্রকৃত ভাউচারে টাকা গ্রহণ করলে গ্রাহক তা ফেরত পাবে। মূলত এজেন্ট ব্যাংকে টাকা জমা হবার পরে রশীদ প্রিন্ট হয়ে বের হয়, এখানে অধিকাংশই ভাউচারই নকল। ঢাকা থেকে আসা ব্যাংক এশিয়ার অডিটর আব্দুল্লাহ বাকী বলেন, আমরা গ্রাহকের অভিযোগ সংগ্রহ করছি।

এখানে এজেন্ট যে ধরনের জালিয়াতি করেছে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেবে।
ব্যাংক এশিয়ার রিলেশনশিপ কর্মকর্তা লিকু আহম্মেদ জানান, এজেন্ট বিদ্যুৎ বিলের টাকা জমা নিয়ে রশিদ দিলেও সে টাকা ব্যাংকে জমা করেনি। বুধবার পর্যন্ত এজেন্ট কর্তৃক ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য পেয়েছি। এজেন্ট শাখাটিতে নিরীক্ষা কাজ চলছে। পল্লী-বিদ্যুৎ সমিতি কালিয়া’র ডিজিএম মো. মমিনুর রহমান বিশ্বাস বলেন, এলাকার প্রায় ২ হাজার গ্রাহক সেখানে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন।

মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ওইসব গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করলেও এজেন্ট সে টাকা জমা না দেয়ায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) প্রনব কুমার সরকার বলেন, পুলিশ চাচুড়ি বাজারের এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা, ১১ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।