এসপি বাবুল আক্তারের পরকীয়া, বাদী থেকে আসামি


Published: 2021-05-13 00:17:45 BdST, Updated: 2021-06-20 16:44:33 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: তুমুল আলোচনা চলছে। ঝড় বইছে দেশজুড়ে। কেউ কেউ মুখরোচক নানান আলোচনায় ব্যস্ত। তবে আসেলে কি সেই কথাই সত্য নাকি অন্য একজনের গেমের শিকার হয়েছেন সেই চাকরিচ্যুত এসপি বাবুল আকতার। একসময়কার বহুল আলোচিত সেই পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। নিজ স্ত্রী হত্যার অভিযোগে এখন রয়েছেন রিমান্ডে। অভিযোগ ওঠেছে পরকীয়ার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা মামলায় নিহত মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন এ অভিযোগ করেন। ভিনদেশি এক এনজিও কর্মী কক্সবাজারে কর্মরত থাকার সময় বাবুল আক্তারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। তিনি বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে কর্মরত রয়েছেন এমন আলোচনা রয়েছে। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। বাবুল আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজার জেলায় চাকরি করার সময় ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বলে এ ঘটনাটি বাবুল আক্তার বার বার অস্বীকার করে চলেছেন।

সেখানে তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হয় ২০১৪ সালে। সেসময় বাবুল আক্তার সুদানে জাতিসংঘের মিশনে যান। তখন তার বাসায় দুটি বই উপহার পাঠান ওই নারী। বাংলাদেশে রেখে যাওয়া বাবুলের মোবাইলে একাধিক মেসেজও পাঠান তিনি। একটি বইয়ে ওই নারী লিখেছেন- আমাদের ভালো স্মৃতিগুলো অটুট রাখতে তোমার জন্য এই উপহার।

তিনি আরো লিখেন, আশা করি এই উপহার আমাদের বন্ধনকে চিরস্থায়ী করবে। ভালোবাসি তোমাকে...। ওই নারী বাবুল আক্তারের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণও করেন। মিতুর বাবা জানান, এসব ঘটনায় বাবুল ও মিতুর পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছে। বাবুলের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তিনি মিতুকে নির্যাতন করেন বলে মিতু মৃত্যুর আগে তাদের জানান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিবিআই প্রধান উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে আমরা চাইলেও কাগজে-কলমে অনেক কিছু বলতে পারি না। মিতু হত্যার ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ভিডিও ফুটেজ আমরা একজনকে দেখেছিলাম, তার নাম কামরুল ইসলাম মুসা। কিন্তু মুসা এখনও নিখোঁজ। ‘আমরা জেনেছি মুসা নিয়মিত বাবুল আক্তারের বাসায় যাতায়াত করতেন। বাবুলের অনুপস্থিতিতে মুসা বাসার বাজারও করে দিতেন।

পিবিআই জানার চেষ্টা করেছে, মুসা সোর্স ছিল কি-না। এটাই পিবিআই প্রমাণের চেষ্টা করেছে। মুসাকে শুধু বাবুল আক্তারই চিনতেন। ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট এই মুসাকে চেনা গেছে’ বলেন তিনি। পিবিআই প্রধান বলেন, ‘কিন্তু তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে মুসার দিকে বাবুল আক্তারের সন্দেহ হচ্ছিল না। পরে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে বাবুল আক্তার ইচ্ছাকৃতভাবে তার ব্যক্তিগত সোর্স মুসাকে সন্দেহ করেনি বা সন্দেহজনক বলে পুলিশকে জানায়নি।’

বনজ কুমার মজুমদার আরও বলেন, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে জঙ্গি কার্যক্রমে আহত হন বলে দাবি করেন বাবুল। আমরা সেটিই বিশ্বাস করেছি। আবার স্ত্রী মিতু নিহতের পর যে তার আচরণ ছিল, তা ছিল সবচেয়ে আপনজন হারানোর মতো। তাই তার কথা সবাই বিশ্বাস করেছিলেন।’ তদন্তের স্বার্থে পিবিআই বাবুল আক্তারকে ডাকা হয়েছিল। সাক্ষাতের পর বাবুল আক্তার পিবিআইকে কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

বিষয়গুলো আইজিপিকে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও জানানো হয়। এ অবস্থায় ব্যাক করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে পিবিআই। পিবিআই প্রধান আরও বলেন, মামলার তদন্তে আমরা নড়াইলের এক ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে নিয়েছিলাম। তার নাম গাজী আল মামুন। তিনি বাবুল আক্তারের বন্ধু। তার অপর বন্ধু সাইফুল হককেও পিবিআই ডাকে। তারা সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে পুরনো মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।’

মামলার তদন্ত সম্পর্কে বনজ কুমার আরও বলেন, ‘ঘটনায় প্রথমে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা আসেনি। মহামান্য হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন কতোদিন ঝুলে থাকবে এই মামলা? তদন্তে কিছু নতুন প্রশ্ন আসে, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মামলা ভিন্নদিকে মোড় নেয়।’ এদিকে, মাহমুদা খানম মিতু হত্যার নতুন মামলায় পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে এক নম্বর আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১২ মে) দুপুরে পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

এর আগে সোমবার (১০ মে) মামলার বাদী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে আনা হয় তাকে। মঙ্গলবার (১১ মে) সারাদিন বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআইর এক কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গ ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। এ ঘটনায় ঢাকায় অবস্থান করা মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে নিজের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার কয়েক দিন পরেই মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেয়। একপর্যায়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার শ্বশুর মোশারফ হোসেন।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পর চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মিতু হত্যার পর বাবুল আক্তার প্রথমে ঢাকার মেরাদিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন। ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে ঢাকার ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে পুলিশ জানায়, বাবুল চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরে বাবুল আক্তার দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে তিনি আবার আবেদন করেন।

ঢাকা, ১২ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।