এক প্রেমিকের জালে বন্দি দুই বোন!


Published: 2021-02-27 22:56:36 BdST, Updated: 2021-04-15 14:48:03 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: শুনতে খারাপ লাগবে। তবুও ঘটনাটি সত্য। আর সে কারণে কেবল এলাকা নয় দেশ জুড়ে ধিক্কার ও নিন্দার ঝড় উঠে একজন প্রতারক প্রেমিকের বিরুদ্ধে। আর ওই প্রতারকরে নাম মেরাজুল ইসলাম। দেখতে বেশ ফিটফাট। টিপ টপ চলাফেরা। তার প্রেমের জালে বন্দি হয়ে যায় দুই বোন।

এলাকাবাসী জানান, সাদিয়া জান্নাতি ও লুৎফুন্নাহার খাতুন সম্পর্কে দু’জন খালাতো বোন। লেখাপড়াও করতো একই স্কুলে। একই এলাকার ছেলে মেরাজুল ইসলাম গোপনে তাদের দু’জনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বেশ ভালোই চলছিল তাদের ত্রিভুজ প্রেম।

যদিও দুইবোন জানতো না একই প্রেমিকের সঙ্গে তাদের প্রেমের সম্পর্ক চলছে। মেরাজুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও করে। এক সময় তারা বিষয়টি জানতে পারে। ধরা পড়ে মেরাজুলের প্রতারণা।

এর পরই তারা বিষপানে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় একটি মামলা হয়। ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক। কেন দুই বোন একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে। তিন বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, ত্রিভুজ প্রেম, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মেরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

সংশ্লিস্টরা আরো জানায়, রংপুর শহরের শেখপাড়া এলাকার আনছার আলীর ছেলে মেরাজুল ইসলাম (২১)। সে একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া জান্নাতি ও তার খালাতো বোন পূর্ব শেখপাড়া এলাকার মঞ্জুর হোসেনের মেয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লুৎফুন্নাহার খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দু’জনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। দুই বোনের কেউই জানতো না মেরাজুল তাদের দু’জনের সঙ্গেই প্রেম করছে। বিষয়টি জানাজানি হলে, ২০১৮ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অপমান সইতে না পেরে শেখপাড়ায় নানা বাড়িতে গিয়ে একই সঙ্গে তারা দুই বোন বিষপান করে আত্মহত্যা করে।

এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রায় আড়াই বছর তদন্ত করার পরও ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পরে পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

গত বৃহস্পতিবার মেরাজুল আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পিবিআই’র পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, মেরাজুলের প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমনটি ভেবে দুই বোনই আত্মহত্যা করে।

মামলার রহস্য উন্মোচিত হয় দুই খালাতো বোনের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। কারণ তারা দু’জনই মৃত্যুর আগে ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টি জানা যায় ওই প্রতিবেদনে।

তারপর গভীর অনুসন্ধানে রহস্য বুঝতে পেরে সন্দেহভাজন মেরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করলে পুরো বিষয়টি জানা যায়। মেরাজ ওই ঘটনার বিভিন্ন স্তর পুলিশকে জানিয়েছে। বলেছে এটা সে নিজের পরিকল্পনাতেই করেছে।

ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।