ধারের টাকা: কাল হলো ১২ বছরের ছাত্রীর, গণধর্ষণ


Published: 2020-10-17 15:14:40 BdST, Updated: 2020-10-20 06:33:18 BdST

কক্সবাজার লাইভ: ধারের টাকাই কাল হলো ১২ বছরের ছাত্রীটির। ওই টাকা না পেয়ে পাষান্ড নরপশুদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে সে। এরা এলাকার বখাটে হিসেবেই পরিচিত। ধারের টাকা ফেরত না পেয়ে ১২ বছরের ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দেড়মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করছিল চার পাষন্ড।

অবশেষে টানা ৩৬ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার থেকে ওই শিশু ছাত্রীকে উদ্ধার করে র‌্যাব। শুক্রবার রাতে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান মামুন।

তিনি জানান, কক্সবাজার জেলার সদর থানাধীন কস্তুরাঘাট ও খুরুশকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মেয়ে শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় শিশুটিকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় চার পাষন্ডকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে পড়াশুনা করতো বলে এলাকাসী সূত্রে জানাগেছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ৪ জন হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পেঁচারঘোনার লোকমান হাকিম (৩৪), পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আরমান হোসেন (২৭), খরুলিয়া চেয়ারম্যানপাড়ার মো. শাহাব উদ্দিন (২৮) ও তার সহযোগী খুরুসকুল হাটখোলাপাড়ার মো. নুরুল আলম (৩৮)।

পুলিশ আরো জানায়, বৃহস্পতিবার এক মহিলা র্র‌্যাবকে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর শাহাব উদ্দিন ও তার ৩ জন সহযোগী মিলে তার ছোট মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে প্রায় দেড় মাস যাবত অজানা স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে র‌্যাব-৭ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ধর্ষণকারী ও তার সহযোগীরা কক্সবাজার জেলার সদর থানা এলাকায় অবস্থান করছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে টানা ৩৬ ঘন্টা অভিযানে ভিকটিমকে উদ্ধার ও ধর্ষকদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারা। এ এসপি মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, আসামিরা বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের অভিযানটি ছিল কষ্টসাধ্য।

এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে আসামিরা কক্সবাজার জেলার সদর থানাধীন কস্তুরা ঘাট এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান শুরু করে। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা শাহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য ভিত্তিতে অপর তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শাহাব উদ্দিন অপর তিন আসামিকে নিয়ে ভিকটিমকে অপহরণ ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের কক্সবাজার জেলার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কিশোরীর মা জানায়, তার স্বামী টমটম চালান। খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়ার শাহাব উদ্দিনের টমটম চালাতে গিয়ে তার সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে শাহাব উদ্দিন তাদের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। এর মধ্যে তার স্বামীর টাকার প্রয়োজন পড়ায় তিনি টমটমচালক শাহাব উদ্দিনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নেন।

তার স্বামী সেই টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এই সুযোগে শাহাব উদ্দিন ও তার লোকজন মিলে তাদের কিশোরী মেয়েকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান। টাকা ফেরত না দিলে মেয়েকে আর ফেরত দেবেন না বলে শাহাব উদ্দিন জানিয়ে দেন। এ ঘটনার পর তারা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য খরুলিয়ার ইউপি সদস্য আবদুর রশিদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেন। তাতেও মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মেয়েকে উদ্ধারের জন্য সরকারি সহায়তা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আকুতি জানান মা। এরপর কক্সবাজার মডেল থানার এসআই মনসুরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শিশু কন্যাটিকে উদ্ধারের জন্য গত ১১ অক্টোবর খরুলিয়া চেয়ারম্যানপাড়ায় টমটমচালক শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালায়।

কিন্তু অভিযানের খবর আগে থেকে জেনে যাওয়ায় শাহাব উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন ওই মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। টমটম চালক শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী সংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান মাহমুদুল হাসান মামুন। ৪ আসামীর বিরুদ্ধে আরো বিভিন্ন অভিযোগ আসছে র‌্যাবে। তদন্ত চলছে।

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।