ছাত্রলীগ: ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ, ফুঁসে উঠছে এমসি কলেজ


Published: 2020-09-26 16:12:54 BdST, Updated: 2020-10-28 04:10:14 BdST

সিলেট লাইভ: ফুঁসে উঠছে এমসি কলেজ। এই ঢেউ আশেপাশের কলেজ গুলোতেও লাগছে বলে দাবী আন্দোলনকারীদের। তারা বলছেন প্রশাসনের আশকারা পেয়ে এরা ক'দিন আগেও গোটা এলাকায় দাবড়ে বেড়াতো। আজ তাদেরকে পুলিশ খুঁজে পায় না। এটা মেনে নেয়া যায় না। সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছেন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা ছাত্রলীগ নাম ধারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান।

তারা এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায় ধর্ষকের স্থান নেই,’ ‘ঘাতক-ধর্ষকের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে নেতৃত্ব দেন এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা দেলওয়ার হোসেন, হোসাইন আহমদ, রাসেল আহমদ, শামীম আলী, আলতাফ হোসেন মোরাদ।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকার পরেও ছাত্রাবাস কীভাবে খোলা রাখে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ অবগত থাকার পরও কেন ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেয়া হলো না।

আজ ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে কলঙ্কের দাগ লেগেছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমসি কলেজ ও ছাত্রাবাসে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। রাত ১০টার দিকে টিলাগড় এলাকার কলেজটির ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগের সেই নেতা-কর্মীরা

 

ওই গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে নগরীর শাহপরাণ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মী ও অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, এম সাইফুর রহমান, অর্জুন এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল এবং তারেক আহমদ। তাদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি দিরাইয়ে, মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে, রনি হবিগঞ্জের এবং তারেক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে গণধর্ণণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের রুম থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি রামদা, দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

জানা যায় ওরা নয়জন। সকলেই একে অন্যের সহযোগী। এরা প্রভাবশালী। সিন্ডিকেট সদস্য। এদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। যা খুশি তাই করে বেড়াতে গোটা এলাকায়। ওই অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে নেতা হলো রবিউল, তারেক, রনি, সাইফুর, মাহফুজ ও অর্জুন।

এরা একের পর এক অন্যায় করে বেড়াতো এলাকায়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ টু শব্দটি করতে সাহস পেত না।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।