মধ্যরাতে শাবি ভিসিপুত্রের কাণ্ড, বাইক আরোহীকে চাপা দিয়ে চম্পট!


Published: 2019-09-21 02:43:05 BdST, Updated: 2019-10-14 07:25:10 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ফারহান আহমেদ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ছেলে। শুক্রবার মধ্যরাতে প্রাইভেটকার নিয়ে বেরিয়েছিলেন রাস্তায়। অনেকটা এলোমেলো ভাবেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে রাজধানীর বনানী এলাকায় তিনি সিগন্যাল অমান্য করে বাইক আরোহীকে চাপা দেন। এতে বাইকে থাকা মহিলা ছিটকে পড়ে যান। এঘটনার পর ফারহান আহমেদ তাদের না উদ্ধার করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রাইভেট কারের গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। বনানী চেকপোস্ট সিগন্যাল অমান্য করে তিনি আবাসিক এলাকায় ঢুকে যান। তবে তার জানা ছিল না কেউ একজন তার ওই নিষ্ঠুর ও নির্মম কাণ্ড ফলো করছিলেন। তার পিছু পিছু বনানীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন রিয়াদুল হাসান রিমন নামে এক যুবক। তিনি বাইকে করে ওই প্রাইভেট কারের পিছু নেন। একপর্যায়ে তিনি ভিসিপুত্রের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। সেখানে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শুরু হয় হম্বিতম্বি। একপর্যায়ে তাকে হুমকিও দেয়া হয়। তবে তিনি নাছোর বান্দা। ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি অবহিত হন। এসময় ভিসিপুত্র ফারহান ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এঘটনায় আহতদের বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেনি বনানী থানা পুলিশ। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

এদিকে ওই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াদুল হাসান রিমন। ভিসিরা কী ভগবান এই শিরোনাম দিয়ে তিনি ফেইসবুকে লিখেন, দাম্ভিব কার চালাক। অবশ্য তাদেরকে দাম্ভিক না বলে নিষ্ঠুর ও হৃদয়হীন মানব বলা যায়। কিছুদিন ধরে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির জঘন্য ও ঘিন্ন আচরণ দেখে আমাদের ঘোটা সমাজ আঁতকে উঠছিল। কখনো একজন ভিসির আচরণ এরকম কাম্য নয়।

বেশকিছুদিন ধরে এসব বিষয় নিয়ে কেবলই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আজ যখন নিজের চোখে এরকম জঘন্য কাজ দেখলাম তখন আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। ঘটনাটি রাত ১১.২০মিনিটের সময় বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ীর মোড়ে। একজন ভদ্র লোক ও ভদ্র মহিলা মোটরসাইকেল যোগে হয়তো তারা দু'জন স্বামী-স্ত্রী অথবা আপনজন। বন্ধের দিনে ঘুরতে বের হয়েছে। নাহয় কেনাকাটা অথবা মার্কেট করতে। কিছুটা একটা হবে হয়তো।

তাদের মোটরসাইকেলটি চেয়ারম্যান বাড়ীর মোড় দিয়ে ভিতরে ডুকতে গেলেই একটি কালো প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-২২-৫৩৩৮) বেপরোয়া গতিতে সিগনাল অমান্য করে স্বজোড়ে ধাক্কা মারে এবং দুজনে মারাত্মক আহত হয়। ঘটনা দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলাম না। নিজের মোটরসাইকেল দিয়ে গাড়ীটি ধরতে পিছু নিলাম। এদিকে আহতদের ট্রাফিক পুলিশ উদ্ধার করেন। আমি ছুটে চললাম কারটির পিছু পিছু। হঠাৎ ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি থামলো, আমি ভদ্রতার সহিত সালাম দিয়ে গাড়ি থেকে নামতে বললাম। কিন্তু বেপরোয়া চালক কোন কথা না শোনে উল্টো দিকে গাড়ি আবার দ্রুত গতিতে চালাতে লাগলেন। আবারও পিছু নিলাম। এবার গিয়ে গাড়ি থামালেন বনানীর রোড নং-৯, হাউজ নং-২০ এ।

আমি আবারও সালাম দিয়ে বললাম ভাই, আপনি দু'জন পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে কেন ফেলে চলে আসছেন? রাগান্বিত হয়ে আমাকে সেরকম হুমকি-ধমকি দিলেন। তিনি আরও বললেন জানেন আমি কে? আমি বললাম আপনি কে তা দিয়ে আমি কি করবো ভাই।

তিনি বলেন আমার বাবা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি। আমি বললাম আপনিতো ভাই একজন সম্মানিত বাবার সন্তান। কিন্তু আপনি এরকম বেপরোয়া গতিতে ও সিগনাল অমান্য করে গাড়ি চালানো কি ঠিক? আপনি বলেন ভাই? এবার বাসা থেকে নেমে আসলেন ভিসি মহোদয়ের স্ত্রী। তিনি এসেতো মস্ত বড়ো এক লিস্ট শোনালেন। উনার স্বামীর কথা নাকি বনানী থানা এলাকার প্রশাসন চলে। আমি কেন উনার ছেলেকে ফলো করলাম এটা নাকি অন্যায় হয়েছে।

অবস্থার বেগতিক দেখে কল দিলাম জাতীয় সেবা সেন্টার ৯৯৯ এ। তারা দ্রুত ঘটনাটি আমলে নিয়ে বনানী থানার এসআই আশরাফ ভাইকে পাঠালেন এবং তিনি ঘটনাস্থলে এসে তার বিস্তারিত পরিচয় ও ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করেন। পরে উনিও বলেন শাবিপ্রবির ভিসি মহোদয়ের ছেলে চালক ফারহান। সমস্যা নেই উনি ঘটনাটি দেখভাল করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।

শাবিপ্রবির সম্মানিত ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমদ আমাদের সবার শ্রদ্বেয়। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের উনি মানবিকতা শিক্ষা দেন। কিন্তু আফসোস উনার নিজের ছেলেকে সঠিক মানবিকতা শিক্ষা দিতে পারেননি।

সকলের মধ্যে মানবিকতা জাগ্রত হোক। আসুন বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ট্রাফিক আইন মেনে চলি। জরুরি সেবা ৯৯৯ কে বিশেষ ধন্যবাদ।

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।