Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | সোমবার, ২০শে মে ২০২৪, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
teletalk.com.bd
thecitybank.com

আ. লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে মামলা: বাদী ছাত্রদল সভাপতি!

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবার ২০২২, ০২:৩৪

মামলার বাদী ছাত্রদল সভাপতি

লাইভ প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের ঘসংর্ষ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের গাড়িবহরে হামলাসহ গুলি বর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী হয়েছেন দেবীদ্বারের বড়কামতা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চলছে তোলপাড়।

দেবীদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ এজাহারনামীয় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত (৫ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার দেবীদ্বার থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় সাক্ষী হয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ আরো অনেকে।

এ মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন, আনিসুর রহমান (৪০), আমিনুল ইসলাম সুমন (৩৩), জহিরুল ইসলাম (৩৮), ওমর ফারুক (৩৬), জামিউর রহমান (২৬), আহাম্মেদ শুভ (২৪), মোঃ নিশান মিয়া(২৪), নুরুন্নবী(২৪)সহ আরো অজ্ঞাত ৪০-৫০ জন। তবে মামলার বাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হওয়ায় তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানান সমালোচনা।

আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মী জানান, ৩ অক্টোবর রাতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সময় দুই গ্রুপের নেতাকর্মী আহত হয়েছে। কিন্তু মামলা দায়ের করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপ। আবার সেই মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন নামের এক সাবেক ছাত্রদল নেতা । তাঁর পুরো পরিবার বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মামলার বাদী কেন ছাত্রদল নেতা হবে ? তাহলে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের এক গ্রুপ বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মূল ধারার আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। মূলত এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলকে ঠেকানোর জন্যই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একটি অংশ একত্র হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করছেন নেতাকর্মীরা।

দেবীদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দেব রায় জানান, মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন বড়কামতা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাঁর ভাই সাকিল ছাত্রদল কর্মী। তাঁর পিতা রফিকুল ইসলাম বিএনপির সক্রিয় কর্মী। আর এই মামলাটিও সাজানো। ওই দিন হামলা এমপি রাজী সাহেবের গাড়িবহরেও হয়েছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান সৈকত জানান, মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। ফেসবুকে পোস্ট করা বিএনপির বিভিন্ন মিছিলে তার ছবি দেখা গেছে। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যখন দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের পিতা নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তখন ওই ছেলেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজকরতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি দেবিদ্বার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগে স্পষ্টভাবে দুই ভাগ পরিলক্ষিত। এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী মাস্টার ও এ বি এম গোলাম মোস্তফা। যদিও দুই গ্রুপকেই সাংগাঠনিক কর্মকাণ্ডে এক সারিতেই দেখা যায়। তবে তাদের মধ্যে গ্রুপিং এখন তুঙ্গে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, ৩ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার ভিংলাবাড়ি সাহাপাড়া পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে আমার গাড়ি বহরে হামলা করে এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। পরে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন, আনিছুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। প্রতিপক্ষের এ হামলায় আমার ৫ কর্মী আহত হন।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমলকৃষ্ণ ধর জানান, মামলার তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

ঢাকা, ০৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএ


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ