প্রথমদিনে রাজশাহী কলেজে ৮৬ শতাংশ উপস্থিতি


Published: 2021-09-12 19:55:40 BdST, Updated: 2021-10-16 20:53:44 BdST

রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধি: দীর্ঘ আঠারো মাস পরে জ্ঞানের দোয়ারে প্রবেশ করলো শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে বদলে গেছে অনেক কিছু। শুধু কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যই নয়; বদলে গেছে শিক্ষা পরিবেশও। তবে ঘন্টাধ্বনির ‘ঠং’ শব্দের মধ্যে দিয়ে আবারও শিক্ষা জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের যাত্রা শুরু করলো রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর দীর্ঘ সময় পর কলেজের নব রুপ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা। এদিন রাজশাহী কলেজে উপস্থিতির হার ছিলা ৮৬ শতাংশ।

সত্য, সুন্দর, পবিত্রতা, বিশ্বজনীনতা, বন্ধুত্ব ও পরমতসহষ্ণিুতার মতো শিক্ষার আলোকিত প্রদীপশিখা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই কলেজ। ধরে রেখেছে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। যেই শ্রেষ্ঠত্ব করোনাকালেও ভঙ্গুর হয়নি। বরং নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে আরও সুন্দরভাবেই উপস্থাপন করেছে। কলেজের নান্দনিক সৌন্দের্যের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখাসহ যুগপোযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে করোনাকালেও শিক্ষার কান্ডারী হিসেবেই কাজ করে গেছে কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষকরা।

শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখা হচ্ছে


রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই কলেজটি করোনাকালেও নিয়মিত অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। সঙ্গে সৌন্দর্যের গাতি ধারাও। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী কলেজ ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের প্রবেশের আগেই পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় কলেজের স্বাধীনতা চত্বর, টেকাকোটা চত্বর, পুকুরপাড়সহ ক্লাস রুম ফিরে পেয়েছে প্রাণের স্পন্দন। প্রতিটি ক্লাস রুমের বাইরে মাস্কসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই বসানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

রাজশাহী কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের ৪৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬২ জন এবং দ্বিতীয় বর্ষের ৫১২ জনের মধ্যে ৩৭২ জন উপস্থিত ছিলো। যেখানে প্রথম বর্ষের উপস্থির হার ৯৭ শতাংশ। সামনের দিনগুলোতে উপস্থিতির হার শতভাগ হবে বলে আশাদাবী কলেজ কর্তৃপক্ষ।

হাত স্যানিটােইজ করা হচ্ছে

 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, করোনায় পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময়ের ঘরবন্দি জীবনের অবসানে তারা প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরেছেন। অনলাইনের এক ঘেয়ামি জীবনের অবসান হতে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে ঠুকেই নিজেদের মুক্ত ডানার পাখি মতো মনে হয়েছে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে আরও নান্দনিক হয়েছে। এই সৌন্দর্যও মুগ্ধকর। বিশেষ করে কলেজের পদ্ম পুকুরের কোন তুলনা হয় না।

রাজশাহী কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুসাব্বিহুর রহমান। সে জানায়, কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ এই প্রথম। এতোদিন অনলাইনেই আবদ্ধ ছিলাম। আর করোনার কারণে ক্যাম্পাসে আসারও তেমন সুযোগ ছিলো না। ক্লাস রুমে ফিরতে পেরে অত্যান্ত খুশি সে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের প্রশংসাও করে মুসাব্বিহুর রহমান। শুধু শিক্ষার্থী নয়; শিক্ষকরাও দীর্ঘ সময় পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে উচ্ছসিত ছিলেন।

রাজশাহী কলেজ শিক্ষক পরিষদের সদস্য বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোস্তফিজুর রহমান
ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, দীর্ঘ সময় পর শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্লাস রুমে ফিরতে পারার অনুভূতিটা যে ভাষায় প্রকাশ করা হোক না কেন তা কম হবে। করোনার বিভীষিকা মুছে শিক্ষার্থীরা আবারও ক্যাম্পাসে ফিরেছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। শিক্ষক হিসেবে তারাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধু সুলভ আচরণের মাধ্যমে তাদের মেধাগত বিকাশকে ত্বরান্তিত করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীকে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষক

 

রাজশাহী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাস্ক পরিয়ে দিয়ে ক্লাস রুমে স্বাগত জানানো হয়েছে। সংক্রমণ ঝুঁকি বিবেচনা করে কঠোর স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ক্লাসে ফিরতে পেরে প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা অনেক আনন্দিত ছিলো।

তিনি আরও জানান, সরকারের নির্দেশনার আলোকে পুরো ক্যাম্পাসকে তকতকে করা হয়েছে। কোথাও কোন ময়লা-আবর্জনা নেয়। করোনাকালেও রাজশাহী কলেজের সৌন্দর্যের যে সুনাম তা ধরে রাখতে তারা কাজ করে গেছেন। নান্দনিকভাবেই পুরো ক্যাম্পাস সজ্জ্বিত আছে। সর্র্বোপরি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিতে তিনি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।