করোনায় কেমন আছেন কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজছাত্রীরা


Published: 2021-09-02 16:30:34 BdST, Updated: 2021-11-27 17:43:19 BdST

মহামারী করোনা ভাইরাসের তান্ডবে বিশ্বের সব দেশ নাস্তানাবুদ, এর থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশের মত ছোট দেশও। করোনার প্রকপের কারনে গত ১৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজও তার আওতার বাইরে নয়। গত ১৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কুষ্টিয়ার অন্যতম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানার চেষ্টা করা হয়েছে করোনার এই কঠিন সময়ে কেমন কেটেছে তাদের জীবন।

শিক্ষার্থীরা কিভাবে কাটিয়েছে করোনার গত ১৮ মাস? কলেজ বন্ধ থাকার কারনে কি নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে? বর্তমানে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য শিক্ষার্থীদের টিকার রেজিসট্রশন করা হচ্ছে এবং দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে তারা কি ভাবছে...? এমনই নানা প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরেছেন আমাদের ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি লুনা আক্তার

কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিস চুমকি আক্তারের সাথে কথা বললে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, করোনার দিনগুলো তার খুব বেশি ভালো কাটেনি। কারণ এই ১৮ মাস করোনার সময় কেটেছে একটা আতঙ্কের মধ্যে এমনকি এখনো তাই কাটছে।প্রতিনিয়ত দেখতে হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। শুনতে হচ্ছে কান্না, আর চারপাশে এমন চলতে থাকলে সেই সময় কখনোই ভালো যাওয়ার কথা না। শুধু যে আশে পাশের মানুষ গুলাকেই অসুস্থ দেখতে হচ্ছে এমনটা না, আমাদের অনেক কাছের মানুষও অসুস্থ হচ্ছে এই করোনায়।

এমনকি আমার নিজের পরিবারেও এই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। এক কথায় বলতে গেলে একদমই ভালো কাটেনি এই করোনার সময়। আর পড়াশোনা তো কিছুই হয় না যার জন্য নিজে কিছু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে কয়েকবার। আর মোটামোটি বাড়ি বসেই কেটেছে এই করোনার সময়। কলেজ বন্ধ থাকার কারণে পরীক্ষা না হওয়ার সমস্যার সম্মুখিন হয়েছি বেশি। টিকার রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। রেজিষ্ট্রেশন যখন করেছি টিকা তো নিতেই হবে। অবশ্যই ভয় পাচ্ছি তবে ভয়টা পাচ্ছি ব্যাথা পাওয়ার।

কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী অহনা খাতুন তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, করোনার ১৮ মাস পুরো ঘর বন্ধি জীবন যাপন করেছি। পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেকগুলো দিন এভাবে নষ্ট হয়ে গেলো। কলেজ বন্ধ থাকার জন্য পড়াশোনার অনেক বড় ক্ষতিসাধন হয়েছে। পড়াশোনার অনেক বড় একটা গ্যাপ পড়ে গেছে। সারাক্ষণ বাড়িতে থাকার পরেও মন দিয়ে পড়াশোনা করা হয়নি। আমাদের শিক্ষাগত ঘাড়তি পড়েছে করোনাকালিন কলেজ বন্ধ থাকার জন্য। অনেক গুলো মাস ঘর বন্ধি জীবন যাপন করা হচ্ছে। কলেজের টিকা রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে কিন্তু পরে যে রেজিষ্ট্রেশন আপডেট দেওয়া হয়েছে সেখানে করা হয়নি। আমি অবশ্যই টিকা নেবো। টিকা নিতে কোনো ভয় পাচ্ছি না। কিন্তু টিকা নেওয়ার পরেও কি আমরা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে পারছি কিনা সেটা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

এই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিনু আক্তার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন,
কোভিড-১৯ অর্থাৎ করোনাভাইরাস চীনের উহান প্রদেশে যখন প্রথম বিস্তার লাভ করেছিল, তখন এটা আমাদের কাছে অনেকটা গল্পের মত মনে হলেও, যখন আস্তে বলে সারা বিশ্বে তথাপি বাংলাদেশেও এর প্রভাব ছড়িয়ে গেল তখন থেকে এবং মিডিয়াতে দেখে বুঝতে পারলাম এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তখন থেকে আমাদের দেশের সরকারের সিদ্ধান্তে যখন দেশে লকডাউন শুরু হল লকডাউন কি সেটা বুঝতে পারলাম। লকডাউনে ঘরে থাকতে হবে নিরাপদ থাকতে হবে এসব জেনে বুঝেও ইচ্ছে করলেও স্বাভাবিক দৈনন্দিন যে কাজ সেগুলো বাদ দিলেও জরুরী কাজে বিভিন্ন সময়ে বের হতে হয়েছে ইচ্ছে করলেও ঘরে থাকতে পারিনি।

আর যদি বলি এই ১৮ মাস কিভাবে কেটেছে তাহলে বলতে হবে লকডাউনে মানবজীবন হয়ে উঠেছে অস্থিতিশীল, সবকিছু স্বাভাবিক থেকে অস্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে যেহেতু এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত মহামারী। আর একজন শিক্ষার্থী হিসেবে লকডাউনে যখন কলেজ বন্ধ থেকেছে তখন পড়াশোনার পাশাপাশি বেসিক যে ধারণা গুলো কলেজের স্যারদের কাছথেকে বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া যেত সেগুলো পাইনি, তার কারণে পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছি ।ইচ্ছে করলেও বাড়িতে বসে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারিনি কারণ কলেজের পড়ার চাপ স্যারদের বকুনি এগুলোতো আর পেতে হয়নি। টিকা রেজিস্ট্রেশন তো করেছি অবশ্যই । মেসেজ আসেনি মেসেজ আসলেই টিকা নিয়ে নিবো। করনার টিকা নিয়ে ভয় পাচ্ছিনা কোনো। টিকা অবশ্যই নিতে হবে শুধু আমি তো আর নিচ্ছি না পৃথিবীতে লক্ষ কোটি মানুষ তথাপি বাংলাদেশের লাখো মানুষ নিচ্ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমনা আক্তারের সাথে কথা বললে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, দেশের সব মানুষের মত করোনা কালিন সময় আমারও খুবই খারাপ কেটেছে। এই করোনাকালীন সময়টা কেটেছে ঘরে বসেই। না হয়েছে পড়ালেখা ঠিকমতো আর না হয়েছে অন্যকোনো কাজ। কারন আমাদের প্রত্যেকের পরিবারেই কেউ না কেউ যুদ্ধ করেছে করেনার সাথে। কেউ কেউ এই মরণ যুদ্ধে হেরেও গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সঠিক মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অনভ্যস্ত হওয়ার প্রবনতা তৈরী করেছে আমাদের মাঝে। টিকার নিবন্ধন করেছি, খুব দ্রুত টিকা নিয়ে ফেলবো।

অর্থনিতি বিভোগের শিক্ষার্থী লায়লা আক্তার তার করোনাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় এরপর কয়েক দফায় এই ছুটি বাড়ানো হয়েছে যার কারনে আমাদের ক্লাস পরিক্ষা কোনকিছুই হয়নি। এভাবে পড়ালেখার প্রতি অনিহা চলে এসেছে। অনলাইনে ক্লাস করার উদ্দেশ্যে আমরা মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। যেটা আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নস্ট করেছে। তাই আমরা চাইছি যত দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিবে ততো দ্রুত আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবো। করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছি কিন্তু টিকার জন্য একটু ভয়ও পাচ্ছি।

এই কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইরফাত জাহান লিমু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, করোনার এই ১৮ মাস খুব বেশি ভালো কাটেনি তবে একটা কাজ খুব ভালোভাবে করতে পেরেছি সেটা হলো নিজের পরিবারকে সময় দিতে পেরেছি। সব সময় নিজের পরিবারের কাছাকাছি থেকেছি। যার কারনে নিজের পরিবারের সাথে পারস্পারিক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনার টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছি আর টিকা নেওয়ার জন্য কোন ভয় পাচ্ছি না। ডেট দিলেই টিকা নিয়ে ফেলবো।

এই কলেজের গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী মিম আক্তার ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, করোনার এই সময়টা বাসায় বসেই কেটেছে সব সময়। পরিবারের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করেছি এবং পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া করোনার এই ১৮ মাস পড়াশোনা একদমই হয়নি। পড়াশোনা না করার কারনে বাসা থেকে অনেক সময় বিয়ের প্রেসারেও পড়তে হয়েছে। তাছাড়া করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছি কিন্তু টিকা এখোনো নেওয়া হয়নি। টিকা নেওয়ার এসএমএস আসলেই টিকা নিয়ে নিব আসা করছি।

কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই মনে করেন দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে তাদের জন্য ভালো হতো। তাদের কাছে মনে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। ঘরবন্দি জীবনে মানসিক চাপ তাদের ক্রমেই বেড়েই চলেছে তাই আমরা আসা করি সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তাদের ভবিষ্যৎ ভালো করার সিদ্ধান্ত নিবেন।

ঢাকা, ০২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।