পৌষ পার্বণ ও পিঠা উৎসবে আনন্দমুখর চবির বাংলা বিভাগ


Published: 2022-01-13 10:56:11 BdST, Updated: 2022-01-19 07:03:27 BdST

চবি লাইভ: “সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পৌষ পার্বণ’ ১৪২৮ ও পিঠা উৎসব আয়োজিত হয়েছে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর বারোটায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শফিউল আজম (ডালিম)। এসময় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহিদ মিনার, বিবিএ ফ্যাকাল্টি, সোশ্যাল সাইন্স ফ্যাকাল্টি, ও সাইন্স ফ্যাকাল্টি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে গ্রাম বাংলার চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক রূপ ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন শ্রেণী, ধর্ম ও পেশাজীবিদের সাজে সেজেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

র‍্যালি শেষে বাংলা বিভাগ চত্বরে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পিঠা প্রদর্শন করেন।

এরপর বিকাল তিনটায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জান্নাতুল সাদিয়া পুষ্পা ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ বোরহানের সঞ্চালনায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তি, দেশীয় ঢং প্রদর্শনী সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পরিবেশন করেন। এতে গান পরিবেশন করেন চবি ক্যাম্পাসের বিখ্যাত ব্যান্ড সরলা।

দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনের সাক্ষী পরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাবিহা জামাল অন্তি অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, কোভিডের পরে দীর্ঘদিন পর আমরা এরকম একটি আয়োজনের সাক্ষী হতে পেরেছি। এই আয়োজনের কারণেই আমর আনেকদিন পর বিভাগের সকলে শিক্ষক শীক্ষার্থী সকলে একত্রিত হতে পেরেছি যা অত্যন্ত খুশির বিষয়।

চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাসান মেহেদী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, করোনাকালিন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার অবনতি কাটিয়ে উঠতে এবং অগ্রজ অনুজদের অন্তরঙ্গতা বাড়াতে এধরণের অনুষ্ঠান একান্তই কাম্য ছিলো। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এবং সফলভাবে অনুষ্ঠান শেষ করতে পারায় যেমন আনন্দিত তেমনি ঐতিহ্যকে ধারণ করতে পারার দায় এড়াতে পেরে বেশ তৃপ্তও।

বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মাখন চন্দ্র রায় ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটিতে চিরায়ত বাংলার অসাম্প্রদায়িক চিত্রটি উপস্থাপিত হতে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। গ্রাম বাংলার খেলাধুলা, বিভিন্ন পারবন জীবনাচার সবসময়ই এই অসাম্প্রদায়িক রূপটিকেই ধারণ করে। লোকক্রিড়া, লোকজ উৎসব প্রভৃতি সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে যথার্থ প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। আশাকরি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে একটি সৃষ্টিশীল সমাজ গড়ে উঠবে।

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজে//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।