ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট: তৃতীয় ওয়েভের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের


Published: 2021-05-05 02:50:35 BdST, Updated: 2021-05-15 19:25:36 BdST

লাইভ প্রতিবেদক, চট্রগ্রাম থেকে: এদেশ আরো একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে যেতে পারে। এখনই সাবধান করেছেন বিশেজ্ঞরা। বলেছেন এ ব্যাপারে সরকারকেই অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের জান-মাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে দেশে তৃতীয় ওয়েভের আশঙ্কা করছেন চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েসেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বলেছেন সকলকে এখনই সাবধনতা অবলম্বন করতে।

তারা বলেছেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিস্তার ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংক্রমণের জন্য ৬০ ভাগ যুক্তরাজ্যের আর ৩০ ভাগ দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট দায়ী।

তবে দেশে এখনও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়নি। তাই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রবেশ করলে দেশে তৃতীয় ওয়েভের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েসেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা করোনার নতুন ১০টি জীবন রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।

জানাগেছে গত এক মাসে করোনার নতুন আরও ১০টি জীবন রহস্য উন্মোচন করেছেন তারা। এর মধ্যে ৬ টি যুক্তরাজ্যের, ৩ টি দক্ষিণ আফ্রিকান ও বাকি একটি অস্ট্রেলিয়ান ভেরিয়েন্ট।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. গৌতমবুদ্ধ দাশ বলেন, ‘আমরা খুব ভয়ে আছি।

এখন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটা যদি আমাদের দেশে আসে তাহলে আমাদের কিন্তু চরম ক্ষতি হবে। তৃতীয় ওয়েভ আরম্ভ হতে পারে। আমাদের এখন তৃতীয় ওয়েভ প্রতিরোধে ভারতীয় ভেরিয়েন্টকে ঠেকানোই মূল চ্যালঞ্জে হিসাবে নিতে হবে।

সংশ্লিস্টরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের মতে, মার্চ মাস থেকেই বাংলাদেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ হানা দেয়। আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মৃত্যুর হার। তবে করোনার সেকেন্ড ওয়েভে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের কোথাও ভারতীয় ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়নি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলের প্রধান প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী বলেন, যদি কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো মেইনটেইন করতে না পারি, তাহলে কিন্তু ভারতের ভ্যারিয়েন্টটা তৃতীয় ওয়েভ তৈরি করতে পারে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ভিসি প্রফেসর ড. গৌতমবুদ্ধ দাশের সার্বিক নির্দেশনায় সিভাসুর অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রাণেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. তানভীর আহমদ নিজামী এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তারা আরো কিছু বিষয় নিয়ে রাত-দিন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন। বলেছেন সরকার- জনগণ সকলকেই সতর্কতার সাথে স্থাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর বিকল্প নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সাইয়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) এক গবেষণার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা থেকে জীবন রহস্য উন্মোচন (জিনোম সিকোয়েন্স) করে এমন অনুমানের কথা বলছেন তারা।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় গত ২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ১০ জন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে জিনোম সিকোয়েন্স করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকরা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও অধিক সংখ্যক আক্রান্ত রোগীর নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা দরকার বলে জানান গবেষক দলের প্রধান ও সিভাসু’র ভিসি অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ।

গবেষণা দলে আরো ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক পরিতোষ কুমার বিশ্বাস ও অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোরশেদ হাসান সরকার ও গবেষক মো. সেলিম খান এতে সহযোগিতা করেন।

ঢাকা, ৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।