করোনায় টিউশনি হারিয়ে উদ্যোক্তা চবির তিন শিক্ষার্থী


Published: 2020-09-13 19:27:40 BdST, Updated: 2020-10-30 07:10:45 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: টিউশনি করেই লেখাপড়ার খরচ চলতো তাদের। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাস তাদের এই সামান্য আয়-রোজগারের পথেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় টিউশনিও চলে গেছে। কিন্তু টিউশনি নেই তো কি হয়েছে? থেমে থাকেননি তারা।

এবার টিউশনির চিন্তা বাদ দিয়ে হয়েছেন উদ্যোক্তা। তিন বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন টি-শার্টের ব্র্যান্ড স্টোলেন (STOLEN)। করোনাকালের লকডাউন সুযোগটাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন তারা। এই সময় বিক্রির জন্য বেছে নিয়েছেন অনলাইন প্লাটফর্ম। তবে লকডাউন শেষ হওয়ার পর ব্যবসার প্রসার আরো বেড়েছে।

এখন তাদের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে গেছে ব্যবসা। স্টোলেনকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড করে গড়ে তুলতে তারা মরিয়া। এই তিন উদ্যোক্তা হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফার্সি, সাইমুন ও নোবেল।তাদের ভাষায়, প্রডাক্টের মান এবং কমিটমেন্টের কারণে ব্যবসার প্রসার বাড়ছে। তাদের কাছ থেকে পাইকারি দামে প্রডাক্ট নিয়ে অনেকে খুচরা মার্কেটেও বিক্রি করছেন।

উদ্যোক্তরা বলেন, করোনাকালে টিউশন, পড়ালেখা সবই বন্ধ। তাই সময়টাকে কাজে লাগাতে করোনার প্রকোপ একটু কমলে ঢাকা চলে যাই। কয়েকটা বড় বড় মার্কেট ঘুরে অবশেষে ১৮০+ জিএসএম-এর প্রিমিয়াম কোয়ালিটির টি-শার্টের সন্ধান পাই।

এরপর থেকে সেসব এক কালারের টিশার্ট কিনে আমরা নিজেরা প্রিন্ট করাই। চট্টগ্রামের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও আমাদের কাছ থেকে টি-শার্ট নিয়ে বিক্রি করে। কেউ ৩০-৫০ পিস নিয়ে পরিচিতদের থেকে সেল করে নিজেরা বিজনেস করার চেষ্টা চালাচ্ছে, আবার ব্যাংকক মার্কেট, আকতারুজ্জামানের মত বড় বড় মার্কেটগুলোতেও আমাদের টিশার্ট বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা-পাইকারি মিলে প্রতি মাসে ৩-৪ হাজার টিশার্ট বিক্রি হচ্ছে।

তারা বলেন, এক কালারে ১৮০ জিএসএম-এর টিশার্ট এর কথা উঠলে তার মধ্যে স্টোলেন এর নাম থাকবেই। আবার কখনো ট্রাভেল, কখনো টিভি সিরিজ, কখনো বঙ্গবন্ধুর উক্তি দিয়ে টিশার্ট ডিজাইন করে বিক্রি করে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি।

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তারা বলেন, আমাদের মাধ্যমে ভালো কোয়ালিটি এ টিশার্ট বাজারে ছড়াচ্ছে। ফলে অনলাইন শপিং-এর ওপর মানুষের আস্থা বাড়ছে। এটা আমাদের অনেক বড় অর্জন।

পণ্যের কোয়ালিটি ভালো হওয়ায় প্রচুর রিটার্ন কাস্টমার পাচ্ছেন তারা। যদি বিক্রিত টিশার্টে কোন সমস্যা বা ত্রুটি পাচ্ছেন সঙ্গে সঙ্গে সেটা এক্সচেঞ্চ করে দিচ্ছেন।

তরুণ এই উদ্যোক্তারা বলছেন, আমাদের কাছে বিজনেসের চেয়ে মানুষের খুশিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে পারলে ব্যবসায় সফলতা আসবেই- এমন প্রত্যায় তাদের। স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তারা বলেন, একদিন STOLEN ব্র্যান্ড বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে, এটাই তাদের লক্ষ্য।

নাম স্টোলেন (STOLEN) কেনো এমন জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে সরল স্বীকারোক্তি দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন শিক্ষার্থী। করোনাকালীন সময়ে এই ব্যবসায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করলেও এর পরিকল্পনা করেন আরো দু’বছর আগে।

বলেন, ২০১৮ সালের এর দিকে ফেসবুকে টিশার্ট সেল করার বিজ্ঞাপন বাড়তে থেকে। তখনি মূলত আমরা অল্প পরিসরে নিজেরা টিশার্ট বিজনেস করার প্ল্যান করি। কিন্তু কোন ডিজাইন প্রিন্ট দেবো তা বুঝতে পারছিলাম না।

তাই গুগল ঘেটে পাওয়া ডিজাইন আইডিয়াকে রিশেইপ করে প্রিন্ট দেই। এজন্য নিজেদের পেজের নাম মজা করেই স্টোলেন রাখা হয়েছে।

শুরু দিককার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, ভার্সিটির পড়ালেখা, টিউশনের চাপে সময়ও পাওয়া যেত না। মাঝে মাঝে ৫০-১০০টা তৈরি করে বিক্রি করা হতো। তার ওপর চট্টগ্রামে ভালো কোয়ালিটির ফেব্রিক পাওয়া যায় না।

এখন ঢাকা থেকে ভালো মানের ফেব্রিকস্ এনে সেগুলোকে নিজেদরে মতো করে ডিজাইন করে মার্কেটে ছাড়ি। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়েছে। অনলাইন মার্কেটে স্টোলেনের টিশার্টের ব্যাপক কদর। স্টোলেনের ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/stolenTshirt/

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।