মেস ভাড়ার চাপে অসহায় হাজারো চবিয়ান


Published: 2020-05-14 17:58:40 BdST, Updated: 2020-05-25 15:03:14 BdST

আহমেদ জুনাইদ, চবিঃ করোনায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রায় দুইমাস আগেই ক্যাম্পাস ছেড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সকল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে গেছে টিউশন করে উপার্জন করা শিক্ষার্থীদের আয়ের পথ। কিন্তু বন্ধ হয়নি মেস ভাড়া। উপার্জনহীন এমন হাজারো চবির ব্যাচেলর এখন রীতিমতো অসহায় মেস ভাড়া চাওয়া মালিকদের কাছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার। ১১টি আবাসিক হল ও একটি হোস্টেল মিলিয়ে মোট ৫ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে ক্যাম্পাসে। সে হিসেবে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা করতে পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে হিসেবে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী শহর ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকেন।

এসব শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় বিভিন্ন টিউশন বা পার্ট টাইম জব করে নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে টিউশন ও জব বন্ধ হয়ে যায়। আয়হীন অনেক শিক্ষার্থীই পরিবার নিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন।অনেকে আবার ধার-দেনা করে এক মাসের বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করেছেন।

কিন্তু এসব কথা শুনতে নারাজ বাড়ির বা মেস মালিকরা।কেউই ছাড় দিচ্ছেন না এক মাসের ভাড়াও। তাদের কথা হচ্ছে যেহেতু তারা বাসা ভাড়া নিয়েছে না থাকলেও ভাড়া দিতে হবে।অনেক মালিক আবার ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন।তাছাড়া কিছু বাড়ির মালিকের কাছে মেস ভাড়া মওকুফ বা কমানোর দাবি জানিয়ে রীতিমতো হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী কে।

চবির আইন ও শিক্ষা অনুষদের চতুর্থ বর্ষের মিজানুর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের মেসের ১১ জন মেম্বারের প্রায় সকলেই টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন।বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তাই টিউশন ও বন্ধ।কিন্তু বন্ধের পরে প্রথম মাস থেকেই বাড়ির মালিক ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।

আমরা ভাড়া একটু কমানোর জন্য বললে উনি খুব বাজে ব্যাবহার করেন। তাছাড়া ভাড়া দিতে না পারলে দুই মাসের পুরো ভাড়া পরিশোধ করে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন।এই মূহুর্তে নিজের পরিবার কে নিয়ে চলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই মেস ভাড়া পরিশোধ করা একপ্রকার অসম্ভব।

সানজিদা শ্রাবণী নামক অন্য আরেকজন শিক্ষার্থী ফেইসবুকে অভিযোগ করে জানান তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। তার বাসার মালিক তাকে ২-৩ দিনের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে বললে উনি অপারগতা প্রকাশ করে ক্যাম্পাস খুললে দিবে বলে জানান। তখন বাড়ির মালিক তার সাথে বিশ্রী ব্যাবহার করে এবং হুমকি প্রদর্শন করেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, মেসগুলো সম্পূর্ণ ব্যাক্তিমালিকানাধীন। তাই আমাদের বেশি কিছু করার ও থাকে না।

তারপরও আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন কটেজ মালিকদের সাথে কথা বলছি।আশা করছি একটা সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে আসতে পারবো।আর এরপর চট্টগ্রাম বাড়ি মালিক সমিতির সাথে বসবো।কিছু ভাড়া মওকুফ হয়ে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব হোক তা আমরাও চাই।

যদিও এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. শিরিন আখতার ব্যাচেলরদের ভাড়া মওকুফে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান ব্যাক্তিমালিকানাধীন বাড়িগুলোতে আমাদের কিছুই করার নেই।

ঢাকা, ১৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।