করোনা উপসর্গে বাবার মৃত্যু, শেষকৃত্যে এসেই চম্পট চবি ছাত্রের!


Published: 2020-05-12 01:22:32 BdST, Updated: 2020-09-20 00:16:12 BdST

নড়াইল লাইভ : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে দীপ রায়। সিকিউরিটি গার্ড বাবা অতিকষ্টে তাকে পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন। টানাটানির সংসারে ছেলেকে বড় করতে গিয়ে সয়েছেন লাঞ্ছনা। সেই বাবার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে আসতে গড়িমসি করেছেন আদরের ছেলে দীপ। কারণটা হলো তার করোনা উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়ে শুধু ছেলে দীপ নয় পরিবারের কেউই আসেনি শেষকৃত্যে। তবে প্রশাসনের চাপের মুখে ক্ষণিকের জন্য এলেও কোনমতে মুখাগ্নি করে লাপাত্তা হয়ে গেছেন দীপ। পরে বাধ্য হয়েই প্রশাসনের লোকেরা ওই সিকিউরিটি গার্ড বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরীর মরদেহ সৎকার করেছেন।

জানা গেছে, হিন্দুরীতিতে বাবার শেষকৃত্যে মুখাগ্নি করার কথা ছেলের, সেই ছেলেকে আনতে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ঘাম ঝরাতে হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চাপে বাধ্য হয়ে এসে কোনরকমে দুর থেকে আগুন দিয়েই ছুটে পালিয়ে যান দীপ। পরিবারের কাউকে এমনকি আপনজনেরাও সেখানে আসেনি। নিরূপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে মরদেহ সৎকার করেন। এ ঘটনায় কালিয়া সহ নড়াইলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী ঢাকাতে একটি সিউিরিটি গার্ড কোম্পানীতে কর্মরত। করোনা উপসর্গ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৩-৪ দিন আগে গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চোরখালি গ্রামে আসেন। গ্রামের বাড়িতে শনিবার রাতে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে মৃতের নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুদা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল মল্লিকসহ কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নমুনা সংগ্রহের পর সৎকার করতে বললে ভয়ে তার পরিবারের কেউ এগিয়ে আসেনি। এমন অবস্থায় স্থানীয় সাংবাদিক ও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে শেষকৃত্য পালন করেছেন ইউএনও।

কালিয়ার ইউএনও নাজমুল হুদা বলেন, এমন অবস্থায় পড়তে হবে কখনো ভাবিনি। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে মরদেহ সৎকারে কেউ সহযোগিতা করেননি। বাবার সৎকারে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের এই আচরণ, ভাই পরিবারের লোকের আচরণ আমাকে কষ্ট দিয়েছে।

ঢাকা, ১২ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।