ববিতে আমরণ অনশনে ৪ শিক্ষকসহ ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ


Published: 2019-04-26 17:23:12 BdST, Updated: 2019-09-16 12:53:07 BdST

ববি লাইভ: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন কর্মসূচির তৃতীয় দিনে ৪ শিক্ষকসহ ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হকের অপসারণ দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। অনশনে অসুস্থ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার খবর পেয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেনের নেতৃত্বে চিকিৎসকের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তারা অসুস্থদের খোঁজখবর নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, বুধবার সকাল ১০টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যলেয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অনশন শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাতে অনশনে যোগ দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ জন।

অনশনরত শিক্ষকরা হলেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া, সহ-সভাপতি সরদার কায়সার আহমেদ, বাংলা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সঞ্জয় সরকার, ইংরেজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মিজানুর রহমান ও ইলিয়াস মাহমুদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিম সালেহী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রায় সকলেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে মারুফ, রাশেদ ও আনোয়ারকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অনশনরত প্রায় সকলেরই বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা চলছে। স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।

আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীরা বলেন, শারীরিক এবং পড়াশোনার ক্ষতি জেনেও ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হকের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ৮ হাজার শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একজন স্বৈরাচারী ভিসির কাছে জিম্মি হয়ে থাকবেন, তা মেনে নেয়া যায় না।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করার পরও ভিসি পদত্যাগ করেননি, হয়নি অপসারণও। আর এ কারণে আমরণ অনশনের এই কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন তারা। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনের বিষয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, এক মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও যৌক্তিক। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির উচিৎ দ্রুত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির সদস্য বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস বলেন, ভিসি ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তার অবশিষ্ট মেয়াদ অর্থাৎ ২৭ মে পর্যন্ত একটি ছুটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আবেদনটি অগ্রগামী করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু এটা বুঝতে চাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

 

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।