কি হবে মহাকাশ স্টেশনের শেষ পরিণতি


Published: 2019-10-29 18:00:25 BdST, Updated: 2019-11-17 10:14:30 BdST

আইটি লাইভ: মহাকাশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিকল্প নেই। মহাকাশ স্টেশনের শক্তির মূল উৎসই হচ্ছে সৌরশক্তি। ওই শক্তি ব্যয় করে মহাকাশ স্টেশনটি প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবীর কক্ষপথে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন কোন একদিন ওই স্টেশনটিকে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলা হবে। সেটাই যে তার অনিবার্য পরিণতি!

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যে মহাকাশ স্টেশনকে অবলম্বন করে চলছে মহাকাশ গবেষণা সেটির বয়স কমপক্ষে দু’দশকেরও বেশি সময় হয়েছে। মহাকাশ গবেষণায় স্টেশনটি গড়ে দিল সভ্যতার এক উজ্জ্বল ইতিহাস। তবে খুব বেশি দিন আর নেই, যে দিন সলিলসমাধি ঘটবে আন্তর্জাতিক ফুটবল মাঠের চেহারার এ মহাকাশ স্টেশনটির।

জানা গেছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে পৃথিবীর কক্ষপথে চাঁদ-মুলুকে আস্তানা গাড়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নাসা। এ বার চাঁদের কক্ষপথে আস্তানা বানাবে। ‘লুনার স্টেশন’। প্রকল্পের নাম ‘আর্টেমিস’।

এই দৈত্যাকার মহাকাশ স্টেশন গড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আটের দশকে। লক্ষ্য, বাতাসহীন প্রায় শূন্য অভিকর্ষ বলে (মাইক্রোগ্র্যাভিটি) বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা, গবেষণা। স্টেশনটি স্থাপন করতে একযুগে কাজ করবে আমেরিকাসহ আরও তিনটি দেশ। এছাড়াও রাশিয়া (তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন), জাপান ও কানাডা হাত মেলাবে সেই স্টেশন বানানোর জন্য। সঙ্গে থাকবে ইউরোপ মহাদেশের মহাকাশ সংস্থা ‘ইসা’।

মহাকাশ স্টেশনে চলছে অণুজীব নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা

 

দিনটি ছিল ২০০০ সালের ২ নভেম্বর। মহাকাশে গবেষণা চালানোর জন্য রওনা হলেন তিন মহাকাশচারী। দু’জন রুশ, এক জন মার্কিন। ইউরি গিদজেন্‌কো, সের্গেই ক্রিকালেভ ও বিল শেফার্ড।

মহাকাশে গড়ে তোলা হলো গবেষণাগার। সেটা বানালো আমেরিকা। নাম, ‘ডেস্টিনি’। মহাকাশ স্টেশনে তা পাঠানো হল ২০০১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। ‘ডেস্টিনি’ এখনও আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে মার্কিন মহাকাশ গবেষণার ‘ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট ডেস্টিনেশন’। পরে সেখানেই আমেরিকা গড়ে তুলেছে মহাকাশে তাদের জাতীয় গ্রন্থাগারটি।

এরপর থেকেই ‘ফুলে ফুলে পল্লবিত’ হয়ে উঠতে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। গবেষণাগায় হাত লাগান ইসা। যার নাম দেয়া হয় ‘কলম্বাস’। ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারিতে গড়ে তোলা হয় জাপানের গবেষণাগার। ‘কিবো’।

নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির (জেপিএল) সিনিয়র সায়েন্টিস্ট গৌতম চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, শুধুই প্রোটিন নয়, অণুজীব, ক্যানসার-সহ বিভিন্ন রোগ আমাদের দেহে কী ভাবে জন্মায় ও ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে ও হচ্ছে মহাকাশ কেন্দ্র, গত দু’দশক ধরে। মাইক্রোগ্র্যাভিটিই ওই সব গবেষণার আদর্শ পরিবেশ। যেখানে বায়ুমণ্ডল নেই। নেই পৃথিবীর জোরালো অভিকর্ষ বলও।

নাসার লক্ষ্য এখন চাঁদে আস্তানা গড়ে তোলা। চাঁদে ফের মানুষ নামানো। চাঁদের বুকে কিছু দিন ধরে মানুষকে রাখা। মঙ্গলে পাকাপাকি ভাবে সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তুলতে হলে চাঁদই হবে আমাদের সেরা গবেষণাগার। তাই নাসা এখন আস্তানা গড়ে তুলতে চাইছে চাঁদের কক্ষপথে। সেটাই নাসার ‘আর্টেমিস’ প্রকল্প। ফলে, মহাকাশ কেন্দ্রের পিছনে অর্থ ব্যয় আর করতে চাইছে না নাসা।

মহাকাশ স্টেশনে চলছে অণুজীব নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা

ইসরোও জানিয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ভারতের মহাকাশ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। মহাকাশ কেন্দ্র পৃথিবীকে এই প্রদক্ষিণ করে চলতেই পারে, অন়ন্ত কাল ধরে। তবে তাতে অন্য মহাকাশযান পাঠাতে অসুবিধা হতে পারে। তাই তাকে অবশ্যই হবে ২০৩০-এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরেই নামিয়ে ফেলা হবে। তত দিনে চাঁদের কক্ষপথে শক্তভাবে আস্তানা (আর্টেমিস) গড়ে তুলতে পারবে নাসা।


ঢাকা, ২৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।