কোয়ারেন্টাইনে যা পান করতে পারেন


Published: 2020-03-30 15:38:02 BdST, Updated: 2020-07-06 23:51:28 BdST

 

লাইভ প্রতিবেদক: প্রাণঘাতি ভাইরাস। এই কোভিড ১৯ আতঙ্কে দুনিয়াবাসী। দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ। যদি একবার ধরে! তবে কি করবেন। ভাববেন না। সাহস রাখবেন। মনোবলকে রাখতেহবে চাঙ্গা। গোটা বিশ্বই এখন অদ্ভুত এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। অনেক দেশে আবার ভাইরাসটির সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব এবং সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকলে এই ভাইরোসের সংক্রমণ এড়ানো অনেকটাই সম্ভব। যেহেতু এখন ঋতু পরিবর্তনের সময় তাই এমনিতেই অনেকে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হতে পারেন। এ কারণে এই গরমে সুস্থ থাকতে হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেক্ষেত্রে বাড়িতে তৈরি কিছু পানীয় খেতে পারেন। এতে একদিকে যেমন শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হবে। অন্যদিকে সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় আপনি সেবন করতে পারেন যা তাই তুলে ধরা হচ্ছে। সর্দি, কাশি, সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হজমের জন্য বিভিন্ন ধরনের মসলা যেমন- দারুচিনি, এলাচ, জিরা, গোল মরিচ, হলুদ, লবঙ্গ ইত্যাদি দারুণ উপকারী। এ গুলো দিয়ে বিভিন্ন পানীয় তৈরি করতে পারেন। যেমন-

আদা চার সঙ্গে গোলমরিচ: আদাতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ফ্লু, মাথা ব্যথা এবং পিরিয়ডকালীন পেটব্যথার জন্য দারুণ উপকারী। এ ছাড়া গোলমরিচে থাকা নানা উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ কারণে আদা চায়ের সঙ্গে নিয়মিত গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

গ্রিন টি: সবারই জানা গ্রিন চায়ের গুণাগুণের কথা । এতে কোনো ধরনের ক্যালরি থাকে না। চিনি এবং দুধ ছাড়া এই চা নিয়মিত পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

মধু এবং লেবুর মিশ্রণ : মধুতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অন্যদিকে লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এটিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। হালকা গরম পানীতে নিয়মিত লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

হলুদ পানি: এটিতে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকায় হলুদের জনপ্রিয়তা গোটা বিশ্বে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিকেল প্রতিরোধ করে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হলুদে শরীরের জন্য উপকারী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদানও পাওয়া যায়। যেভাবে তৈরি করবেন পানীয়টি। তেমন কোন জটিল কাজ নয়।

নিজেই বা কারো সাহায্যে প্রথমে এক কাপ পানি ফুটিয়ে নিন। এরপর এতে এক চামচ হলুদ এবং আধা চামচ লেবুর রস যোগ করুন। ভালভাবে মিশ্রণটি ফুটতে দিন। নামানোর আগে এতে সামান্য মধু যোগ করুন। নিয়মিত এই পানীয় পানে শরীর ডিটক্সিফাই হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে হাতের সুরক্ষা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

হাতের সুরক্ষা

 

হাতের সুরক্ষা করবেন যেভাবে:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও বারবার হাত ধোয়ার ওপর জোর দেওয়া দিচ্ছে। সাধারণত জীবাণু দূর করতে সময়মতো সাবান-পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাতের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হাতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বারবার হাত ধোয়া উচিত। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি কাজের পর অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

যেমন-
১. বাথরুম থেকে বেরোনোর পর

২. কোনও অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার আগে এবং পরে

৩. খাবার প্রস্তুত করার আগে এবং পরে

৪. কাঁচা মাংস, ডিম বা মৎস্য জাতীয় খাবারগুলিতে হাত দেওয়ার পর

৫. হাত চিটচিটে বা নোংরা হওয়ার পর
হাত ধোয়ার সময় বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এজন্য প্রথমে হাত পানিতে ভেজাতে হবে।  এরপর সাবান ব্যবহার করে দুই হাত ভালোভাবে ঘষতে হবে। সব আঙুল, নখ, কব্জি, আঙুলের ডগা এবং হাতের পিছনের অংশ ভাল করে ঘষতে হবে।

এরপর, হাত ভাল করে ধুয়ে পেপার টাওয়েল দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চেয়ে সাবান পানি কার্যকর হলেও জীবাণু পরিষ্কারে অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যাবে।

তবে সেক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। এজন্য হাতে সঠিক পরিমাণে স্যানিটাইজার নিয়ে আঙ্গুল, তালু, কব্জি, হাতের পিছন দিক এবং আঙুলের ডগা ভালভাবে ঘষতে হবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত না হাত শুকনো হচ্ছে ততক্ষণ ঘষতে থাকুন। মনে রাখবেন, স্যানিটাইজার ব্যবহারের পর হাত ধোওয়া কিংবা তোয়ালে দিয়ে মোছা যাবে না।

ঢাকা, ৩০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।