কর্মক্ষেত্রে যেভাবে প্রতিরোধ করবেন কভিড-১৯


Published: 2020-03-28 11:40:33 BdST, Updated: 2020-05-31 12:04:04 BdST

মোঃ বিল্লাল হোসেনঃ করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারন করেছে। সারা বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরুপ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশেও আক্রান্ত হতে শুরু করেছে আস্তে আস্তে। এই পরিস্থিতিতেও আমাদের অফিস বা কর্মক্ষেত্রে যেতে হয় কাজের জন্য। কিন্তু কর্মক্ষেত্র যদি নিরাপদ না হয় তাহলে তো কাজ করা সম্ভব নয়।

সুতরাং আমাদের সকলের জানা উচিত কিভাবে আমরা আমাদের কর্মক্ষেত্র কভিড-১৯ মুক্ত রাখতে পারি। প্রথমেই জেনে নেই কিভাবে কভিড-১৯ ছড়ায়। এই ভাইরাসটি মূলত কেউ যদি কভিড-১৯ আক্রান্ত হন এবং তাহলে তার কফ বা থুথুতেও এই ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়। যখন তিনি হাঁচি বা কাঁশি দেন তখন এই তরল পদার্থটি অফিসের ডেস্ক, টেবিল বা টেলিফোনের উপর পড়ে। এবং সহজেই অন্য যে কোন ব্যক্তি ঐ জায়গা গুলোর সংস্পর্শে আসা মাত্রই কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন।

অর্থাৎ এই ভাইরাসটি খুব সহজেই এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক অফিসে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে-

১. কর্মক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যেমন অফিসের টেবিল, ডেস্ক, টেলিফোন, কম্পিউটার, কি বোর্ড ইত্যাদি জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করা। সেক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতা এবং সেবা দাতা দুজনেরই সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

২. অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, কাস্টমার এবং অন্যান্য আগন্তুুক ব্যক্তিদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অনুশীলন করানো এবং অফিসে ঢোকার আগেই সবাই যেন হাত ধুয়ে অফিসে ঢোকে সেটিও নিশ্চিত করা। অর্থাৎ অফিসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

৩. মুখে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা বিশেষ করে যাদের সর্দি, কাশি এবং হাঁচি হয় তারা অবশ্যই মুখে মাস্ক পরিধার করে অফিসে ঢুকবেন। সবসময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং যথাযথ জায়গায় ফেলা যাতে অন্য কেউ সেটা থেকে সংক্রমিত না হয়।

৪. ব্যবসায়িক ভ্রমনের পূর্বে কর্মকর্তা এবং কন্ট্রাকটরদের জাতীয় ভ্রমন নীতিমালা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করুন।

৫. কর্মক্ষেত্রে করমর্দন, কোলাকুলী ইত্যাদি পরিহার করুন। হাঁচি বা কাশির সময় রুমাল, টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ঢাকুন। যদি সম্ভব হয় মোটামুটি ১ মিটার দুরত্বে প্রত্যেকের বসার ব্যবস্থা করুন।

৬. যদি কারো সর্দি কাশি বা হালকা জ¦র থাকে তাহলে কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং কন্ট্রাকটরদের বাড়িতে থাকার (হোম কোয়ারেন্টিন) পরামর্শ দিন। অফিসের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কভিড-১৯ সম্পর্কিত তথ্য সম্বলিত পোস্টার বা ব্যানার প্রদর্শনের ব্যবস্থা করুন।

৭. সম্ভব হলে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অফিসিয়াল মিটিং সম্পন্ন করুন।

এছাড়াও প্রত্যেক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং অফিসের সকলের উচিত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। তাহলে খুব সহজেই আমরা কভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পারবো। তাই আসুন নিজে সচেতন হই অন্যকে সচেতন হতে সাহায্য করি। সচেতনতাই কভিড-১৯ থেকে মুক্তির সর্বোত্তম উপায়।

লেখকঃ মোঃ বিল্লাল হোসেন
শিক্ষার্থী, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ
জীববিজ্ঞান অনুষদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

ঢাকা, ২৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।