কেন খাবেন ফুলকপি...?


Published: 2019-11-21 15:52:35 BdST, Updated: 2019-12-06 07:20:34 BdST

বিল্লাল হোসেনঃ ফুলকপি একটি শীতকালীন সবজি। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলোতেই ফুলকপি পাওয়া যায়। প্রায় সব বয়সী মানুষের খাবারের তালিকার উপরের দিকে রয়েছে ফুলকপি। যেমন পুষ্টিগুনে ভরপুর ফুলকপি তেমনভাবে সহজলভ্য এই সবজিটি।

আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ফুলকপির পুষ্টিগুন সম্পর্কে। ফুলকপির পুষ্টি উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশিপাওয়া যায় ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিনসি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ইত্যাদি। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুরপরিমানে ফাইটোকেমিক্যালস

যেমন গ্লুকোসিনোলেটস, থায়োসিনোলেটস, সালরাপেন, কোয়েরসিটিন, পাইরোগ্যালোল, ভ্যানিলিক এসিড, কোমারিক এসিড, ক্যামফেরিক এসিড, প্রোটোক্যাপ্রিচোয়িক এসিড, ফ্লাভেনোয়িডস, ক্যারোটিনোয়িডস ইত্যাদি। ফুলকপি আমাদের দেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক ফুলকপির রোগ প্রতিরোধী গুন সম্পর্কে-

ক্যান্সার প্রতিরোধে:
ফুলকপি ক্যান্সারের সৃষ্টিকারী পদার্থ অর্থাৎকারসিনোজেন এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সক্ষম। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফাইটোকেমিক্যালস যেমন গ্লুকোসিনোলেটস, থায়োসিনোলেটস, সালরাপেন যা স্তন ক্যান্সার, কোলন ও মূত্র থলির ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হৃদরোগ প্রতিরোধে:
ফুলকপিতে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল এর পরিমান নেই বললেই চলে। তাইএটি হৃদরোগীদের জন্য খুবই উপকারী এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে ফুলকপি।

ফুসফুস প্রতিরক্ষায়:
ফুলকপি খাওয়ার একটি অন্যতম উপকারিতা হল ফুসফুস রক্ষা করা। ফুসফুস রোগ বৃদ্ধির জন্য দায়ী ভয়াবহ জীবাণুগুলো ফুলকপি খাওয়ার মাধ্যমে সহজেই ধ্বংস করা যায়। তাই ফুসফুস ভালো রাখতে ফুলকপি খেতে ভুলবেন না।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে:
শীতের সুস্বাদু সবজি ফুলকপির আরো একটি অন্যতম গুণের একটি হল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।ফুলকপিতে কোলেস্টেরল এরপরিমান শুন্য। তাই যারা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন, তারা ফুলকপি খাবারের তালিকায় রাখতে দ্বিধা করবেন না।এছাড়া পরিমিত এতে পরিমিত পরিমানে সোডিয়াম ও পটাসিয়াম থাকায় উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী।

খনিজ ও ভিটামিনের অন্যতম উৎস:
ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, প্রোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার ভিটামিন বি৬, ফলেট, পটাশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। যা কিনা মানব শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।

মস্তিষ্ক ভালো রাখতে:
ফুলকপিতে বিদ্যমান ভিটামিন বি উপাদান মস্তিষ্ক ভালো রাখতে ভীষণ উপকারী। বিশেষ করে যদি গর্ভবতী মায়েরা নিয়ম করে ফুলকপি গ্রহণ করেন, তাহলে নবজাতকের মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ বিকাশ সাধন ঘটে।

বাড়তি ওজন কমাতে:
ফুলকপিতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার বা আঁশ যা শরীরের বাড়তি মেদ কমিয়ে শরীরকে একটি সুন্দর গঠনে আনতে সাহায্য করে। যারা তাদের শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত ও ডায়েট করার কথা ভাবছেন তারা নির্দ্বিধায় ডায়েট লিস্টে ফুলকপির নাম অন্তর্ভুক্ত করতেপারেন।

হজমে সাহায্যকারী:
ফুলকপির উচ্চ ফাইবার উপাদান খাদ্য হজম প্রক্রিয়াতে খুব সহায়ক। যদি শীতের এই সময়টাতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সামান্য করে হলেও ফুলকপির কোন পদ রাখা যায়, তাহলে খাবারে হজম নিয়ে কোন সমস্যায় পড়তে হবেনা।

কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধে:
ফুলকপিতে উপস্থিত ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সুতরাংযারা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগছেন তারা এই শীতকালে নিয়মিত ফুলকপি খাবেন।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রচুর শীতকালিন সবজি রাখা বিশেষ করে ফুলকপি। তাহলে আমরা আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চি করতে পারবো।

লেখক:
মোঃবিল্লাল হোসেন
শিক্ষার্থী, ফলিতপুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
ই-মেইলঃ billalanftiu@gmail.com

ঢাকা, ২১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।