ঘুরে এলাম খুলনা শিপইয়ার্ড...


Published: 2019-11-06 19:58:15 BdST, Updated: 2019-11-17 03:37:02 BdST

জকির হোসেন রাজুঃ দেশের প্রথম যুদ্ধ জাহাজ তৈরী করলো কারা? আধুনিক সব যুদ্ধ জাহাজ তৈরী করছে কোন প্রতিষ্ঠান? বড় লোকশানের খাতা পায়ে ঠেলে কারা দেশের সব থেকে বেশি করদাতা প্রতিষ্ঠানের রুপ নিয়েছে?

হ্যা এই সব কিছুর উত্তর "খুলনা শিপইয়ার্ড"। গতকাল ঘুরে দেখলাম দেশের সবথেকে বিখ্যাত শিপইয়ার্ড, খুলনার রূপবতী নদী রুপসার অপরুপ সৌন্দর্যকে বুকে লালন করে গড়ে ওঠা "খুলনা শিপইয়ার্ড"।

দেখলাম এর ডক ভবন থেকে মেশিন রুম আর যুদ্ধ জাহাজ তৈরী থেকে ফেরী তৈরীর টুংটাং শব্দে আর ঝালাইয়ের ঝিলিক দেয়া আলোকায়ন। অনুমতি নিয়ে ভিতরে যেতেই পড়বে এক মনোরম পরিবেশ, দেখতে পাবেন দেশের প্রথম তৈরী যুদ্ধ জাহাজের রেপ্লিকা, উন্মুক্ত জাহাজ হস্তান্তর মঞ্চ। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অতি সুন্দর পরিবেশে বেশ ভালোই শুরু হবে আপনার ঘুরে বেড়ানোর এই শিপইয়ার্ড।

ভ্রমনকালীন দৃশ্য

 

এবার একটু ইতিহাস ঘাটি, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তৎকালীন পাকিস্তান ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (পিআইডিসি) খুলনায় একটি শিপইয়ার্ড নির্মাণের জন্য পশ্চিম জার্মানির মেসার্স স্টাকেন শন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিযুক্ত করে।

১৯৫৪ সালে নির্মাণকাজ শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৭ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে উৎপাদনে যায়। সে সময় রূপসা নদীর প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা ও গভীরতাকে বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ ৭০০ টন লাইট ওয়েট বা আড়াই হাজার টন কার্গো ধারণসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের সুযোগ-সুবিধাসহ এটি নির্মিত হয়।

খুলনা শিপইয়ার্ড

 

উৎপাদনের শুরু থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা এবং পরে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জার্মান এবং ব্রিটিশ ব্যবস্থাপনায় শিপইয়ার্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর একই বছর ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (ইপিআইডিসি) প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। আর স্বাধীনতার পর এটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (বিএসইসি)।

প্রথম দিকে মোটামুটি সফলভাবে পরিচালিত হলেও আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটির সফলতার হার নিম্নগামী হতে থাকে। নব্বই দশকে এসে যা লোকসানের ভারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

তৈরী হচ্ছে জাহাজ

 

এ অবস্থায় তৎকালীন বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারর ক্ষমতায় এসে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ১৯৯৯ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। এর পর থেকে নতুন পথে চলতে শুরু করে খুলনা শিপইয়ার্ড,২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ছিল ৪০ কোটি টাকারও বেশি।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা প্রায় ৪৮ কোটিতে পৌঁছায়। কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী অর্থবছরে এই মুনাফা উত্তর উত্তর ছাড়িয়ে যাবে। এ ছাড়া সর্বশেষ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৬ কোটি টাকা আয়কর দিয়ে খুলনা অঞ্চলের সর্বোচ্চ আয়করদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করে। এর আগের দুই অর্থবছরেও তারা এ স্বীকৃতি পেয়েছে। গত ১৪ বছরে ইয়ার্ডের বার্ষিক লেনদেন বেড়েছে ১৫ গুণ।

ঘাটে থাকা জাহাজ

 

আনামুল ভাই কাজ করছে যুদ্ধজাহাজ "মেঘনা" তে, ঘুরে ঘুরে দেখলেন সকল ওয়ার্কশপসহ অন্যান্য এলাকা, দেখালেন কিভাবে একটা ২৫০০ টন জাহাজ কে নদী থেকে ওয়ার্কশপ পর্যন্ত টেনে আনা হয়, কিভাবে জাহাজের প্লেট তৈরী করা হয়, যেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি যার অনেকাংশই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। দেখলাম মেশিন ফিটিংস এর কারখানা,
ছোট বড় নানান ধরনের, রকমের, শক্তির, সাইজের জাহাজ, ফেরী ও অন্যান্য নৌযান।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্ডারে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এলাকা ঘুরতে ঘুরতে বেলা শেষে গোধুলীর আগমন হয়েছে, দূর থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আজানের ধ্বনি, আজ ফিরতে হবে, আমায় যেতে হবে অনেকদূর।

সবার শেষে দেখা হয়ে গেল সদ্য হস্তান্তরকৃত MC GULF JUPITER নামে বিশাল একটি কারগো জাহাজ, রুপসা নদীতে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সাগর কেটে চলার অপেক্ষায়।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া এবং দৃশ্যমান অভিজ্ঞতা।

জকির হোসেন রাজু
সাব ইনেস্পেক্টর, বাংলাদেশ পুলিশ

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।