যে কারণে শাবিতে শিক্ষার্থী-সিএনজি চালক সংঘর্ষ


Published: 2017-11-06 19:03:12 BdST, Updated: 2017-11-24 06:12:51 BdST

 

শাবি লাইভ: ‘সিএনজি সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের’ প্রতিবাদ করায় সিএনজি চালকদের হামলার আহত হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছে। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। টান টান উত্তেজনায় সময় কাটছে পুরো এলাকায়।

শাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে শাবি ছাত্রলীগ সব সময়ই পাশে আছে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

জানাগেছে বেশ কিছুদিন ধরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে নিজেদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ক্রমাগতভাবে নানান আলোচনা চলছিল। কিন্তু বিষয়টি সুরাহা হয়নি। ফলে ক্রমেই বাড়তে থাকে ক্ষোভ।

ছিনতাই ও নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ পরান হলের সহকারী প্রভোষ্ট আশিষকুমার বণিক, দুজন শিক্ষার্থী ও এক কনস্টেবলসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বন্দর- তেমুখী ও আম্বরখানা- তেমুখী রোডে গত বেশ কয়েক দিনে ৫০/৫৫টিরও বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে সিএনজিতে ওঠার পর অস্ত্রের মুখে ছিনতাইসহ চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বেশক’টি। এসব কাজে অটোরিকশাচালকরা জড়িত বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

তবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় প্রতিবাদে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। এতে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। এলাকায় চলে উতোতজনা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম স্বপন পরিদর্শন করেন।

অবরোধকারীরা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিলে সে মুহূর্তে একটি প্রাইভেটকার বেপরোয়া গতিতে অবরোধস্থলে আসে।

শিক্ষার্থীরা প্রাইভেটকারটিকে ভাঙচুর করতে উদ্যত হলে সিএনজি শ্রমিকরা সংঘবদ্ধভাবে রড, লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রসাজে সজ্জিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।

পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শাহ পরান হলের সহকারী প্রভোস্ট প্রভাষক আশিষকুমার বণিক, কনস্টেবল সোহেল রানা, শিক্ষার্থী বাু, রাসেল, আল আমিন, তৌহিদ আলমসহ দুজন সিএনজি শ্রমিক আহত হন।

প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, শেষ মুহূর্তে এসে সিএনজি চালকরা এসে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

তবে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন টুকেরবাজার ইউনিয়নের সদস্য গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ছিনতাইয়ের বিষয়ে প্রশাসন বরাবর অভিযোগ জানালেও তারা খুব একটা গুরুত্ব না দেয়ায় এ ঘটনা এতদূর গড়িয়েছে।

অন্যদিকে নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনে সিএনজি শ্রমিকদের উসকানিমূলক হামলার ঘটনায় নিন্দা ও আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শাবি শাখা।

 

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।