এমসি কলেজ হলে ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের


Published: 2020-09-26 02:01:07 BdST, Updated: 2020-10-30 07:05:26 BdST

সিলেট লাইভ: এবার ছাত্রলীগ কর্মীরা এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেধে রেখে ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় গোটা শহরে তোলপাড় চলছে। এনিয়ে আলোচনা আর সমালোচনা চলছে। সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে এই নিষ্টুর ঘটনাটি ঘটে।

এঘটনায় শনিবার ওই ৬ নেতাকর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, এম সাইফুর রহমান, অর্জুন এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল এবং তারেক আহমদ। তাদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি দিরাইয়ে, মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে, রনি হবিগঞ্জের এবং তারেক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা।

এলাকাবাসী জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুরুতর অবস্থায় ওই ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় সিলেটে তোলপাড় চলছে। মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশ অভিযানে থাকলেও কোনো ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিস্টরা।

এলাকাবাসী জানায়- শুক্রবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসেন এক দম্পত্তি। রাত ৯ টায় কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী স্বামীকে মারধোর করে স্ত্রীকে ছিনিয়ে ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। পরে স্ত্রীর পিছু পিছু স্বামী ছাত্রাবাসে পৌছলে তাকে রশি দিয়ে বেধে ফেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

এক পর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে আসা ওই বধুকে ৫-৬ জন ছাত্রলীগ কর্মী পালাক্রমে ধর্ষন করে। এক পর্যায়ে ওই মহিলাকে ফেলে রেখে তারা বীরদর্পে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌছলে ছাত্রলীগ কর্মীরা পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছেন।

আর এদিকে- গুরুতর অবস্থায় ওই বধুকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। স্ত্রীর সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন স্বামী। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জ্যোর্তিময় সরকার জানিয়েছেন- পুলিশ গিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে ছাত্রী নিবাস থেকে উদ্ধার করে।

এরপর স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- নব নির্মিত ওই ছাত্রী নিবাসটি ফাঁকা রয়েছে। এ কারণে সেখানে বখাটেরা রাতে আড্ডা দিতো।

এলাকাবাসী জানায় ধর্ষক ছাত্রলীগ কর্মীরা টিলাগড়ের রঞ্জিত গ্রুপের সদস্য। এরা ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা করোনাকালে ফাকা হোস্টেলে আড্ডার পাশাপাশি মাদক সেবন করতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আরো জানা যায়- এ নিয়ে বার বার অভিযোগ জানালেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তাদের অবহেলার কারণে নানান অপকর্ম হতো ওই নির্মানাধীন ভবনে।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।