নওমুসলিম বয়ফ্রেন্ড, ডেটিংয়ের পর লাশ হলেন ছাত্রী!


Published: 2019-07-12 13:30:44 BdST, Updated: 2019-09-16 06:56:32 BdST

মৌলভীবাজার লাইভ : ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের কারণে হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছেন আবদুল আজিজ। এর আগে তার নাম ছিল লিটন দাস। প্রেমের সম্পর্ক চলার একপর্যায়ে মুসলমান হন তিনি। বিষয়টি গোপন থাকলেও রুম ডেটিংয়ে ধরা খাওয়ার পর সবকিছু পাল্টে গেছে। লাশ হয়েছে ওই ছাত্রী। নওমুসলিম বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে রুম ডেটিংয়ের খবর জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর লাশ হয়েছে ওই ছাত্রী। তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন ওই ছাত্রী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। তবে এলাকাবাসী সন্দেহ করছেন তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ওই ছাত্রীর লাশ দাফন করেছেন। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এর পেছনে পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ৮ম শ্রেণির ওই ছাত্রী কুলসুমা বেগম তসলিমার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন কুলসুমা বেগম তাসলিমা। গত ০৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলড্রেস পরে তাসলিমা বরমচাল রেলস্টেশন সংলগ্ন কালামিয়ার বাজারের একটি বাসায় বয়ফ্রেন্ড নওমুসলিম আব্দুল আজিজের সাথে দেখা করতে যায়। বিষয়টি বাজারবাসীর সন্দেহ হলে গ্রামপুলিশ কয়ছর মিয়াসহ ব্যবসায়ীরা ওই বাসায় যান। বাসায় গিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা গ্রামপুলিশ কয়ছর মিয়াকে দিয়ে তাসলিমাকে মহলাল (রফিনগর) গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

মহলাল (রফিনগর) গ্রামের লোকজন জানান, সকালের ঘটনার পর বিকাল আনুমানিক ৫টায় একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির লোকজন তাসলিমাকে নিয়ে বেরিয়ে যান। রাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আবার ফেরৎ আসেন। আসার পর এলাকার মানুষকে জানান, তাসলিমার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে তাসলিমা।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া এবং পুলিশকে অবহিত না করে তাসলিমার লাশ দাফন করা হয়। তাসলিমার গালে আচড় এবং গলায় আঙ্গুল দেবে যাওয়ার চিহ্ন সুস্পষ্ট ছিল। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

নওমুলিম আব্দুল আজিজ (মুসলিম হওয়ার আগের নাম লিটন দাস) এর সাথে দেখা করা প্রসঙ্গে জানান, তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রী। কাজের সুবাদে তাসলিমাদের বাড়িতে যাতায়াত এবং ঘনিষ্টতা। সেই সুবাদে গত ২ বছর থেকে তাসলিমার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আব্দুল আজিজের সাথে ক্রমে তাসলিমাদের পরিবারের সদস্যদের সখ্যতা গড়ে উঠে। তাসলিমার প্রেমে আসক্ত আব্দুল আজিজ ৬ মাস আগে অর্থাৎ গত মাঘ মাসে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হন। তাসলিমার মা মারা যাওয়ার আগে ৪দিন উনার সাথে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সার্বক্ষণিক ছিলেন। তাসলিমার বাবা জহুর উদ্দিন স্ত্রীর মৃত্যুর পর দেশে ফিরে হৃদরোগে আক্তান্ত হলে আব্দুল আজিজ তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা ব্যয়ভারও বহন করেন। তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছে তাসলিমার পরিবার। তাসলিমার সাথে আব্দুল আজিজের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে জহুর উদ্দিন দু’জনকে মারপিটও করেন। এরপর থেকে উভয়ের দেখা স্বাক্ষাৎ কমে যাওয়ায় ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তাসলিমা বাজারে আসে আব্দুল আজিজের সাথে দেখা করতে।

এদিকে তাসলিমার মৃত্যুর পর হতাশ আব্দুল আজিজ জানান, আমি হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছি তাসলিমার জন্য। তসলিমার পরিবার খুবই উগ্র। এতে তিনি খুব আতঙ্কে আছেন। তবে তসলিমার বড়বোন ও ভাই হাবিবুর রহমান রাহাতকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

বরমচাল ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ কয়ছর মিয়া জানান, কালামিয়ার বাজারে পাশে আব্দুল আজিজের ভাড়াটিয়া বাসায় তাসলিমাকে পাওয়ার পর তার চাচা জয়নাল মিয়াকে ফোন দেই। তিনি তাসলিমাকে বাড়িতে নিয়ে দেয়ার কথা বলেন। আমি তাসলিমাকে বাড়িতে দিয়ে আসি। কিন্তু বিকালে শুনি তাসলিমা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। এটা কি করে সম্ভব?

তাসলিমার বাবা জহুর উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে ফিরে মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় বৃহস্পতিবার আছরের পর ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে একঘন্টা পর তাসলিমার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ২-৩দিন পর পুলিশ বাড়িতে এসেছিলো। বৃহস্পতিবার কালামিয়ার বাজারে কি ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।

কুলাউড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এসআই রফিক ও এসআই বাদল ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না। এখন ময়নাতদন্ত করতে হলে আদালতের নির্দেশে এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করতে হবে।

ঢাকা, ১২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।