উত্তরখানে মা-বোনের সঙ্গে নিহত মুহিব সিকৃবির সাবেক ছাত্র!


Published: 2019-05-14 20:20:37 BdST, Updated: 2019-05-23 07:54:24 BdST

সিকৃবি লাইভ: রাজধানীর উত্তরখানে মা ও বোনের সঙ্গে নিহত মুহিব হাসান রসি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ২য় ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনা শেষে তিনি ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিতার্কিক হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।

জানা গেছে গত রোববার (১২ মে) রাতে রাজধানীর উত্তরখানে দুই সন্তানসহ এক মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন মা জাহানারা বেগম মুক্তা, ছেলে কাজী মুহিব হাসান রসি ও মেয়ে আফিয়া সুলতানা মীম। নিহত মা জাহানারা বেগমের স্বামীর নাম মৃত ইকবাল। তাদের গ্রামের বাড়ি ভৈরব শহরের জগনাথপুর এলাকায়। নিহত জাহানারা বেগমের স্বামী ইকবাল হোসেন বিআরডিবি অফিসের শাখা ম্যানেজার ছিলেন।

তিনি ২০১৬ সালে চাকরিরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এসময় তিনি বিবাড়িয়ায় বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। ইকবাল হোসেনের মৃত্যুর পর তার পরিবার ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এরপর গত দুই মাস আগে তার পরিবার ভৈরবে নিজ বাড়ির পাশে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন। দুই মাস থাকার পর চলতি মাসের ৭ তারিখে ঢাকায় নতুন বাসায় উঠেন।

প্রতিবেশী মো. ওয়াহিদ মিয়া জানায়, ইকবাল হোসেনের বাড়িটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নিয়ে নেয়ার পর নতুন করে তিনি এলাকায় ভাইদের সাথে একসাথে বাড়ি কিনেন। বাড়ির ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে তার ভাইদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ ছিল বলে জানায় এলাকাবাসী।

বিরোধের কারণে তাদের বাড়িতে তাদের কোন থাকার ঘর ছিল না। এ বিষয়টি নিয়ে সম্পত্তির ভাগভাটোয়ারা করতে আগামী ঈদের পর বাড়িতে শালিস বসার কথা ছিল। এদিকে প্রতিবন্ধী মেয়েটি নিয়ে বিপাকে ছিল পরিবারটি।

ইকবাল হোসেনের ভাতিজি মারজানা সুলতানা জানান, মেয়ের চিকিৎসা ও ঢাকার সাভারে তাদের মালিকাধীন একটি জায়গায় নতুন বাড়ি করতে গত ৭ মে তারা ঢাকায় ভাড়া বাসায় উঠেন। ঠিক কি কারণে তাদের মৃত্যু হলো স্বজনদের কেউ বলতে পারছেন না।

ইকবালের ভাগ্নি নিগার সুলতানা খবর শুনে তাদের বাড়িতে এসে শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তিনি জানান, আমার মামা মারা যাওয়ার পর পরিবারটি অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগছিলেন। তবে তার ছেলেটি মেধাবী ছিল। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর এবার ৪০তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছিল ছেলেটি। এভাবে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হবে তা ভাবতেও পারেনি তারা।

প্রতিবেশী শাহাব উদ্দিন জানান, পরিবারটি তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। পাশাপাশি তার ভাইদের সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে কষ্টে ছিল পরিবারটি।

এদিকে, তিনটি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ জানিয়েছে, মা ও মেয়েকে শ্বাসরোধে এবং ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল বলেন, পুলিশ সবদিক বিবেচনা করে বিভিন্ন মোটিভ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার মৃত্যুর মূল কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।


ঢাকা, ১৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।