‘অনলাইনে পর্যাপ্ত তথ্য না দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে আছি’


Published: 2019-05-10 17:27:41 BdST, Updated: 2019-09-16 12:59:33 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: এশিয়ার ৪১৭টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকায় শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। লন্ডন-ভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ তাদের পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী ওই তালিকায় চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩২টি, পাকিস্তানের ৯টি, হংকংয়ের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে।

নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয় সেরার তালিকায় স্থান পেলেও, বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কেনো স্থান পেলো না। এবিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবিদরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, এশিয়ায় মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই এর প্রধান কারণ হলো যারা জরিপ করেন তারা তথ্য-উপাত্তগুলো নেন অনলাইন থেকে। আমাদের অনলাইন অনেক শক্তিশালী না।

অনেক জিনিস আছে... এখানে অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়ার ওপর ভিত্তি করে তারা তথ্য নেন। যেমন, বিদেশি শিক্ষার্থী কতজন আছে, বিদেশি ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ কত হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে গেলে তথ্য-উপাত্তগুলো সেভাবে পাওয়া যায় না। তথ্য আপডেট করা হয় না। সেটি বড় কারণ।

বিদেশি ছাত্র ভর্তি করা বা বিদেশি ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ করা- এগুলো আমাদের একদম নেই বলা যায়। এসব কারণেই আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের সব তথ্য-উপাত্তগুলো যদি অনলাইনে দিতে পারতাম। র‌্যাংকিংয়ের জন্যে যে ক্রাইটেরিয়া দরকার তা দিতে পারতাম। বা যে ক্রাইটেরিয়ার ওপর র‌্যাংকিং হয় সেগুলোকে যদি অ্যাড্রেস করি তাহলে (র‌্যাংকিংয়ে স্থান পাওয়া) সম্ভব হবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা কতোটুকু হচ্ছে?- আমরা যে গবেষণায় খুব একটা পিছিয়ে আছি (তা কিন্তু না)। অনেক জায়গায় খুব ভালো গবেষণা হচ্ছে। আমরা সেগুলো যদি অনলাইনে আপলোড না করি তাহলে লোকে জানবে কেমন করে? আমাদের যে পারফরমেন্স রয়েছে তা আমরা জানাতে পারি না। বা আমাদের পারফরমেন্স নাই। দ্বিতীয়ত, আমাদের তথ্য-উপাত্তগুলো অনলাইনে খুঁজে পাওয়া যায় না।”

এই মুহূর্তে আমার ইউনিভার্সিটিতে মাত্র একজন বিদেশি ছাত্রী ফিনল্যান্ড থেকে এসেছে। এর আগে একজন জার্মানি থেকে এসেছিলো। অথচ আমাদের কতো ছেলেমেয়ে বিদেশে যায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিদেশি শিক্ষার্থী তেমন নেই।

আমাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে আবেদন করলে ১৫ দিনের মধ্যে ফলাফল পেয়ে যায়। আমাদের এখানে একজন বিদেশি ছাত্র ছয়মাসেও ভর্তি হতে পারে না। তাও আবার আসার পর তাদের থাকা, নিরাপত্তা, বা ওদের লাইফস্টাইল আছে- তা আমরা দিতে পারি না।

আমাদের মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকে, ৮০ ভাগ বাইরে থাকে। টাকা-পয়সা, পরিকল্পনার ব্যাপার আছে। আমাদের নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে অর্থের সংস্থান করতে হবে। মানসম্পন্ন অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। মানসম্পন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, তালিকা অনুযায়ী এশিয়ার সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চীনের ‘সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়’। গত বছর এক নম্বরে থাকা ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর’ এবার আছে দুই নম্বর অবস্থানে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’।

[কার্টেসি : ডেইলি স্টার]

 

ঢাকা, ১০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।