প্রথম বিসিএসেই মেধায় সেরা : ফলাফল জটিলতায় ফের প্রস্তুতি!


Published: 2017-12-04 01:58:45 BdST, Updated: 2017-12-17 15:59:55 BdST

কাজী সজল : ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট। আমার জীবনের সবচেয়ে কস্টের একটা রাত। যা আমি জীবনেও কখনো ভুলব না। ৩৫তম ছিল আমার প্রথম বিসিএস। আমার স্বপ্নের প্রথম বীজ বপন। যখন প্রিলিতে টিকলাম মনে হল একটু পড়লেই মনে হয় হবে। শুরু হল আমার স্বপ্নের গাছের পরিচর্যা করা। নিজের সাধ্যমত সবটুকু দিলাম।

এরপর এলো রিটেন পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষার কথা আজও ভুলতে পারিনা। সেদিন এত বৃষ্টি হয়েছিল যে আজিমপুর থেকে সাঁতরে আগারগাওঁ এসেছিলাম। পরেরদিন আবার সারাদিনব্যাপী পরীক্ষা। তবুও মানসিক শক্তি এতটুকু কমেনি। কারণ স্বপ্নটা শুধু আমার নয়। স্বপ্নটা যে আমার দুঃখিনী মায়ের যার বিশ্বাস আমি বিসিএস পেয়ে তার সাইনাসের অপারেশন করাব। স্বপ্নটা যে আমার বড় ভায়ের যে আমাদের সংসারের বোঝা টানতে টানতে আজ ক্লান্ত। স্বপ্নটা আমার বোনের যাকে কথা দিয়েছিলাম আমার চাকরি হলে তার জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে হবে।

স্বপ্নটা সেই প্রিয় মানুষটার যে আশায় বসে আছে, কবে ফোন দিয়ে বলব আমার বিসিএস হইছে। সেই মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে সবগুলো পরীক্ষা ভালভাবেই শেষ করলাম। এবার রেজাল্ট দেয়ার পালা। আল্লাহর অশেষ রহমতে রিটেনে উত্তীর্ণ হলাম। এবার ভাইভা প্রস্তুতি। পাঁচ বছরে যেটুকু কৃষি পড়ছিলাম ওই সময়ে তারচেয়ে বেশি পড়েছি।

তারপর ভাইভা দিলাম। মোটামুটি ভাল ভাইভা দিলাম। আর যেহেতু টেকনিক্যালে ফেল করায় না তাই ধরেই নিলাম এটলিস্ট কৃষি ক্যাডার আসবে। ততদিনে আমার স্বপ্নের গাছটাও বড় হয়ে গেছে। চারিদিকে তা ডালপালা ছড়িয়েছে। এবার সেই ১৭ আগস্ট। ফোনে বেশি করে টাকা তুললাম রেজাল্টের পর সবাইকে জানাতে হবে এজন্য।

এরপর সেই কাঙ্ক্ষিত মূহুর্ত। রেজাল্ট প্রকাশ হলো। কিন্তু রেজাল্ট শিটের কোথাও আমার রোল নাই। এক নিমিষে আমার স্বপ্নের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। একটা দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এক মুহুর্তে দুঃস্বপ্নে পরিণত হল। আমার জীবনে এতটা কান্না কখনো আসেনি।

৩৬তম নেই সামনে ৩৭তম অনিশ্চিত। পারছিলাম না নিজেকে বুঝাতে। ধীরেধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম। একটা সময় সাইক্রিয়াটিস্টের শরণাপন্ন হলাম। একটু একটু করে ৩৭তম এর পড়া ধরলাম। ৩৭ এ টিকলাম। আবার পড়া শুরু করলাম। আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। কিন্তু ভাগ্য এবার অন্যরুপ দেখাল। রিটেনের দুইদিন আগে জন্ডিস ধরা পড়ল। ডাক্তার বলল একদম বেড রেস্ট। নিজের ভাগ্যকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করল।

তবুও পরীক্ষার হলে গেলাম। স্যাররা কাছে এসে বলতেন আপনি কিভাবে পরীক্ষা দিচ্ছেন? রুমে এসে খালি কান্না করতাম যে কান্না কেউ দেখত না। তবুও কোন রকমে শেষ করলাম পরীক্ষাগুলো। এর দুইমাস পরের এক সকালের কথা। মা ফোন দিয়ে বললেন তোমার একটা চিঠি আসছে। ৩৫তম বিসিএসের মেডিকেলের চিঠি। কিছুই বুঝলাম না। আমিতো ৩৫তমতে ফেল করছি। ফোনটা রেখে পিএসসির ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। দেড় মাস আগের স্থগিতকৃতদের একটা রেজাল্ট দেখলাম। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

আমি ৩৫তম বিসিএসে বন ক্যাডারে প্রথম হইছি। মনে হল একটা স্বপ্ন দেখছি। এরপর ৩৭ তমতেও টিকলাম। ২৩ তারিখে আমার বন ক্যাডারে গেজেট হল। ৭ই ডিসেম্বর আমার জয়েন। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং আপনি কোন চাওয়ার প্রতি আন্তরিক হলে সেটা অবশ্যই আপনার হবে। হয়তবা দুইদিন পরে, হয়তবা আরেকটু সংগ্রাম করে।

লেখক : কাজী সজল
৩৫তম বিসিএসে বন ক্যাডারে মেধায় প্রথম

ঢাকা, ০৪ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।