চাইনিজ গবেষণা জাহাজে বাংলাদেশী ছাত্র


Published: 2017-11-29 20:37:38 BdST, Updated: 2018-01-20 09:27:16 BdST


আমিনুল মহিম: দিনটি ছিল ১৫ অক্টোবর ২০১৭। চৈনিক সমুদ্র গবেষণা জাহাজ আরভি-খোশুয়ে যাত্রা শুরু করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাহরের উদ্দেশ্যে। সাথে ছিলেন ২৯ জন সমুদ্র গবেষক। তাদের মধ্যে পিএইচডি গবেষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশেরই একজন ছাত্র এম শাহানুল ইসলাম। বিশেষ অনুমতিক্রমে প্রথমবারের মতো এই সুযোগ দেয়া হয় বিদেশী ছাত্রদের জন্য যা আগে শুধুমাত্র চৈনিক ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

আরভি-খোশুয়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬ নটিক্যালমাইল। এটি যেকোন সামুদ্রিক বৈরি পরিস্থিতিতে বিশেষ ভাবে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম। এবারের যাত্রায় একটি বেশ বড় টাইফুন গবেষণার জন্য নির্ধারিত সমুদ্রাংশকে আক্রমণ করে।

ফলে প্রধান বৈজ্ঞানিক অভিযানের ধারাতে প্রয়োজনীয় রদবদল করেন সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য যার ফলে বাকি গবেষকরা তাদের নির্ধারিত সকল কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন করেন। চায়না সমুদ্র হতে শুরু করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ঘুরে প্রায় ৩৩ দিন পর, ১৬ নভেম্বর ২০১৭ তে এসে জাহাজটি আবার চায়না পৌছায়।

অত্যাধুনিক এই জাহাজটিতে বিশালাকার রান্নাঘর ও খাবারের স্থান ছাড়াও আরও রয়েছে একচি ব্যায়ামাগার, পিয়ানো ঘর, বড়সড় লন্ড্রী ঘর ও বিশ্রামাগার। থাকবার সুব্যবস্থা সহ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য রয়েছে মাঝসমুদ্রেও ২৪ ঘন্টা ইন্টারনেট সংযোগ যেন তারা যেকোন তথ্যের প্রয়োজনে বা পরিবারের সাথে ভূমিতে যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রশান্ত মহাসাগরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এম শাহানুল ইসলাম এর ভাষায় উঠে এসেছে অনেকটা এভাবে, দুটি রংধনু পাশাপাশি একসাথে দেখা, নানা জাতের সমুদ্রাঞ্চলীয় পাখি, উড়ুক্ক মাছের খেলা, সময়ের সাথে সাথে পানির রং পাল্টানো, সামুদ্রিক সূর্যোদয়, শুকনো জায়গাতে দাড়িয়ে একটি মেঘের বৃষ্টি হওয়ার মতো দৃশ্য মেলে প্রশান্ত মহাসাগরে।

তিনি আরও বলেন এটা তার জীবনের প্রথম সমুদ্রাভিযান। লবনাক্ত আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেয়া প্রথমদিকে তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। পরে তিনি সামলে নেন ও প্রায় ১৭ টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সমুদ্রের প্রায় ১৫০ মিটার নিচে হতে তার গবেষণার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন।

তার নিজের ভাষায়, “ সমুদ্র হচ্ছে প্রতিটা সমুদ্রবিজ্ঞানীর একমাত্র লক্ষ্য। এই অভিযানটি আমার ডক্টরেট গবেষণার জন্য বেশ সহায়ক হয়েছে। নানা ধরনের উদ্ভাবন ও প্রায়গিক বাস্তবিক জ্ঞান নিজে অনুভব করার ও শেখার সুযোগ হয়েছে এই ৩৩ দিনে। বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের সাথে পরিচয় ও কাথা বলার সুযোগ ছিল অনেকটা বোনাসের মতো।”

উল্লেখ্য যে এম শাহানুল ইসলাম ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ছাত্র। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ হতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি চায়নার তিয়ানজিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে প্লাংক্টন বিষয়ক বিখ্যাত শ্রেনিবিদ প্রফেসর ড. সুন জুন এর অধীনের পিএইচডি ছাত্র হিসেবে গবেষণারত আছেন।

 

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।