৩৬তম বিসিএসে মেধায় প্রথম : ‘বাবা পৃষ্ঠপোষক, অনুপ্রেরণায় মা’


Published: 2017-11-01 20:08:14 BdST, Updated: 2017-11-18 12:23:36 BdST

এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জবি : ‘বাবা ছিলেন পৃষ্ঠপোষক। অনুপ্রেরণায় মা। শিক্ষকরা ছিলেন গাইডলাইন। এভাবেই বেড়ে ওঠেন ৩৬তম বিসিএসের তথ্য ক্যাডারে মেধায় প্রথম সারাহ ফারজানা হক।

তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ‘বাবা যখন মারা যান আমি তখন আইন বিভাগের প্রথম ব্যাচের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাবার মৃত্যুতে আমার জীবনে কালো ছায়া নেমে এসেছিল।

কারণ বাবাই ছিলেন আমার শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক। তিনি চেয়েছিলেন আমাকে ব্যারিস্টার হিসেবে দেখতে। বাবার মৃত্যু যেন স্বপ্নেরই মৃত্যু হল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।

এভাবেই অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করছিলেন ৩৬তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে প্রথম হওয়া বরগুনার মেয়ে সারাহ ফারজানা হক।

তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর আমার আত্মীয়দের অনেকেই আমাকে বিয়ে দেওয়ার কথা বললেও মা-ই তখন ছিলেন আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা।

যখন ঢাকায় কেউ খোঁজ-খবর নেয়ার মতো ছিল না তখন পেছন থেকে মা-ই সাহস জুগিয়েছিলেন। আমাকে আগলে রেখেছিলেন। ছায়ার মত সাথে লেগে থাকতেন।

গ্রামের মেয়ে ফারজানাকে কম সংগ্রাম করতে হয়নি। জীবনের প্রত্যেকটি জায়গায় প্রতিবন্ধকতাকে সামলেছেন অসীম মানসিক শক্তি দিয়ে। ২০০৬ সালে বরগুনা সরকারি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি।

এর পর ২০০৮ সালে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফলধারী ওই ছাত্রী জানান, ৩৬তম বিসিএস ছিল আমার দ্বিতীয় বিসিএস। এর আগে ৩৫তম বিসিএসে ননক্যাডারে দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি পেয়েছিলাম।

ইচ্ছা ছিল প্রথম শ্রেণির চাকরি করার। আর সেই আশা নিয়েই পরেরবার বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নেই। কখনো ভাবিনি মাত্র দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় এত বড় সাফল্য পাব। এসবের জন্যে মায়ের দোয়া আর অন্যদের অনুপ্রেরণা হয়তো কাজে লেগেছে।

ফারজানা হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন শুধু আইন পড়ার জন্য। আসলে সংগ্রামটা শুরু হয় সেখান থেকেই। কারণ জবির কোনো হল নেই তাই থাকতে হয়েছিল আজিমপুরে একটি ছাত্রী নিবাসে।

মেধাবী এ শিক্ষার্থী বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকের এমটিও। মজার বিষয় হলো; ফারজানা এখনও আজিমপুরের সেই ছাত্রী নিবাসেই থাকেন। সেখানকার ছাত্রীরা তাকে আপন করে নিয়েছেন।

আলাপকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি মনে করে ফারজানা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘শত অভাব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আমাদের শিক্ষকরা শতভাগ উজাড় করে আমাদের পড়িয়েছেন।

শ্রেণিকক্ষ নেই, পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, উন্নত লাইব্রেরি নেই এসবই সত্য। কিন্তু আমাদের শিক্ষকদের ভালোবাসার কোনো অভাব নেই এটাও সত্য।’ তারা শিক্ষার্থীদের আপন করে নিয়ে সন্তানের মতো পড়ান। কোন কৃপণতা করেন না।

ফারজানার মা নূর সাহানা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘ওর সাফল্যে আমি আজকে সবচেয়ে বেশি খুশি। তবে ওকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছিল। ওর বাবার অনুপস্থিতিতে। ওর বাবা থাকলে হয়তো বেশি খুশি হতেন।’

তিনি আরও বলে, এই মেয়েই আমার স্বপ্ন। আমাদের পরিবারের আশার স্থল। আমরা তাকে ঘিরে নানান ভাবনা অন্তরে পুতে রেখেছি।


ঢাকা, ০১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।