মেডিকেলে সেরা মাহমুদের সফলতার গল্প


Published: 2017-10-31 12:07:50 BdST, Updated: 2017-11-18 12:15:59 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে চাকরি করার। সেনা অফিসার হয়ে দেশসেবায় নিজেকে নিয়োহজত করার। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন মাহমুদুল হাসান। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ওই ছাত্র ইন্টার সার্ভিস সিলেকশন বোর্ড (আইএসএসবি) পরীক্ষায় অযোগ্য হন। জীবনের প্রথম ব্যর্থতা তাকে কষ্ট দিলেও হয়ে উঠেন আরও দৃঢ়চেতা ও আত্মবিশ্বাসী।

এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তিনি প্রথম হয়েছেন। ব্যর্থতাই যেন সফলতার চাবিকাঠি এটা আরেকবার প্রমাণ করেছেন মাহমুদুল। সারাদেশের ৮৩ হাজার ৭৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যের পেছনে আছে অনেক পরিশ্রম।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আইএসএসবিতে যান মাহমুদুল। ট্রেনিং শেষে সবার হাতে একটি করে খাম দেওয়া হয়। যারা যোগ্য তাদের খামে সবুজ কার্ড এবং যারা অযোগ্য তাদের খামে ছিল লাল কার্ড। মাহমুদুল তার খামটা খুলে যখন লাল কার্ডটা দেখে কষ্ট পেয়েছিলেন। ওই লাল কার্ড ছিল তার জীবনের প্রথম ব্যর্থতা। স্বপ্নের সেনাবাহিনীর চাকরিতে যেতে পারবেন না। ভেবে খুব মন খারাপ হয়েছিল। সেই লাল কার্ডটা এখনও তিনি স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন। ওই ব্যর্থতাকেই তিনি সফলতার পুঁজি করেছেন।

কনফিডেন্স নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন তিনি। তবে প্রথম হয়ে যাবেন ভাবেননি। রেজাল্ট শুনে যেন নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। এদিকে, ফলাফল ঘোষণার দিন সেনা কর্মকর্তা বাবা লুৎফর রহমান কাপ্তাইতে অবস্থান করছিলেন। ছেলের রেজাল্টে বাবার কর্মস্থলের সবাই খুব খুশি। তাইতো কোম্পানি কমান্ডার নিজে ডেকে ১০ দিনের ছুটি দিয়েছিলেন তাকে।

যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছেন মাহমুদুল : পরীক্ষায় একশটি প্রশ্নের মধ্যে ছয়টি প্রশ্ন কাটা গেছে তার। সর্বোচ্চ ৯০ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন তিনি। সিনিয়ররা পরীক্ষার হলে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওই পরামর্শটাই মাথায় ছিল মাহমুদুরে। তাই প্রথম ২৫ মিনিটেই তিনি ৮০টি ও পরের ১০ মিনিটে বাকি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সব উত্তর দিতে তার সময়ে লাগে মাত্র ৩৫ মিনিট।

মা মমতাজ বেগম জানান, তার ছেলে ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল।খুব বেশি সময় না পরলেও যতোটুকু পড়তো ততোটুকু মনোযোগ দিয়েই পড়তো সে। ফলে ক্লাসে বরাবরই ভালো রেজাল্ট ছিল তার। এরপরতো সুযোগ পেল মীর্জাপুর ক্যাডেট কলেজে। সেখানেতো ক্লাস এইট, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমি ছেলের সঙ্গে পড়ার টেবিলে বসে থাকতাম। মাঝে খাবারের জন্য আধাঘণ্টা উঠতে হতো। আর ছুটির দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওর সঙ্গে থাকতে হতো। ১২টার পর আমি রান্না করতাম আর ছেলেকে খেলার জন্য পাঠাতাম। এমনকি, যখন থেকে মেডিক্যালে ভর্তির পড়াশোনা শুরু করেছে তখনও ওর সঙ্গে থাকতাম। হয়তো কখনও ঘুমিয়ে গিয়েছি। তবে যখই সে উঠে বাথরুমে বা অন্য কাজে যেতো তখন মনে হতো ওর কিছু দরকার কিনা। কফি বানিয়ে বসে থাকতাম ওর পাশে। এখন এসবের ফল পাচ্ছি, ছেলে পুরো দেশে ফার্স্ট হয়েছে, আশা করি এর চাইতেও বড় সাফল্য ভবিষ্যতে আসবে।


ঢাকা, ৩১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।