বিশ্ববিদ্যালয়ে ধৈর্য্য ও মেধায় বিসিএস ক্যাডার হয়ে ওঠার গল্প


Published: 2017-10-27 23:33:20 BdST, Updated: 2017-11-18 12:24:48 BdST

আদীব মুমিন আরিফ : পরিশ্রম আর ধৈর্য মো. নাসির উদ্দিন জুয়েলের সফলতার মূলমন্ত্র। হতাশ না হয়ে বরং বেকারত্বের সামাজিক ও মানসিক চাপকে অতিক্রম করে লেগে থেকেছেন নিজের অভিষ্ঠ লক্ষের উপর।

দীর্ঘ দিনের টানা পরিশ্রম আর কষ্টের পর অবশেষে পেয়েছেন নিজের স্বপ্নের চাকরি। সামাজিক সম্মান আর দেশসেবার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ৩৬তম পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৪তম হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

মো. নাসির উদ্দিন জুয়েল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করে তার অন্য বন্ধুরা যখন হন্য হয়ে চাকরি খুঁজছে। তখন তিনি নিজের স্বপ্ন বোনা শুরু করেন।

চূড়ান্তভাবে সফল হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন দিনের পর দিন। নিয়মিত যাতায়াত করতেন লাইব্রেরিতে। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাক্ষণ পড়াশোনা করতেন। সকালের নাস্তা আর দুপুরের গোসল ও খাবারের সময়টুকু শুধু বিরতি নিতেন পড়া থেকে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা কিংবা ঘুমকে প্রশ্রয় দেননি দুবছরের জন্য। মাঝে মাঝে আত্মীয় ও বন্ধুদের থেকে বেকারের কথা শুনে কখনো ছুটেননি প্রাউভেট চাকরির জন্য। বরং এসব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে লেগে থেকেছেন নিজের স্বপ্নের উপর।

দুবছর পর একটি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তরের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ইনভেস্টমেন্টে সহকারি পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে চাকরি করেন প্রায় দুবছর। কিন্তু তখনও নিজের স্বপ্ন বোনা থামাননি। এরপর ৩৫তম বিসিএসে নন ক্যাডার হিসেব সুপারিশপ্রাপ্ত হন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে।

পোষ্টিং হয় ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন। চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়েছেন নিয়মিত। অবশেষে দেখা পেলেন নিজের স্বপ্নের সোনার হরিণের সাথে। ৩৬তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৪তম হয়ে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

জুয়েলের বিসিএসের প্রথম স্বপ্ন জাগে হলের বড় ভাই নিজের রুমমেট পঙ্কজ দত্তকে বিসিএস ক্যাডারে এএসপি হতে দেখে। তখন তিনি স্নাতক ৩য় বর্ষের ছাত্র। এরপর অনার্স মাস্টার্স শেষ করে ছুটেন নিজের স্বপ্নের পথে। সেই স্বপ্ন আরো বেড়ে যায় নিজ বিভাগের সিনিয়র আপু ইসরাত জাহান হিরার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে। যিনি ৩৩তম বিসিএসে সম্মিলিত মেধায় ৩য় হয়েছিলেন।

জুয়েলের গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার দক্ষিণ মাগুরী গ্রামে। বাবা মো. আব্দুল আউয়াল মারা গেছেন। মা আনোয়ারা বেগমের চার সন্তানের সবচেয়ে ছোট জুয়েল। চতুর্থ শ্রেণিতে থাকতে বাবাকে হারান। এরপর মায়ের তত্ত্বাবধায়নে বড় হন। মা তাকে সবসময় পড়াশোনা করার জন্য বলতেন। বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতেন। পরিবারের বড় তিন ভাই আব্দুল মান্নান, আবুল হোসেন ও আব্দুর রহিমের সঠিক দিক নির্দেশনায় এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে ২০০৬-৭ শিক্ষাবর্ষে জাবিতে ভর্তি হন।

মো. জুয়েল গোপালপুর দ্বারিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেধাক্রমে প্রথম থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি পাশ করেন। এরপর ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম ইসলামীয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কখনো প্রাইভেট পড়েননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ঢাকা এসে খালার বাসায় থেকে কোচিং করেন। ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম দুই বিসিএসে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষার জন্য ভালো করে প্রস্তুতি নিতে না পারলেও পরের বিসিএসে নন ক্যাডার এবং নিজের চতুর্থ বিসিএসে ১৪তম হয়ে পরারাষ্ট্র ক্যাডার পান।

নিজের সফলতা নিয়ে জুয়েল বলেন, আমি কখনো প্রিলি আর রিটেনক আলাদা করে পড়িনি। যখন যেটা পড়েছি বিস্তারিতবাবে বুঝে পড়েছি। নিজের সময়কে কাজে লাগাতাম ভালো করে। নিয়মিত ১০-১২ ঘন্টা পড়তাম মনযোগ দিয়ে। আজ আমার এই সফলতার জন্য আমার বাব-মা, বড় ভাই, শিক্ষকদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জুয়েল বলেন, আল্লাহ আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তা অক্ষুন্ন রেখে নিজেকে আরো বিকশিত করেতে চাই। নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ সততা, নিষ্ঠা আর দক্ষতার সাথে পালন করতে চাই। একজন সৎ ও দক্ষ কুটনীতিক হয়ে দেশের সেবা করতে চাই।


ঢাকা, ২৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।