ডিসইনফেকশন গেট লাগিয়ে চমক দেখালেন পুলিশ কর্মকর্তা


Published: 2020-04-14 08:38:57 BdST, Updated: 2020-05-31 10:32:52 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: চেষ্টা করলে কি না হয়। সবিই সম্ভব। ডিসইনফেকশন রাখতেই  উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। সফলও হয়েছেন। কেবল মনোবল ও দুরদর্শি চিন্তা মানুষকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। প্রতিদিন অনেক মানুষ রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে আসেন। রোগী দেখে, খাবার দিয়ে বের হয়ে যান। কোভিড-১৯ এর করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে আগতদের প্রত্যেকের শরীরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় একবার করে ডিসইনফেকট্যান্ট স্প্রে ছেটানো হয়। পুলিশ সদস্যরা পালাক্রমে আগতদের শরীরে ছিটিয়ে দিতেন এই স্প্রে। প্রবেশের সংখ্যা বাড়তে থাকায় একসময় অনেক জনবলের প্রয়োজন দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

এসব ঝামেলা এড়াতে নানান চিন্তায় পড়েন সংশ্লিস্ট এক কর্মকর্তা। তখনই এই পদ্ধতিকে আধুনিকায়নের বিষয়ে ভাবলেন তিনি। এর পর থেকে তিনি নিয়মিত ইউটিউবে ঘাটাঘাটি করতে থাকেন। দেখতে থাকেন কিভাবে মুক্তি মিলে এই ঝামেলা থেকে। একদিন ইউটিউবে তুরস্কের অটো ডিসইনফেকশন গেট তৈরির ভিডিও দেখে নিজেই শুরু করলেন তৈরির কাজ। পেলেন সফলতাও। গত ১২ এপ্রিল থেকে রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে আগতদের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জীবাণুমুক্ত হচ্ছে তার বানানো গেটের মাধ্যমে।ওই গেট দেখতেও খারাপ নয়।

ডিসইনফেকশন গেট তৈরির মহৎ ও অত্যাধুনিক এই উদ্যোগটি নিয়েছেন রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলাম সানতু। তবে কেন ও কোথা থেকে ডিসইনফেকশন গেট তৈরির কাজ মাথায় এলা জানতে চাইলে তিনি জানালেন তার উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার কথা। এডিশনাল এসপি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি দেখতাম ২-৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা সবসময় ম্যানুয়ালি স্প্রে করতে থাকতেন।

একসময় দর্শনার্থী বাড়ার কারণে অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হলো। আমি ভাবলাম আমরা একটি অটোম্যাটেড গেট তৈরি করতে পারি কি-না। আমি ইউটিউবে তুরস্কের একটি ডিসইনফেকশন গেট তৈরির ভিডিও দেখি। সেই গেট তৈরি ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই হাসপাতালে নির্মাণ কাজ চলছে। আমি ভাবছিলাম এখানকার কোনো জিনিসপত্র কাজে লাগিয়ে গেটটি তৈরি করা যায় কি-না। তখনই আমি এটি তৈরি শুরু করলাম। শেষমেষ সফলতাও দেখেছি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু

 

কি ভাবে বা কোন কৌশলে এটি তৈরী করেছেন জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম জানালেন, ডিসইনফেকশন গেট তৈরির জন্য খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১০-১২ হাজার টাকা। এরজন্য একটি পাম্পের দরকার হয়েছে। আর একটি পানির ট্যাংক। পানির ট্যাংকে পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক ও রসায়নবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী নানা অনুপাতে জীবাণুনাশক দেয়া হয়। রোববার থেকে হাসপাতালে আগত সবাইকে মুহূর্তেই জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। আমি আমাদের পদস্থ স্যারদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এটি যাতে সকল পুলিশ হাসপাতাল, ব্যারাক ও জনবহুল স্থানে ব্যবহার করা যায় সেটি নিয়ে ভাবছেন।

জানাগেছে বিসিএস ২৭তম ব্যাচ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন সাইফুল। কর্মজীবনে তিনি র‍্যাব-এপিবিএনসহ বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করেছেন। তার দৃশ্যমান ও কার্যকর এই উদ্যোগের জন্য সাইফুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন। ডিসইনফেকশন গেট তৈরির পর এর সফলতা দেখে কেমন লাগছে বা আপনার অনুভূতি কি জানতে চাইলে তিনি মৃদু হেসে বললেন এটা তো একটা সামান্য ব্যাপার।

তবে মানুষ উপকৃত হচ্ছে, আমাদের জনবল কম লাগছে এটি ভাবলে ভাল লাগে। আরো ভাল লাগবে যদি আমাদের সিনিয়র স্যারেরা এটি ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আমার আশা সকল হাসপাতাল এটি ব্যবহার করে উপকৃত হবেন।

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।