ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর বড় পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে উঠার গল্প


Published: 2019-03-08 13:04:52 BdST, Updated: 2019-05-24 19:31:13 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : আবিদা সুলতানা। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ঠেঙ্গারবান্দে কেটেছে তার শৈশব। প্রত্যন্ত গ্রামের সেই মেয়েটিই এখন পুলিশের বড় কর্মকর্তা হয়েছেন। বলছি বাংলাদেশ পুলিশের এআইজির গল্প। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী পড়াশোনা করেছেন লোক প্রশাসন বিভাগে। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন ম্যাজিস্ট্রেট হবেন। সেকারণেই ভর্তি হন লোক প্রশাসন বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর যোগ দেন বিএনসিসিতে। সেখানে গিয়েই তার স্বপ্নটা পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের প্রতি আকর্ষণ জাগে তার মনে। স্বপ্নজয় করে তিনি এখন বড় পুলিশ কর্মকর্তা হয়েছেন। বর্তমানে কর্মরত আছেন পুলিশ সদর দফতরে।

আবিদা সুলতানার ইচ্ছা ছিল প্যারেড কমান্ডার হওয়ার। এ বছর পুলিশ সপ্তাহের প্যারেড কমান্ডারের ১০টি কন্টিনজেন্টের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবিদা সুলতানা। ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন পুলিশের পক্ষ থেকে পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড। ২০১৩ সালে পেয়েছেন পিপিএম পদক। বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠায় এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পেয়েছেন ২০১৮ সালে।

জানা গেছে, আবিদা সুলতানা ২২তম বিসিএসের মাধ্যমে যোগ দেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে। বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাজমুল আলম। আর মা কাওসার আক্তার গৃহিনী। চার বোনের মধ্যে আবিদা সুলতানা দ্বিতীয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা বেশ রক্ষণশীল হলেও বাবা ছিলেন উদারনৈতিক। আর তাই পুলিশে যোগ দেয়ার পর অন্যরা বেশ ভয়ের চোখে তাকালেও বাবা-মা ছিলেন সবসময়ই মেয়ের পক্ষে। আবিদা সুলতানা ছোট থেকেই লেখাপড়ায় ছিলেন মেধাবী। বিএনসিসির ক্যাডেট থাকাকালে সেখানে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষকরাও বুঝে গিয়েছিলেন এই মেয়ের পক্ষেই চ্যালেঞ্জ নেয়া সম্ভব। বড় হয়ে তাই বড় দায়িত্বই কাঁধে নিয়েছেন আবিদা সুলতানা। বিসিএসের সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হতে আবিদা এনজিও ও ব্যাংকে চাকরি করে ফেলেন। এর মাঝেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বেসরকারি কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আবু সাদাত মুহম্মদ শাহীন এর সাথে। এ দম্পতির ঘরে এখন দুই মেয়ে এক ছেলে। তবে বিয়ে হলেও বাবা-মা, স্বামী, শ্বশুরবাড়ির সবার সহযোগিতা পেয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। বিসিএস পরীক্ষার সময় স্বামী নিজ হাতে আবিদাকে নোট করে দিয়ে সহায়তা করেছেন। সবসময় স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি।
কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত হতে হয়েছে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন আবিদা সুলতানা। কাদের মোল্লার ফাঁসি, বিডিআর বিদ্রোহসহ দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকাকালে রাতের পর রাত থাকতে হয়েছে বাড়ির বাইরে। তবুও তিনি সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে নারীদের অনুপ্রেরণর আবিদা সুলতানার জন্য রইলো শুভকামনা...

ঢাকা, ০৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।