বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই বিয়ে, সংসার সামলে বিসিএস ক্যাডার


Published: 2019-02-15 02:22:06 BdST, Updated: 2019-03-25 00:29:53 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : মনিষা কর্মকারের জন্ম বরগুনার আমতলীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের এই ছাত্রী সংসার সামলে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই বিয়ে দেয়া হয় তাকে। তাই কোচিং ছাড়াই তাকের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। নিজের চেষ্টায় তিনি কোচিং ছাড়াই চান্স পান প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বপ্ন দেখতে থাকেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। তবে সংসার সামলে ওই স্বপ্নের পথে হাঁটা সহজ ছিল না মনিষার। গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন আর দিনের বেলায় সংসার সামলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যেতেন। তবুও দমে যাননি তিনি।

মফস্বলে বেড়ে ওঠার কারণে নানামুখী সমস্যার অধ্যায় অতিক্রম করতে হয়েছে মনিষাকে। মাধ্যমিকের অর্ধেকটা সময় বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতে পারলেও কলেজ জীবনের পর্ব ছিল আরও নাজুক। মফস্বলের বিভিন্ন বৈরী পরিবেশে মনিষার ভাগ্যে কলেজে যেমন ক্লাস করা তেমন একটা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় লাইফেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এরই মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষেই জন্মগ্রহণ করে মনিষার প্রথম সন্তান অন্তিক দাশ।

তবে সবচেয়ে কঠিন সময় গিয়েছে মাস্টার্সে অধ্যয়নের সময়। এসময় মনিষার বাবা বাংলাদেশ বেতার বরিশালের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অজয় কর্মকারের মৃত্যু হয়। মনিষার গর্ভে তখন ৭ মাসের মেয়ে ধৃতিপ্রভা দাশ। বাবার মৃত্যুতে অনেকটাই ভেঙে পড়েন মনিষা। তবে দমে যাননি তিনি। নতুন উদ্যেমে শুরু করেন জীবন জয়ের লড়াই। মাস্টার্সের পর ঢাকার খিলগাঁও মডেল কলেজে লেকচারার পদে যোগ দেন মনিষা। কলেজে শিক্ষকতার সময়ই ধীরে ধীরে বিসিএসের প্রতি আগ্রহ জাগতে থাকে মনিষার। কারণ ওই সময়টাতে মনিষার অনেক বন্ধু-বান্ধব বিসিএস দিয়ে প্রশাসন এবং পুলিশ ক্যাডারে চাকরি হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মনিষা স্বপ্ন দেখতে থাকেন তিনি বিসিএস ক্যাডার হবেন। তবে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিলেও চান্স পাননি। ৩৬তম বিসিএসেও তিনি সফল হতে পারনেনি। আবার শুরু করলেন নতুন উদ্যোমে। এবার চান্স হলো ৩৭তম বিসিএসে। অ্যাডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন তিনি। তিনি এখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

মনিষা ২০০১ সালে আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে তখন সর্বোচ্চ জিপিএ ৪.১৩ পেয়ে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে আমতলী ডিগ্রি কলেজ থেকে একই বিভাগে ৩.৮০ জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। মনিষা কর্মকারের মা গৃহিণী, বড়বোন সুস্মিতা রাণী কর্মকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের লেকচারার এবং ছোট ভাই প্রকাশ কর্মকার কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। স্বামী সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র দাশ।

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।