বিসিএসের স্বপ্নে কোটি টাকা জেতার গল্প অদম্য ছাত্রের!


Published: 2018-12-25 12:54:10 BdST, Updated: 2019-08-20 18:41:57 BdST

নরসিংদী লাইভ : শামীম আহমেদ। বাবা আবদুল মোমেন ইউএমসি জুট মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। মেঝো ভাই সাইফুল ইসলাম সজিব ট্রেন দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়েছেন। আর ছোট ভাই সফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের স্মাতকের ২য় বর্ষের ছাত্র। শত অভাব অনটনে শামীমের মা সামসুন নাহার দিনরাত সেলাই কাজের মাধ্যমে নিরলস পরিশ্রম করে সংসারের হাল ধরেন। অভাবের মাঝে বেড়ে ওঠা নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র শামীম এখন কোটিপতি হয়েছেন। বিসিএসের স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা ওই ছাত্র অদম্য মেধার জোরে ৮০ হাজার প্রতিযোগিকে পেছনে ফেলে জিতে নিয়েছেন কোটি টাকা। নরসিংদীর সাটিরপাড়া এলাকায় বাস করেন তিনি। বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেনডেন্টের বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা প্রতিযোগিতায় দেশ সেরা হয়েছেন শামীম।

নরসিংদী সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, চরম দারিদ্রতার মধ্যেও ইচ্ছাশক্তি, মনের জোর, চেষ্টা ও কঠোর অধ্যাবসায় থাকলে যে সাফল্য অর্জন করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ শামীম আহমেদ। শামীমের সাফল্য কলেজ তথা নরসিংদীবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জানা গেছে, শামীম নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন এরই মধ্যে বয়সের ভারে ন্যুজ বাবা ইউএমসি জুট মিল থেকে অবসরে যায়। তাই এসএসসি পরীক্ষার পর থেকেই শামীম টিউশনী শুরু করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। জীবন সংগ্রামে বড় হওয়া এই ছাত্রটির নেশা বই পড়া। পত্রিকা আর বিভিন্ন লেখকের বই পড়া তার দৈনন্দিন রুটিন।

এরই মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে জানতে পারেন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা প্রতিযোগিতার কথা। ৮০ হাজার প্রতিযোগি থেকে বাঁছাই করা ৬৪ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত পর্ব। প্রতিযোগিতার ৪টি রাউন্ডের মধ্যে তিনটিতে হয়েছেন সেরা স্কোরার। চূড়ান্ত প্রতিযোগির প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো মহান বিজয় দিবসের রাতে। কোটি টাকা উঠলো বিজয়ী শামীম আহমেদের হাতে। সঞ্চালক খালিদ মুহিউদ্দীনের শেষ প্রশ্ন-পর্ব বাজান রাউন্ডের সমাপনির সঙ্গে সঙ্গে নরসিংদীর ছেলে শামীমের স্কোর দাঁড়ায় ১১৫। বিজয় নিশ্চিত হলে মঞ্চে ছুটে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আবেগ কেঁদে ফেলেন শামীমের মা। বিজয়ীর হাতে কোটি টাকার চেক তুলে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠান প্রচারিত হওয়ার পর শামীমের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে নরসিংদী তথা দেশব্যাপী। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোক বাড়িতে গিয়ে শামীমকে অভিনন্দন জানান।

শামীমের মা সামসুন নাহার বলেন, ২০ বছর সেলাই কাজ করার সেই কষ্ট আজ স্বার্থক হয়েছে। এখন স্বপ্ন দেখি আমার ছেলে ভাল একটি চাকরি করবে।

শামীমের বাবা আবদুল মোমেন বলেন, শামীম এই বয়সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে দেশের সেরা হয়েছে। আমরা তাকে আরও ভাল জায়গায় দেখতে চাই।

শামীম আহমেদ বলেন, আমি ছিলাম মধ্যম মানের ছাত্র। অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণি পাওয়ার পর লক্ষ্য ছিল বিসিএসের। সেই কারণে টিউশনির বাকী সময়টুকু আমি লাইব্রেরিতে কাটিয়েছি এবং ইন্টারনেটে বই পড়েছি। আর সেই কঠোর পরিশ্রমের কারণেই আজ আমি বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছি। আমি আশাবাদী সবার দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে অনেক দূর যেতে পারবো। শামীম গরীব কিন্তু পড়াশোনায় আগ্রহ আছে এমন অদম্য মেধাবীদের পাশে দাঁড়াতে চায় বলেও ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।