নিজের চেষ্টায় কোচিং ছাড়াই ঢাবিতে চান্স পাওয়ার গল্প


Published: 2018-06-20 21:38:23 BdST, Updated: 2018-09-24 00:50:43 BdST

মাহজাবিন : আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল তৃতীয় শ্রেণি থেকে। অর্থাৎ, আমি প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়িনি। চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার সময়ে রেজাল্টে বাজিমাত করি। যদিও ছিলাম ক্লাসের সবচেয়ে ছোট শিক্ষার্থী। চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দেওয়ার পর গ্রামে চলে যাই। 2009 সালে আমরাই প্রথম পিইসি পরীক্ষার্থী ছিলাম। পিইসিতে সাধারণ বৃত্তির তালিকায় আমার নাম আসে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে আমার জায়গায় অন্য একজন বৃত্তি পায়। জেএসসি পরীক্ষায় সাধারণ বিজ্ঞানে A পাওয়ার কারণে A+ পাওয়া হল না।
ফলাফল Depression.

দুই মাস বইয়ের কাছেই যাইনি। এমন টালমাটাল অবস্থায় হাল ধরলেন আমার মা। আমাকে উৎসাহ দিতে থাকলেন পরবর্তী যুদ্ধের জন্য। নবম শ্রেণির বই নেওয়ার সময় বাধল আরেক যুদ্ধ।1st girl ছিলাম বলে শিক্ষকরা কিছুতেই Science ছাড়া অন্য কোন গ্রুপের বই দিতে নারাজ। কিন্তু আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল আমি Faculty of Business studies (FBS) এ পড়ি। তাই কড়া কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, যদি আমাকে Commerce এর বই দেওয়া হয় তাহলেই আমি ওই স্কুলে পড়ব। অন্যথায় না। ব্যস, বই পেলাম।

কিন্তু শুরু হল আশপাশের মানুষের বাকাঁ চোখের চাহনি। কারণ, ওখান থেকে FBS এ পড়ার কথা স্বপ্ন কেন, দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবেনি। সবকিছু উপেক্ষা করে SSC তে ফলাফল হল A+ এবং আমার স্কুলের 76 বছরের ইতিহাসে প্রথম মেয়ে হিসেবে বোর্ডে সাধারণ বৃত্তি লাভ।

এক সাধারণ কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। ভাঙাচোরা স্কুল থেকে গিয়েছিলাম বলে সহপাঠীদের কাছে অবজ্ঞার পাত্রী ছিলাম। 2016 সালে উত্ত্যেক্তের কারণে Test পরীক্ষার পর ক্লাস, প্রাইভেট, কোচিং সব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। আমার HSC পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেক ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এ ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। আমার গৃহবন্দি থাকাটা অনেক সহপাঠীর কাছে হাস্যকর ছিল কারণ আমি তাদের কাছে "কালি" বলে পরিচিত ছিলাম। আমার কষ্ট ছিল তাদের কাছে কৌতুক। HSC তে একটা পরীক্ষাও শান্তিতে দিতে পারিনি। তবুও আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে কলেজের 20 বছরের ইতিহাসে প্রথম ছাত্রী হিসেবে Golden A + এবং যশোর বোর্ডে এককভাবে 8th হয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলাম।

HSC পরীক্ষার জন্য দিনে 12 থেকে 13 ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমাতো, তখনও আমি পড়তাম। আমার সহপাঠীরা যখন Treat দেওয়া, Shopping করা, ঘুরে বেড়ানো এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিল তখন আমি ব্যস্ত ছিলাম পড়ায়। নিজের চেষ্টা, পরিশ্রম দিয়ে আমি রেজাল্ট ভালো করার যুদ্ধে নেমেছি আর বিজয় অর্জন করেছি।

কিন্তু Admission test এর কোন প্রস্তুতি নিতে পারিনি। একপ্রকার বাধ্য হয়ে সবাইকে জানাই যে, আমি Admission test দেব না। হয়ে গেলাম সহপাঠীদের বিরক্তির কারণ।অনেক কান্নাকাটি করে Apply করলাম এবং তেমন কোন প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষা দিলাম। আমার মনে আছে যে আমি Question paper নিয়ে প্রায় দশ মিনিট বসে ছিলাম। কারণ কীভাবে নাম এবং অন্যান্য তথ্যগুলো লিখব, Coaching না করায় এ ব্যাপারে কোন ধারণা ছিল না। একপ্রকার অবিশ্বাস্য ভাবে chance পেলাম আমার মায়ের স্বপ্নের FBS এ।

সবশেষে জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, কখনো হাল ছাড়বে না। জীবনে খোঁচা দেওয়ার অনেকেই আছেন, কিন্তু উৎসাহ দেওয়ার মানুষ খুব কম। তবুও পিছু হটবে না।মনে রাখবে, Allah help those who help themselves.

Mahjabin
24th batch
Department of Management
University of Dhaka

[ফটো ক্রেডিট : মনির হোসাইন
The Beauty of DU campus]

ঢাকা, ২০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।