মিষ্টি জাতের বাঙ্গি উদ্ভাবনে রাবি প্রফেসরের সাফল্য


Published: 2018-05-24 10:02:39 BdST, Updated: 2018-10-18 16:01:02 BdST

রাবি লাইভ: বাঙ্গি দেশের এমনি একটি ফল যা কাঁচা তরকারি হিসেবে রান্না করে এবং পরিপক্ক অবস্থায় অন্য সাধারণ ফলের মত করে খাওয়া যায়। গ্রামের মানুষ এর সাথে বেশ পরিচিত। তবে বাঙ্গির তরকারি এক অন্য রকম স্বাদ থাকলেও পাকা বাঙ্গি খাওয়ার ইচ্ছে হলেই মনে পড়বে গুড় বা চিনি কেনার কথা।

যেহেতু দেশের প্রচলিত জাতের উৎপাদিত বাঙ্গির মিষ্টতা নেই বললেই চলে। এজন্য একটু স্বাদ করে খেতে হলে সাধারণত গুড় বা চিনি দিয়ে খাওয়া হয়। তবে এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) পরিচালক প্রফেসর মনজুর হোসেন।

নতুন কান কিছু উদ্ভাবন করতে প্রয়োজন হয় ব্যাপক গবেষণা আর কঠোর পরিশ্রমের। প্রফেসর মনজুর হোসেনের ক্ষেত্রে তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। বাঙ্গি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন দীর্ঘ নয় বছর আগে।

দেশী জাতের উৎপাদিত বাঙ্গির মিষ্টতা নেই বললেই চলে। এক জাপানি বন্ধুর পরামর্শে সেদেশে উৎপাদিত ‘রাগবি’ ও ‘মাস্কমেলন’ নামের বিশেষ প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গির বীজ এনে এদেশে চাষের উদ্যোগ নেন রাবি প্রফেসর মনজুর হোসেন।

জাপানী বাঙ্গির পরীক্ষামূলকভাবে চাষের প্রচেষ্টা চালান নয় বছরের মধ্যে বেশ কয়েকবার। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী না হওয়ায় বীজগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল প্রতিবারই।

এরপর থেকেই বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী মিষ্টি জাতের বাঙ্গি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ নয় বছরের নিরলস গবেষণার পর তিনি মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবন করতে সফল হন তিনি। স্বাদে অতুলনীয় এ বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ফলটির গায়ের রং দেখে ‘সোনালী বাঙ্গি’।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলটি খরমুজ, ফুটি, কাঁকুড় বিভিন্ন নামে পরিচিত। তবে কুমড়াগোত্রীয় গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি একে তো স্বাদেও মিষ্টি নয় আবার পরিপক্ক হলেই ফেটে যায়। মিষ্টি না হওয়ায় সাধারণত গুড় বা চিনি দিয়ে খাওয়া হয়। তবে মনজুর হোসেনের উদ্ভাবিত এই সোনালী বাঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চিনির মতো মিষ্টি আর ফেটে না যাওয়া।

প্রফেসর মনজুর হোসেন বলেন, ‘দেশীয় প্রজাতির বাঙ্গির সাথে দু’টি জাপানি প্রজাতির বাঙ্গির জীন সন্নিবেশনের মাধ্যমে দু’টি বিশেষ প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবিত হয়েছে। জাপানি ‘রাগবি’ প্রজাতির সাথে দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে ‘সোনালী বাঙ্গি’। এছাড়া, জাপানি ‘মাস্কমেলন’ প্রজাতির সাথেও দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে তিনি আরও একটি প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রজাতির এখনো নামকরণ করা হয়নি।’

পাকা মিষ্টি বাঙ্গির গায়ের রং সোনালী হওয়ায় তার উদ্ভাবিত বাঙ্গির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোনালী বাঙ্গি’। প্রথম অবস্থায় ফলটি হয় গাঢ় সবুজ রংয়ের। আকৃতি বৃদ্ধির সাথে সাথে এর গায়ের রং পরিবর্তন হয়ে ধারণ করে সোনালী বর্ণে।

ছোট অবস্থায় দেখতে মাল্টা বা কমলার মতো এবং পরিপূর্ণ বাঙ্গি দেখতে ছোট আকারের একটি মিষ্টি কুমড়ার মতো। প্রতিটি বাঙ্গিই আধা কেজি থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের হয়ে থাকে। আর এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, ভিটামিন-এ এবং আয়রন বিদ্যমান।

রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় প্রফেসর মনজুর হোসেনের গবেষণাগারে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সোনালী বাঙ্গির চারা রোপণ করা হয়েছে। কিছু কিছু গাছে সোনালী বাঙ্গি ঝুলে আছে। বাঙ্গিগুলো আকারে কিছুটা বড় কমলালেবুর মতো। তিনশতক জমিতে এই সোনালী বাঙ্গির চাষ করছেন প্রফেসর মনজুর।

চাষ পদ্ধতির বিষয়ে প্রফেসর মনজুর হোসেন বলেন, ‘সোনালী বাঙ্গির’ চাষ পদ্ধতি একটু ভিন্ন। এ বাঙ্গি সরাসরি জমিতে চাষ করলেও এর গাছ রাখার এবং ভাল ফলনের জন্য মাচার প্রয়োজন হয়। মাটি থেকে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতায় মাচা করে ফলটি চাষ করা লাগবে।

চাষের জন্য আলাদা কোন মাটির প্রয়োজন নাই। সাধারণ বাঙ্গিগুলো যে মাটিতে চাষ করা হয় এ বাঙ্গিও সেই মাটিতে চাষ করা যাবে। চাষের খরচ সাধারণ বাঙ্গির তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ পড়বে প্রায় পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা।

‘সোনালী বাঙ্গি’ উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হবে বলে আশাবাদী প্রফেসর মনজুর হোসেন। তিনি জানান, ‘বাঙ্গি যে কতটা মিষ্টি হতে পারে সেটা অনেকে কল্পনা করতে পারে নি। জাপানি কাতো কেউকির পরামর্শে কাজ শুরু করেছিলাম।

দীর্ঘদিন গবেষণার ফলে মিষ্টি জাতের এই বাঙ্গি উদ্ভাবন করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস নিকট ভবিষ্যতে এই পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

 

 

ঢাকা, ২৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।