দক্ষিণ কোরিয়াতে পবিপ্রবি বিজ্ঞানীর সাফল্য


Published: 2018-05-23 15:11:13 BdST, Updated: 2018-06-18 15:25:46 BdST

পবিপ্রবি লাইভ: বিদেশের মাটিতে নিজ কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশী বিজ্ঞানীরা প্রিয় মাতৃভুমির নাম উজ্জল করেছেন। তাদেরই একজন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ের মেডিসিন, সার্জারী ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. দিব্যেন্দু বিশ্বাস। সম্প্রতি দক্ষিন কোরিয়াতে তিনি এক অভাবানীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।

প্রায় দীর্ঘ ১০ মাস দক্ষিণ কোরিয়াস্থ চনবুক ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করার পর তিনি এই সাফল্য পান। তার গবেষণা বিষয়বস্তু ছিলো গবেষণাগারে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (IVF) মাধ্যমে সফলভাবে স্বাস্থ্যবান শুকরের ভ্রূণ তৈরী করা। এযাবতকাল পর্যন্ত মাইক্রোড্রপ (Microdrop culture) পদ্ধতিতে IVF এর মাধ্যমে গবেষণাগারে শুকরের ভ্রূণ তৈরি করা হয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে ড.দিবেন্দু বলেন, “মাইক্রোড্রপ পদ্ধতিতে IVF এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবান ভ্রূণ তৈরির প্রধান অন্তরায় হলো পলিস্পার্মি অর্থাৎ একসঙ্গে অনেকগুলো শুক্রানু ডিম্বানুর ভিতর প্রবেশ করা। যার কারনে পলিস্পার্মি যুক্ত ডিম্বানু ভ্রূণ তৈরি করতে পারে না।

যদিও এ পর্যন্ত মাইক্রোড্রপ এর পরিবর্তে আরো অনেক পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়েছে, কিন্ত সেসব পদ্ধতি অনেক ব্যয়বহুল ও জটিল এবং সময়সাপেক্ষ যা সব গবেষণাগারে করা সম্ভব নয়। তার পরেও এখন পর্যন্ত এই Microdrop culture সব ধরনের ভ্রূণ তৈরীতে ব্যবহার হয়ে আসছে”।

ড. বিশ্বাস এই বহুল ব্যবহৃত Microdrop culture এর পাশাপাশি “Column Culture” পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি দেখতে পান নুতন এই পদ্ধতিতে তৈরীকৃত ভ্রূণ বহুল ব্যবহৃত Microdrop culture এর ভ্রূণ থেকে অনেক স্বাস্থ্যবান ও প্রতি ভ্রূণে কোষের সংখ্যাও অনেক বেশী।

তিনি আরো দেখতে পান তুলনামূলকভাবে নুতন পদ্ধতিতে একটিমাত্র শুক্রানুযুক্ত ভ্রূণ (Monospermic zygote) এর সংখ্যা অনেক বেশী। Apoptosis সম্পর্কযুক্ত জীনগুলোর আধিক্যও নুতন পদ্ধতিতে তৈরীকৃত ভ্রূণ তুলনামূলক কম। প্রাকৃতিকভাবে ডিম্বানুর সাথে শুক্রানু মিলিত হওয়ার পূর্বে তাকে অনেকখানি পথ পাড়ি দিতে হয়।

গবেষণাগারে Microdrop culture মাধ্যমে শুক্রানুর দৌড়ানোর ব্যবস্থা খুবই সীমিত এবং একই জায়গার ভিতর জীবিত ও মৃত অনেকসংখ্যক শুক্রানু থাকার কারনে গবেষণাগারে বিশেষকরে শুকরের ডিম্বানুর ভিতর একের অধিক শুক্রানুু প্রবেশ করা স্বাভাবিক।

কিন্তু তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে সমস্ত শুক্রানুকে কিছুটা পথ দৌড়ানোর পর সবচেয়ে ভালো এবং স্বাস্থ্যসম্মত শুক্রানুই ডিম্বানুর সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়, যার কারনে নুতন পদ্ধতিতে উৎপাদিত ভ্রূণ গুলো অনেক স্বাস্থ্যবান ও গুনগতমানসম্পন্য হয়।

ড. বিশ্বাস আসা করেন তাঁর এই নুতন উদ্ভাবিত “ভ্রূণ উৎপাদন কৌশল” ভ্রূণবিদ্যায় স্বাস্থ্যসম্মত ভ্রূণ তৈরীতে নুতন পথের নিশানা দেখাবে। তার গবেষণার ফলাফল শিগ্রই আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের অপেক্ষায়।

উল্লেখ্য, তিনি শুকরের ভ্রূণ ক্লোনিং ও ভ্রূণ উৎপাদন বিষয়ে কৃতিত্বের সহিত পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে “Research Professor” হিসাবে চনবুক ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

 


ঢাকা, ২৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।