বিসিএস প্রস্তুতি : ব্যর্থতাও ব্যর্থ হবে, বেস্ট আইডেন্টিটি, ক্যারিয়ার


Published: 2017-11-07 13:25:00 BdST, Updated: 2018-01-20 21:01:23 BdST

সত্যজিৎ চক্রবর্তী : বর্তমান সময়ে বিসিএস এমন এক ব্র্যান্ড হয়েছে, বুঝে না বুঝে সবাই বিসিএস ক্যাডার হতে চায়। বিসিএস ক্যাডার হতে চাওয়াটা দোষের কিছু নয়, কিন্তু কেন আপনি বিসিএস ক্যাডার হবেন সেই কারণটা যদি আপনার জানা না থাকে, তবে নিজের ভেতর থেকে কোনো স্পিড পাবেন না।

হ্যালো ক্যারিয়ার যোদ্ধারা! সামনেই নিয়োগ পরীক্ষা। আপনি হয়তো খুবই চিন্তায় আছেন কিভাবে প্রিলি পাস করবেন সেটা নিয়ে। কিন্তু বিশ্বাস করুন নিয়োগদাতারা আপনার চেয়েও বেশি চিন্তায় আছে কিভাবে আপনাকে ফেল করাবে তা নিয়ে! সফলদের মতে, এখানে ফেল করানো এবং ফেল করা দুটোই খুবই কষ্টকর (যদি না ভাগ্যবিধাতা মুখ ফিরিয়ে নেন)।

আপনি ভয় পাচ্ছেন ২০০ মার্কসের পরীক্ষা নিয়ে! ভয় পাচ্ছেন এত বড় সিলেবাস কিভাবে শেষ করবেন তা নিয়ে! আচ্ছা ভাই একটু থামুন। অনেক ভেবেছেন। আপনাকে কী প্রিলিতে ২০০ এর মধ্যে ২০০ পেতে হবে? সেখান থেকে যদি ৩০ মার্কস কম পেলে হয়, তাহলে কী ভয় কাটবে? মানে ১৭০ পাবেন না? তা নিয়েও ভয়? আচ্ছা ৪০ মার্কস বাদ দিলে হবে তো? মানে ১৬০ পেতে হবে! যান ভাই আর এত টেনশন করার দরকার নাই পুরো ৭০ মার্কস আপনার বাদ দিয়ে দিলাম। মানে ১৩০ পেতে হবে।

২০০ মার্কস পরীক্ষার ইতিহাসে এখনো কাট মার্কস মানে পাশ মার্কস ১৩০ কে পার করাতো দুরে থাক, ছুঁতে ও পারেনি। তাহলে এত টেনশন কিসের? একাডেমিক পরীক্ষায় একবারও কী এত মার্কস বাদ দেয়ার চিন্তা নিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছেন কখনো? অথচ এখানে আপনি যাবেনই অনেকগুলোর উত্তর আপনি করবেন না, এই মানসিকতা নিয়ে।

আমি সত্যজিৎ যেহেতু ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ করছি, তাই বিগত বছরের বিসিএসসহ সকল নিয়োগ পরীক্ষার প্রায় ৩৫ হাজার প্রশ্ন নিয়ে যাচাই বাছাই করে, সম্মানিত বিসিএস ক্যাডার ও ক্যারিয়ার এক্সপার্টদের সাথে প্যানেল ডিসকাশন করে এবং আমার সেমিনারের ক্যারিয়ার কথন নিয়ে লেখাটি লিখছি আত্মতুষ্টির জন্য। বলতে পারেন এটা আমার এসাইনমেন্ট বা মিনি থিসিস পেপার। আপনার প্রিপারেশন ভালো থাকলে লেখাটি পড়ে সময় নষ্ট করবেন না। যদি হাতে ১০ মিনিট অবসর সময় থাকে তবেই লেখাটি পড়তে পারেন।

আমি বিসিএসকে ব্যক্তিগতভাবে ৩ ভাগে ভাগ করেছি-
> বিসিএস প্রাচীন যুগ ( ১ম থেকে ৯ম বিসিএস)
> বিসিএস মধ্যযুগ ( ১০ম থেকে ৩৪ বিসিএস)
> বিসিএস আধুনিক যুগ (৩৫ তম থেকে বর্তমান )

বিসিএস প্রাচীন যুগে কোনো এমসিকিউ ছিল না। বিসিএস মধ্যযুগের অর্থাৎ ১০ম বিসিএস থেকে এমসিকিউ পাওয়া যায় কিন্তু তখন কোনো সিলেবাস ছিল না। আবার আধুনিক বিসিএস থেকে অর্থাৎ ৩৫ তম বিসিএস থেকে একটা সিলেবাস নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে যেখানে আগের ১০০ মার্কসের পরিবর্তে ২০০ মার্কসের প্রিলি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়।

যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু বিষয় থাকে যেগুলো পড়লে তা কখনো পরীক্ষার কেন্দ্রে আপনার সাথে বেঈমানি করবেনা। যেমন গণিত, বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার। প্রশ্ন যতই কঠিন হোক ব্যাকরণ বা গ্রামার অংশে শুধু বাক্যটি কঠিন হতে পারে কিন্তু গ্রামারের রুলতো আর চেঞ্জ হবে না। এক্ষেত্রে ভালভাবে গ্রামার আয়ত্ত্ব করুন। প্রিলির গণিতে কঠিন করার মত কিছুই নেই। গণিতের প্রশ্ন অনেক কমন পাওয়া যায় বিগত বছর থেকে। জব সলিউশন নিয়ে আমার কথাটা মিলিয়ে নিন।

বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগে কবি সাহিত্যিকের শেষ নেই। কিন্তু প্রাচীন যুগেরতো সীমাবদ্ধতা আছে। সেটাতো থেমে আছে। মানে যতজন কবি সাহিত্যিক থাকার ততজনই আছেন। সেটা ভালভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে প্রশ্ন কমন পাবেনই। তবে আধুনিক যুগ থেকে সব প্রশ্ন কমন হয়তো পাবেন না। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের ১১ জন কবি, পঞ্চ পান্ডব ও আরো বিশেষ কয়েকজন কবি সাহিত্যিক (যাদের নাম আগে দিয়েছি) নিয়ে পড়ে গেলে নিশ্চিত কমন পাবেন। এখানে হয়তো কিছু মার্কস ছুটতে পারে।

বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ভালভাবে পড়লে ভুগোলের ৯০%কাজ শেষ। বিজ্ঞান নবম দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই আর বিগত বছরের প্রশ্ন দেখে গেলেও অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। মানসিক দক্ষতার ক্ষেত্রে বিগত বছরের প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ভালভাবে বুঝে বুঝে সমাধান করতে পারলে ৯৯% কমন। কারণ সব প্রশ্ন একই সিরিজের প্রায়।

কী পড়বেন কীভাবে পড়বেন এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার যোগ্যতা আমি সত্যজিৎ এর নেই। আমি শুধু কথা বলতে এসেছি, যারা অসংখ্য ম্যাসেজ দিয়ে হতাশার কথা বলছেন তাদের জন্য মানসিকতা স্ট্রং করার জন্য। কারণ ভালো প্রিপারেশন নিয়েও দুর্বল মানসিকতার কারণে আমরা যুদ্ধে হেরে যায়। আমরা হারার আগে হারতে চাই না। হাত শক্ত করে ধরে শুধু এটুকুই বলুন- "বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সুচাগ্র মেদিনী "। চ্যালেঞ্জ নিয়েছি হতাশাকে হতাশ করার। আর তাই গত ডিসেম্বরে প্রকাশ করেছি আমার মোটিভেশনাল বই "রোড টু সাকসেস "। মাত্র ৯ মাসেই আপনাদের ভালোবাসায় ৫ম মুদ্রণ শেষের পথে। বাদ যাবে না একটা স্বপ্নও। আমরা হতাশার বুকে পদাঘাত করে ব্যর্থতাকে ব্যর্থ করে দিয়ে বলতে পারি- I will win not immediately but definitely. সবার সাথে ফাঁকি দেয়া যায়,কিন্তু নিজের সাথে নয়। নিজেকে ভালবাসুন, পরিশ্রম করে এগিয়ে যান। প্রতিষ্ঠিত করুন নিজেকে। এটি কোনো পরামর্শমুলক লেখা না, এটি সাইকোলোজিক্যাল ওয়ার্কশপ।


Satyajit Chakraborty
Public Speaker & Corporate Trainer
Founder, Bangladesh Career Club
Writer, Motivational Book


ঢাকা, ০৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।