৩৮তম বিসিএস : গণিত ও বিজ্ঞানে ভালো করবেন যেভাবে


Published: 2017-11-03 02:30:48 BdST, Updated: 2018-01-20 21:02:45 BdST

সামনেই ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। হাতে সময় আছে অল্প দিন। এবার বিসিসে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন করায় একটু ভুল করলে আপনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বেন। তাই প্রস্তুতি নিন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। পরামর্শ দিয়েছেন ৩৩তম বিসিএসে সম্মিলিত মেধা তালিকায় পঞ্চম অভিজিৎ বসাক

যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে ৩৮তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ। বিশেষ আয়োজনে এই পর্বের বিষয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা।

অনেকের ধারণা এসব বিষয়ে বিজ্ঞানের ছাত্ররা বেশি সুবিধা পান। এটা মোটেও ঠিক নয়। প্রশ্ন এমনভাবে সেট করা হয়, যাতে যেকোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীরই সমান সুযোগ থাকে। নতুন করে প্রস্তুতির কিছু নেই ভেবে বিজ্ঞানের ছাত্ররা এসব বিষয় অবহেলায় নিলে পিছিয়ে পড়তে পারেন। আর যারা বিজ্ঞানের ছাত্র নন, ঠিকঠাক প্রস্তুতি না নিলে বাদ পড়তে পারেন প্রথম পর্ব থেকেই।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান : বিগত বছরের বিসিএস ও পিএসসির অন্যান্য চাকরি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করলে বেশ কিছু প্রশ্ন কমন পেয়ে যেতে পারেন। প্রশ্ন ব্যাংক বা জব সল্যুশন বইয়ে পেয়ে যাবেন বিগত বছরের প্রশ্ন। নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বোর্ড বই ভালোভাবে পড়তে হবে। বইটিতে সিলেবাসের অনেক বিষয় আছে।

সঙ্গে পড়তে হবে রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বইয়ের কিছু অধ্যায়। কোন অধ্যায়গুলো পড়তে হবে, বুঝবেন কী করে? সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে প্রায় সব টপিক নিয়েই আলোচনা আছে, কিন্তু কিছু বিষয় আপনাকে আরেকটু বিস্তারিত জানতে হবে। যেমন পরমাণু সম্পর্কিত তথ্যগুলো যদি রসায়ন বই থেকে শেখেন তাহলে পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাবনা বেশি। এ রকম যে অধ্যায়গুলোর আলোচনা সাধারণ বিজ্ঞান বইতে কম, কিন্তু অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বই থেকে শিখে নিতে হবে। তবে যেটুকু শিখবেন বুঝে বিস্তারিতভাবে শিখবেন। কারণ এখন সব প্রশ্ন সরাসরি দেওয়া হয় না। একটি উদাহরণ দিচ্ছি—সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন থাকে, আর আয়োডিন খেলে হাইপোথাইরয়েডিজম ভালো হয়; এ দুটি তথ্যই বিজ্ঞান বইতে দেওয়া আছে। কিন্তু সরাসরি বলা নেই যে সামুদ্রিক শৈবাল খেলে এই রোগ ভালো হয়। এ ধরনের প্রশ্ন নিয়ে অনেক সময় কনফিউশনে পড়তে হয়। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লেই এ ধরনের প্রশ্নে আপনি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবেন।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি : কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কম্পিউটার শিক্ষা বইগুলোকে বেজ হিসেবে ধরে প্রস্তুতি নিতে পারেন। এই বইগুলোতে সিলেবাসের প্রায় সব টপিক আছে। এর পাশাপাশি আপনাকে ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে হবে। বিগত বছরের বিসিএস, ব্যাংক ও পিএসসির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। টপিক ধরে ধরে শিখতে হবে। ইনপুট, আউটপুট, ডিভাইস, মেমোরি, কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটারের অঙ্গসংগঠন ইত্যাদি অধ্যায় ধরে ধরে সিলেবাস শেষ করে ফেলুন। এগুলো শেষ হয়ে গেলে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় শিখে ফেলতে হবে। যেমন—বুলিয়ান অ্যালজেবরা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণার পাশাপাশি বুলিয়ান উপপাদ্যগুলো মুখস্থ করে ফেলতে হবে; লজিক গেট সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ গেটের বৈশিষ্ট্য জানতে হবে।

সংখ্যা পদ্ধতি ও কম্পিউটারে ব্যবহূত সংখ্যা পদ্ধতি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। শিখতে হবে বাইনারি থেকে ডেসিমাল ও ডেসিমাল থেকে বাইনারিতে রূপান্তর পদ্ধতি। এগুলো থেকে প্রায় প্রতিবছরই প্রশ্ন আসে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের সাইট ও বড় তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য, যেমন—প্রতিষ্ঠাকাল, প্রতিষ্ঠাতা, সেবার ধরন, বর্তমান সদস্য ও সেবা ইত্যাদি ইন্টারনেট থেকে দেখে নোট করে রাখলে প্রস্তুতিতে সুবিধা হবে। নতুন অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার, ল্যাংগুয়েজ ইত্যাদি সম্পর্কেও কিছু তথ্য জেনে রাখতে হবে।

গাণিতিক যুক্তি : গণিতের জন্য অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই থেকে চর্চা করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে সপ্তম শ্রেণির বই থেকেও পাটিগণিত সমাধাণ করতে হবে। দুয়েকটি অধ্যায়ের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক গণিত বইও সহায়ক হবে। যেমন—বিন্যাস ও সমাবেশ, সম্ভাব্যতা এই দুটি অধ্যায় উচ্চ মাধ্যমিকের বই থেকে শিখতে হবে। শতকরা, লাভ ক্ষতি, সরল ও চক্রবৃদ্ধি সুদ, লসাগু ও গসাগু এগুলো অষ্টম শ্রেণির বই থেকে শিখতে হবে। বীজগণিতের জন্য নবম দশম শ্রেণির বই খুবই সহায়ক হবে। এই বই থেকে সিলেবাসের টপিকগুলো শেষ করে ফেলুন। সেট বা পরিসংখ্যান অধ্যায়গুলো বুঝতে পারলেই উত্তর করা যায়। একবার মূল বিষয়টি ধরতে পারলে এখানে খুব বেশি সময় দিতে হবে না। গণিতে ভালো করার জন্য বেশি বেশি চর্চা করতে হবে।

মানসিক দক্ষতা : মানসিক দক্ষতার প্রস্তুতির জন্যও বিগত বছরের বিসিএস ও পিএসসির নিয়োগ পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালো করে দেখতে হবে। সিলেবাসের টপিকগুলো পড়ার জন্য রেফারেন্স বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। ইন্টারনেটও হতে পারে অনেক সহায়ক। আইকিউ যাচাই করা হয় এ অংশে। বেশির ভাগ বিষয়ই আমাদের জানা। এ ক্ষেত্রে একটু মাথা খাটালেই ভালো করা যাবে। আইকিউ টেস্টের কিছু বইও প্রস্তুতিতে কাজে আসবে। অনেক ওয়েবসাইট আছে, যাতে আইকিউ টেস্ট থাকে। সিলেবাসের বিভিন্ন টপিক গুগলে ইংরেজিতে লিখে সার্চ করে বিভিন্ন সাইটে ঢুকে নিয়মিত সলভ করুন। সাধারণত প্রশ্ন কমন আসে না। তাই ভালো করতে হলে বেশি বেশি চর্চা করতে হবে।


লেখক : অভিজিৎ বসাক
৩৩তম বিসিএসে মেধায় তালিকা পঞ্চম


[কার্টেসি : কালেরকণ্ঠ]


ঢাকা, ০৩ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।