টার্গেট যখন ৩৮তম বিসিএস প্রিলি


Published: 2017-10-26 03:17:43 BdST, Updated: 2018-07-22 10:59:54 BdST

নাজমুল আলম : সামনেই ৩৮তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা। হাতে আছে অল্প সময়। এর মধ্যেই নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করতে হবে। আমার হাতে যদি ২ মাস সময় থাকতো তাহলে আমি কিভাবে প্রস্তুতি নিতাম চলুন জেনে নেয়া যাক।

>>> অল্প সময় আছে তাই কোচিং বাদ দিয়ে বাসায় বসে অন্তত ১২-১৫ঘন্টা পড়াশোনা করুন। কারণ একে কোচিংএ যেতে-আসতে অনেক সময় নষ্ট হয় তার উপর ওদের মত করে পড়তে গিয়ে নিজের পড়ার উপর নিজেরই কোন কন্ট্রোল থাকে না!

>>> অতি সাম্প্রতিক বিষয়াবলী প্রিলিতে আসে না বললেই চলে। তাই পৃথিবীর কোথায় কি হচ্ছে তা নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাতাম না।

>>> এখন পেপার পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা নষ্ট করার তো কোন মানেই নেই।

>>> আগের রাতে বা সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা রুটিন করে নিতাম-কোন সময়ে কি কি পড়ব। পুরো দিনটাকে ৩-৪টা স্লটে ভাগ করে সকালের ৪-৫ঘন্টা শুধু একটা বিষয়ই পড়তাম, দুপুর-সন্ধ্যা আরেকটা বিষয়, এভাবে পড়তাম।

>>> ডিনার/লাঞ্চের পর ৫ মিনিটের জন্য ফেসবুকে ঢুকলে বের হতে এক ঘণ্টা লেগে যায়, তাছাড়া সব সুন্দরী মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব পরীক্ষার আগের রাতেই হয় তাই ফেসবুক যতটা সম্ভব বর্জন করতাম।

এবার বিষয়ভিত্তিক কিছু আলোচনা করি :

১) বাংলা ও ইংরেজি কোন কবি-সাহিত্যিক কি কি লিখেছেন সেগুলোতে বারবার চোখ বুলাতাম।

২) ইংরেজি Right form of verbs, Subject verb agreement, Clause, Transformation of sentence এবং বাংলায় বিভিন্ন ভাষার শব্দ, ভুল-শুদ্ধি, সন্ধি, প্রকৃতি-প্রত্যয়, সমার্থক-বিপরীতার্থক শব্দ- এগুলো বেশি করে পড়তাম।

৩) সত্যি বলতে বাংলা আর ইংরেজি এদুটোতে খুব ভাল করতে পারলেই প্রিলিতে পাশ হয়ে যায়।

৪) গণিতের ক্ষেত্রে কিভাবে উত্তরগুলো প্রশ্নে বসিয়ে দ্রুত আসল উত্তর বের কর যায় তার চেষ্টা করতাম। পুরাতন বছরে আসা অঙ্কগুলো প্রাকটিস করতাম। বিন্যাস-সমাবেশ, সম্ভাব্যতার অংক আগে না পারলে এখন আর করতাম না।

৫) অন্যান্য বিষয়ের জন্য গাইড বই পড়তাম আর প্রিলিতে বসার আগে কমপক্ষে ২টা ডাইজেস্ট অবশ্যই পড়ে যেতাম।

৬) পরীক্ষার ডেট পড়লে অন্তত ১৫-২০ দিন ৩-৪ ঘন্টা ব্যায় করে নিজেই একটা করে মডেল টেস্ট দিতাম। মডেল টেস্টের উত্তর মিলিয়ে নেবার পর ঐ প্রশ্নগুলোই আরেকটু ডিটেলস পড়তাম।

যেমন : IOM-এর সদর দপ্তর কোথায়?
১) রোম ২) জেনেভা ৩)ভিয়েনা ৪)লন্ডন

আমি যদি জেনেও থাকি সঠিক উত্তরটা, বাকি ৩ জাইগায় আর কিসের কিসের সদর দপ্তর আছে একটু পড়ে নিতাম। এভাবে পড়তে পারলে প্রিলিতে পাশ আর ঠেকায় কে!

৭) অনেককে দেখেছি পড়াশোনা করার চেয়ে বিসিএস’এর টিপস নিতে বেশি সময় ব্যয় করে! এদের সংগ এবং এ অভ্যাস দুইটায় বর্জনীয়। এর-ওর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে গেলে কনফিডেন্স বাড়ার বদলে কমে।

পরিশেষে বলব পরীক্ষার ২মাস আগেও প্রতিটা মিনিটেরও কত মূল্য তা কেবল বিসিএস পরীক্ষার্থীই বোঝে। যারা আপনার সময়ের মূল্য বোঝে না বরং সময় নষ্ট করে তাদের অবশ্যয় বর্জন করুন, পড়তে ভাল না লাগলে মায়ের কোলের মধ্যে গুটিসুটি মেরে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন অথবা ফোনে কথা বলুন কিংবা চিন্তা করুন আপনার ক্যাডার হওয়ার খবরটা যখন মাকে দেবেন তখন তার চেহারাটা!


নাজমুল আলম,
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (৩৫তম ব্যাচ)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নাটোর


ঢাকা, ২৬ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।