বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন (পর্ব-১)


Published: 2018-01-11 12:15:18 BdST, Updated: 2018-01-16 23:04:11 BdST

সুজন দেবনাথ : বিসিএসের জন্য লিখিত পরীক্ষাই হল সেই স্টেপ, যা আপনি চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। প্রিলি ভীষণ রিস্কি, আর ভাইভা অনেকটাই ভাগ্যের হাতে। তাই লিখিত পরীক্ষাকেই টার্গেট করতে হয়। এখানে যারা প্রথম দিকে থাকে, তারাই সফল হয়। পছন্দের ক্যাডার পেতে হলে আপনাকে একেবারে ১ম দিকে থাকতে হবে। অন্যদের পেছনে ফেলতে হবে। সেজন্য মূলমন্ত্র হলো – অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথগুলো খুঁজে বের করা। সেজন্য -

(১) প্রতিটা সাবজেক্টে নম্বর বাড়ানোর জন্য প্লান করুন। সাবজেক্ট অনুযায়ি আলাদা আলাদা প্লান লিখে ফেলুন। যারা রিটেন দিচ্ছেন, তারা সবাই ভালো, একটা মিনিমাম এভারেজ নম্বর সবাই পাবে। কিন্তু চেষ্টা করলে প্রতি বিষয়ে এভারেজ নম্বরের চেয়ে ৫-১০ এমনকি ২০ নম্বরও বাড়ানো সম্ভব। সেজন্য বিষয় ধরে ধরে প্লান করে সেটা বাস্তবায়ন করুন।

(২) রিটেনের উত্তরপত্র দেখবেন ওই বিষয়ের কোন শিক্ষক। তো আমার স্ট্রাটেজি হল – উত্তরে এমন কিছু থাকতে হবে যেন শিক্ষক মনে করেন, এটা তার সাবজেক্টের কোন স্টুডেন্টের খাতা। মানে খাতা দেখে বাংলার শিক্ষক ভাববেন -এতো বাংলার স্টুডেন্ট, ইংরেজির শিক্ষক ভাববেন –এ যে ইংরেজির স্টুডেন্ট, আবার বিজ্ঞানের শিক্ষকও ভাববেন –এ বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট না হয়ে যায় না। এই ধারণা যেই বিষয়ের শিক্ষককে দিতে পারবেন, অবশ্যই আপনি সেই বিষয়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাবেন। তো ভাবছেন যে, এতো ভয়ানক কঠিন কাজ!! সব সাবজেক্টে এটা করতে হলেতো এরিস্টোটল হওয়া লাগবে! না লাগবে না। আপনি মিস্টার সুমন বা মিজ সুমনা হয়েই প্রতিটি সাবজেক্টে এটা করতে পারবেন।

(৩) প্রতিটি বিষয়ের একটি করে গাইড (নতুন/পুরাতন গাইড, যে কোন প্রকাশনী) নিয়ে বসুন। প্রতিটি বিষয়ে সিলেবাস ভালো করে দেখুন আর গত ১০টা বিসিএসের রিটেন প্রশ্ন ভালো করে এনালাইসিস করুন। এটা অবশ্যই নিজে করবেন। তাতে কোনটি আপনার স্ট্রেংথ আর কোথায় উইকনেস সেটি ক্লিয়ার হবে।

(৪) প্রতিটি বিষয়ে কিছু সলিড নম্বরের জিনিস থাকে। যেমন ম্যাথ, গ্রামার, সংবিধান, বিজ্ঞানের কিছু জিনিস। আমরা ছোট বেলায় এগুলোকে বলতাম চাক্কা নাম্বার। প্রথমে সেই চাক্কা নাম্বারকে টার্গেট করুন। এই জায়গায় আপনি কারো থেকে পেছাবেন না, সেটা হলো টার্গেট। এই চাক্কা নাম্বারগুলোর জন্য বাজারের কয়েকটা গাইড দেখতে পারেন, কয়েকটা থেকে ফটোকপি করে একত্র করে নিন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারনেট থেকে লেটেস্ট তথ্য লিখে নিন।

(৫) এরপর বড় প্রশ্ন বা এনালাইটিক্যাল প্রশ্ন। এজন্য তিনটি বিষয়ঃ

(i) ভাষা বা উপস্থাপন (বাংলা এবং ইংরেজির জন্য সাহিত্যিক ভাষা অত্যন্ত জরুরী)
(ii) তথ্য (ডেটা, কোটেশন, সংজ্ঞা, মনিষীদের উদাহরণ, রিপোর্ট, সংবিধানের আর্টিকেল, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে টেকনিকাল শব্দ ও চিত্র)
(iii) প্রশ্নের একেবারে প্রাসঙ্গিক উত্তর।
এই তিনটি বিষয় দিয়ে এমনভাবে প্লান করুন যেন খাতা দেখে শিক্ষক ভাববেন - এতো আমার সাবজেক্টের স্টুডেন্ট। এই কাজটি করতে চেষ্টা লাগবে এবং চেষ্টা করলে অবশ্যই সম্ভব। এটা যেই সাবজেক্টে করতে পারবেন, সেই সাবজেক্টে আপনি অবশ্যই এগিয়ে যাবেন।

(৬) বাংলা, ইংরেজি, আন্তর্জাতিক, বাংলাদেশ এসব বিষয়ে যেসব বড় বড় প্রশ্ন বা রচনা থাকে, সেগুলোকে হেলাফেলা করবেন না। এগুলো নিয়ে আমরা নাক সিটকাই, এভাবে কি মেধা যাচাই হয়! কিন্তু সত্য হচ্ছে – পৃথিবীর সকল দেশের পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষায় এনালাইটিক্যাল বড় বড় প্রশ্ন থাকে। ভাষাজ্ঞান আর এনালাইসিস করার যোগ্যতা যাচাই করার জন্য এখনো মুক্তহাতে লেখার বিকল্প নেই। তাই এই বড় বড় প্রশ্ন বা রচনাকে গুরুত্ব দিন। মুখস্ত করার চেষ্টা করবেন না। টপিকটা বুঝে নিন, প্রথম বার রিডিং দিয়ে গাইডে দাগ দিয়ে ফেলুন। আর কিছু কিছু তথ্য লিখে ফেলুন। এগুলো মিলিয়ে নিজের মতো করেই উত্তর করতে হয়।

(৭) ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং (বাংলা এবং ইংরেজি) খুব জরুরী। ফ্রি হ্যান্ডে শুদ্ধ ইংরেজি লিখতে পারতে হবে। আর বাংলার ভাষাটা একটু ভালো হতে হবে।
সব সাবজেক্টের জন্য জেনারেল কথা এটাই। এরপর বিষয়ভিত্তিক লিখব।

অগ্রজের অগ্রিম শুভকামনা
সুজন দেবনাথ
First Secretary at Bangladesh Embassy in Athens - বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স and Senior Assistant Secretary at Ministry of Foreign Affairs, Bangladesh

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।