শেকৃবিতে ডিজিটাল লাইব্রেরি


Published: 2017-12-16 21:31:33 BdST, Updated: 2018-10-22 12:39:47 BdST

 

শেকৃবি লাইভ: এবার ডিজিটাল লাইব্রেরীর কাজ শুরু হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। এখানে সব ধরনের বই সংগ্রহ করা হয়েছে। মোবাইলে অ্যাপস ব্যবহার করা হয়।

এক্ষেত্রে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার যে কোনো বিষয়ে দেশি কিংবা বিদেশি বই খুব সহজেই পড়া যাবে। হাতের নাগালে পাওয়া যাবে পৃথিবীর যে কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রবন্ধের মূল কপি।

অ্যানালগ যুগের মতো শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড়িয়ে বই জমা দিতে হবে না। এমনকি বই চুরিও রোধ করা যাবে প্রযুক্তির সাহায্যে। বলছিলাম রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-লাইব্রেরি’র কথা।

শিক্ষা ও গবেষণার কাজকে ত্বরান্বিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মোবাইল সেট (অ্যান্ড্রয়েড) অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক এ লাইব্রেরি।

শিক্ষার্থীরা ওই লাইব্রেরি থেকে ৫ লাখ আর্টিকেল এবং ৩০ থেকে ৪০ হাজার জার্নাল পড়তে পারবেন। ডিজিটাল এ লাইব্রেরিতে আছে ১০ হাজার ই-বই এবং ৩২ হাজার বইয়ের হার্ড কপি।

এসব বই পড়া ও গবেষণার সুযোগ শুধু ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে ওই লাইব্রেরির বই পড়তে পারবেন।

ফলে একদিকে যেমন তারা সহজে নানা ধরনের পছন্দের বই হাতের নাগালে পাবেন, অন্যদিকে বই কেনার অর্থও সাশ্রয় হবে।

লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এতে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে TEEAL (The Esential Electronic Agricultural Library) নামের একটি সফটওয়্যার।

এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ৫ লাখ আর্টিকেল শিক্ষার্থীরা পড়তে পারবেন। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম জার্নাল আর্কাইভ (Jstor) জেস্টর। এ থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার জার্নাল পড়তে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, প্রথমবারের মতো এ লাইব্রেরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘সাউ এল পিকেবি হার্বেস্টার সিস্টেম’ যা ব্যবহার করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর যে কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রবন্ধের মূল কপি পাবেন।

এছাড়া লাইব্রেরিতে স্থাপন করা হয়েছে অটোমেটেড বুক ড্রপার সিস্টেম যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অ্যানালগ যুগের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে বই জমা না দিয়ে অটোমেটেড মেশিনে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে বই জমা দিতে পারবেন।

বই চুরি রোধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ লাইব্রেরিতে ব্যবহার করা হয়েছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টেফিকেশন সিস্টেম।

দেশের কৃষি শিক্ষার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে ১৯৩৮ সালে যাত্রা শুরু করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যাত্রার শুরুতেই এ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি হিসেবে পরিচিতি পায়। লাইব্রেরিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশেই অবস্থিত।

লাইব্রেরি সূত্রে জানা যায়, ই-লাইব্রেরি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা ধরনের সফটওয়ার। এখান থেকে বই পড়ার জন্য অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ww w.saulibrary.edu.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

এতে কৃষি সম্পর্কিত ও অন্য যে কোনো প্রয়োজনীয় বই, জার্নাল, আর্টিকেল পড়তে পারবেন শিক্ষার্থীরা। যেসব বই, জার্নাল ও আর্টিকেল ইন্টারনেট থেকে টাকা পরিশোধ করে পড়তে হয়, এমন বইও অত্যাধুনিক এ ই-লাইব্রেরি থেকে বিনামূল্যে পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বই পড়ার জন্য লাইব্রেরিয়ান বরাবর ই-মেইল (librarian-sau.edu.bd) প্রেরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুহূর্তেই তাদের প্রয়োজনীয় বইটি পেয়ে যাবেন।

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।