কে পাচ্ছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল!


Published: 2018-07-14 15:44:10 BdST, Updated: 2018-08-18 09:12:12 BdST

স্পোর্টস লাইভ: বিশ্বকাপের সেরা আকর্ষণ ‘গোল্ডেন বল’। কে হবেন এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়? ফাইনালের আগে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম বললে প্রথমেই আসতে পারে ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক লুকা মদরিচের নাম।

কেউ কেউ হয়তো ভাবতে শুরু করেছে ফ্রান্সের উঠতি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম। বেলজিয়ান দলপতি ইডেন হ্যাজার্ড ও ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনও কম খেলেননিই বিশ্বকাপে তাকেও বাদ দেওয়া যাচ্ছেনা সম্ভাব্য তালিকা থেকে।

বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে ফিফার টেকনিক্যাল কমিটি। নির্বাচিত সাংবাদিকদের ভোটে চূড়ান্ত হয় গোল্ডেন বল বিজয়ীর নাম। কার হাতে উঠছে এবারের গোল্ডেন বল?

লুকা মদরিচ: বিশ্বকাপ ইতিহাসে ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবার ফাইনালে তোলার মূল কারিগর লুকা মদরিচ। সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে মদরিচের দল। ক্রোয়াটদের হৃদস্পন্দন ৩২ বছর বয়সী মদরিচ। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে চমৎকার পারফরম্যান্সে ফুটবলবোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ প্লে-মেকার।

আসরে দুইটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন মদরিচ। রিয়ালের হয়ে হ্যাটট্রিক ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের পর স্বপ্নের মতো বিশ্বকাপ কাটছে তার। শিরোপা জয় থেকে আর একটি জয় দূরে মদরিচের ক্রোয়েশিয়া। রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বল’ পাওয়ার অন্যতম দাবিদার নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার লুকা মদরিচ।

কিলিয়ান এমবাপ্পে: ১৯ বছরের তরুণ এমবাপ্পের হাতে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ফ্রান্সের আক্রমণভাগের ভরসার প্রতীক সম্ভাবনাময় এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গতির ঝড় তুলে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দেন এমবাপ্পে।

জোড়া গোলে লিওনেল মেসিকে আড়াল করে পুরো বিশ্বের মনোযোগ কাড়েন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ে ও সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল না পেলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতির সঞ্চার করেন এমবাপ্পে। ফাইনালে জ্বলে উঠলে এমবাপ্পের গোল্ডেন বল পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। আগের দুই ম্যাচে গোল না পাওয়ায় ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের রেসে পিছিয়ে গেছেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) তারকা এমবাপ্পে। তার নামের পাশে ৩ গোল।

ইডেন হ্যাজার্ড: বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মকে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যেতে পারেননি ইডেন হ্যাজার্ড। ফ্রান্সের রক্ষণ দুর্গে আটকে যান। দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে আসতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেন হ্যাজার্ড।

পুরো আসরে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দেন চেলসি উইঙ্গার। আসরে নিজে দুই গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরো দুইটি গোল করিয়েছেন হ্যাজার্ড। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার লড়াইয়ে হ্যাজার্ডকে উপরের সারিতেই রাখতে হবে।

হ্যারি কেইন: ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডকে প্রথমবার সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হ্যারি কেইন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ফাইনালের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয় ইংলিশরা। ৬ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে চালকের আসনে কেইন।

তাকে স্পর্শ করতে হলে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করতে হবে এমবাপ্পেকে। ফ্রান্সের আরেক তারকা আন্তোইন গ্রিজম্যানও ৩ গোল করেছেন। ক্রোয়েশিয়ার কারো ২ গোলের বেশি নেই। গোল্ডেন বুট জয়ের রেসে থাকা কেইনের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে সেমিতে বাদ পড়ায়।

চ্যাম্পিয়ন দলের কেউই যে গোল্ডেন বল জিতবেন তা বলার সুযোগ নেই। বিগত কয়েকটি আসরে সেই চিত্রই দেখা গেছে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও ‘গোল্ডেন বল’ ট্রফি ওঠে মেসির হাতে।

মূল লড়াইটা হতে পারে মদরিচ ও এমবাপ্পের মধ্যে। চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর বেলজিয়ামকে প্রথমবার সেমিফাইনালে তোলা হ্যাজার্ড। ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কারের প্রবর্তন ১৯৮২ বিশ্বকাপে। প্রতি বিশ্বকাপ শেষেই সেরা ফুটবলার নির্বাচন করা হলেও প্রথম ১১টি আসরে ছিল না কোনো পুরস্কার।

 


ঢাকা, ১৪ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।