বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবে বাংলাদেশি রাফি


Published: 2018-04-16 14:33:08 BdST, Updated: 2018-12-14 12:06:06 BdST

স্পোর্টস লাইভ: বশির উদ্দিন রতন আর মেহবুবা রতন নারায়নগঞ্জের গর্বিত দম্পতির ঘর যেন আলোকিত করে যাচ্ছে গোলাম রাব্বি আর গোলাম রাফি। রাব্বি-রাফি মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে মাহবুবা রতনের কোলজুড়ে এসেছিল সুন্দর এই পৃথিবীতে। রাশিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। আর এই বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ২১১ দেশের খুদে ফুটবলারদের নিয়ে ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে।

আর সেই ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে এই খুদে ফুটবলার রাফি। একই অনুষ্ঠানে রাব্বি গিয়েছিল গত বছর। রাফির জন্য বাড়তি উপহার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে বসে আরো ১১০টি দেশের খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যেকার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবে নারায়নগঞ্জের মদনগঞ্জ হাজী আলম চান উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র গোলাম রাফি।

২১১ দেশর খুদে ফুটবলাররা থাকলেও খেলবে ৬৪ দেশের ফুটবলাররা। এ ৬৪ দেশের মধ্যে আছে বাংলাদেশও। ৭ জুন রাফিকে নিয়ে রাশিয়া যাবেন বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য হারুনুর রশিদ।

গত বছর রাব্বি যখন রাশিয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তখন খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল তাদের বাসায়। এবারও তাই। ছেলেদের এমন অর্জনে বাবা-মা যেন খুশিতে আত্মহারা।

‘এটা কেবল আমার সুনাম নয়, সবার। পুরো দেশের হয়ে রাফি যাবে রাশিয়ায়। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই, যাতে ওখানে গিয়ে সে দেশের সম্মান রক্ষা করতে পারে। খবর জানার পর থেকেই ওর মা রাফিকে অনেক কিছু শেখাচ্ছেন। যেমন শিখিয়েছিলেন আগেরবার রাব্বিকে। আমি ওদের নিয়ে অনেক কষ্ট করছি। আল্লাহ তারই ফল দিচ্ছেন আমাকে’-নারায়নগঞ্জের বাসা থেকে বলছিলেন রাফির বাবা বশির উদ্দিন রতন।

কী করেন আপনি? রাফির বাবার জবাব, ‘কিছু করি না, বেকার। ২৮ বছর বিদেশে ছিলাম। প্রথম ৫ বছর মালয়েশিয়ায়, পরের ২৩ বছর সৌদি আরবে। যখন ছুটিতে আসতাম তখন অনেকে বলতেন, এবার দেশে থাকো। সন্তানদের প্রতি নজর দাও। ২৩ বছর থাকার পর ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আমি সৌদি থেকে একেবারে চলে এসেছি। আমার রাব্বি ও রাফি দুই জনই ভালো ফুটবল খেলে। এখন ওরাই আমার সব স্বপ্ন।’

বয়স কেবল ১২ বছর পার হয়েছে। এ বয়সের ছেলেরা পড়া শুনার চেয়ে বরং খেলাধুলাতে বেশি মগ্ন থাকে। রাব্বিরা দুই ভাইও তাই। রাফি রাশিয়ার জন্য মনোনীত হওয়ার পর ইংরেজি শিখছে তারই স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে, ‘আমি স্কুলের শান্তি ম্যাডামের কাছে ইংরেজি শিখছি। রাব্বিও আমাকে শেখাচ্ছে।

ওতো রাশিয়া ঘুরে এসেছে। তাই অনেক কিছু জানে। রাশিয়া কেমন দেশ, ওখানকার মানুষ কেমন, আমাকে কী করতে হবে- এসব শিখছি রাব্বির কাছ থেকে’-প্রতিক্রিয়া গোলাম রাফির।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে দেখবা। কখনো ভেবেছিলে? ‘না। কখনো ভাবিনি। আমি ব্রাজিল বিশ্বকাপের খেলা টিভিতে দেখেছি। আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। এবার স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ দেখবো। জেনে অনেক ভালো লাগছে’-বলছিল ভাগ্যবান খুদে ফুটবলার রাফি।

আগেরবার যখন রাব্বি রাশিয়া গিয়েছিল তখন রাফির বায়না ছিল সেখান থেকে তার জন্য বুট, জার্সি আর ট্র্যাকস্যুট আনতে হবে। রাব্বি কী বুট-জার্সি আর ট্র্যাকস্যুট এনেছিল? ‘না। রাব্বি আমার জন্য ওসব আনতে পারেনি’-জবাব রাফির। এবার কী রাব্বি কিছু আনতে বলছে? ‘না’ উত্তর দিলো তার ৩ মিনিটের ছোট ভাই, ‘না, সে কিছু আনতে বলছে না। শুধু বলছে ভালো করে খেলবি।’

নির্বাচিত হওয়ার পর রাফি প্রতিদিন রাশিয়ার গল্প শোনে রাব্বির কাছ থেকে। তো রাব্বি কী কী বলছে রশিয়া নিয়ে? ‘রাব্বি বলছে সেখানে সব সময় খেয়াল করে চলতে। কারণ, ওখানে অনেক কিছু আমি বুঝবো না। যেমন রাত ১২টায় নাকি সকাল হয়। আবার সকালে থাকে রাত এসব বাংলাদেশ আর রাশিয়ার সময়ের ব্যবধান বুঝাতে গিয়ে ছোট ভাইকে এসব বলেছে রাব্বি।


ঢাকা, ১৬ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।