নবাব পরিবার সত্যিই কি জমি দিয়েছিল?শতবর্ষেও ঢাবির ভূসম্পত্তির কুল-কিনারা হয়নি


Published: 2021-08-04 14:56:34 BdST, Updated: 2021-09-27 11:08:42 BdST

সাব্বির নেওয়াজ ও মাজহারুল ইসলাম রবিন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সূচিত হয় পূর্ববঙ্গবাসীর নবজাগরণের সোনালি অধ্যায়। পূর্ববঙ্গে উচ্চ শিক্ষার প্রসার থেকে শুরু করে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা রেখেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে নিরন্তর বিতর্ক ও যুক্তি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে, পাশাপাশি কলকাতাকেন্দ্রিক একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীর বিরোধিতাকে খণ্ডন করে প্রতিষ্ঠা করা হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়।

অনেক দীর্ঘ এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস- যার বিভিন্ন তথ্যআকর কালের আবর্তে চাপা পড়তে শুরু করায় অনেক জনশ্রুতি এবং বিতর্কও দেখা দিতে শুরু করেছে। তেমনি একটি প্রসঙ্গ- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। শতবর্ষের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এ বিতর্ক দানা বেঁধে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূসম্পত্তি নিয়ে প্রচলিত জনশ্রুতি হলো- নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৬০০ একর জমি দান করেছিলেন।

যদিও এর ঐতিহাসিক কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। এই জনশ্রুতির বিপরীতে গবেষকদের তথ্যভিত্তিক অভিমতটি হলো- দান করার মতো জমি তখন নওয়াব পরিবারের ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তা মূলত খাস জমি। সরকারই এ জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কিছু জমি এক সময় নবাব এস্টেটের সম্পত্তি ছিল। পরে তা ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায়।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরানো ভবন

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পরে শিক্ষক, বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর জমির ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন বটে; কিন্তু তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে নবাব পরিবারের সম্পত্তি সরকারের কাছে চলে যায়। অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী তার বক্তব্যের সমর্থনে এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম সম্পাদিত 'বাংলাদেশের ইতিহাস' প্রথম খণ্ড ও শেখ মাসুম কামাল রচিত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে রাজনীতি ও তৎকালীন বঙ্গীয় সমাজ' বই দুটির রেফারেন্স দেন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ছয় বছর আগে অর্থাৎ ১৯১৫ সালে মারা যান খাজা সলিমুল্লাহ। তার মৃত্যুর আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অবশ্য এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আলোচনার সময় নবাব সলিমুল্লাহর ভূমিকার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার পর ১৯১১ সালে এ পরিকল্পনা রদ করা হয়। পরের বছর ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

যদিও এর তিন বছর পর ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশন ইতিবাচক মত দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভা 'দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং ১৩) ১৯২০' পাস করে। এটিই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানের জমির মালিকানা নিয়ে খানিকটা কথোপকথন রয়েছে সরদার ফজলুল করিম রচিত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ :অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর আলাপচারিতা ও অন্যান্য' শীর্ষক বইয়ের ১৬ এবং ১৭ পৃষ্ঠায়। সরদার ফজলুল করিম জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে প্রশ্ন করেছিলেন, 'স্যার, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান ছাত্রদের প্রথম ছাত্রাবাসের নাম যে সলিমুল্লাহ হল রাখা হলো, এর কারণ কী? এতে নওয়াব পরিবারের কি কোনো আর্থিক কনট্রিবিউশন ছিল?'

এ প্রশ্নের উত্তরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, 'আদৌ কোনো কনট্রিবিউশন ছিল না। আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী লেখাপড়ায় ব্রিলিয়ান্ট ছিল। তারা আহসান মঞ্জিলের টাকায় লেখাপড়া শিখেছে। তারা সলিমুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করত। ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রায় ১০ বছর পরে তার একটা মৃত্যুবার্ষিকীতে তার নামে একটা ছাত্রাবাস করার প্রস্তাব তারা করেন।' জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'কোনো মুসলমান ধনীর কাছ থেকেই ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডাইরেক্টলি কোনো ফাইন্যান্সিয়াল কনট্রিবিউশন পায় নাই। কথা ছিল গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া ঢাকা ইউনিভার্সিটি করবে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই কার্জন হল

 

সেই জন্য ১৯১০ থেকে কিছু টাকা ইন্ডিয়া গভর্নমেন্ট আলাদা করে রাখত। ১৯২০-২১-এ এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ লক্ষ। কিন্তু এই ৬০ লক্ষ টাকা বেঙ্গল গভর্নমেন্ট ডিড নট গিভ টু দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি। তারা সে টাকাটা পুরো নিয়ে নিল। সলিমুল্লাহ হল যে তৈরি হলো, তা পুরোই সরকারের টাকায়। নওয়াব পরিবারের টাকায় নয়; নওয়াব পরিবারের জায়গাতেও নয়।' অধ্যাপক রাজ্জাক বলেন, 'রমনার যে জায়গায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি- এর পুরাই খাসমহল, সরকারের জমি। সেটলমেন্ট রিপোর্ট-এ তাই আছে। বরঞ্চ লাখেরাজ সম্পত্তি বললে রমনা কালীবাড়িকে বলা যায়। ঢাকা শহরে লাখেরাজ সম্পত্তি কী, এ নিয়ে আলোচনা চলেছে ১৮১৫ কি ১৮২০ সাল থেকে।

ঢাকার নওয়াবদের জমিজমা এসেছে প্রধানত একটি সূত্র থেকে। ঢাকার স্থানীয় মুসলমানরা মৃত্যুর সময়ে কোন কোন সম্পত্তি নওয়াব আবদুল গনি ও আহসানউল্লাহকে ওয়াকফ করে দিয়ে যেত। ঢাকার নওয়াবদের জমির উৎস এই। তাও বেশি কিছু জায়গাজমি নয়। এটার ভেরিফিকেশন তো সোজা। যে কেউ ইন্টারেস্টেড, সে ঢাকা কালেক্টরেটে যেয়ে দেখে আসতে পারেন। কাজেই নওয়াব পরিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জমি দিবে, এমন জমি কোথায় ছিল? আহসান মঞ্জিলের কোন জমি ছিল না।'

অবশ্য গবেষক, কলামিস্ট এবং লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ রচিত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা' বইয়ে এ সম্পর্কিত জনশ্রুতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বইটির ৮২ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, 'রমনা নিউ টাউনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব হতেই তার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ তাদের নবাব এস্টেটের জমি দান করার অঙ্গীকার করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি তাঁদের ৬০০ একর জমি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

রমনায় প্রধানত তাদের জমিতেই এবং সরকারি ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। যেমন কার্জন হল, পুরোনো ঢাকা কলেজ (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের পুরোনো সাদা বাড়ি), ঢাকা মেডিকেল কলেজের মূল ভবন প্রভৃতি। পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনের সময় এসব ও অন্যান্য যেসব ইমারত নির্মাণ করা হয়, সেগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। গুলিস্তান থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত এক হাজার ৮৩৯ বিঘা জমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।'

বইয়ের পরের পৃষ্ঠায় বলা হয়, '১৯৩৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরকারের জমিসংক্রান্ত আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেক্রেটারি অব ইন্ডিয়া ইন কাউন্সিল এম এ স্টুয়ার্ট এবং উপাচার্য স্যার এ এফ রহমান সেই চুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন। দলিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে ২৫৭.৭০ একর জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। তবে দলিল রেজিস্ট্রির বাইরে নবাবদের দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৩০০ একর জমি ছিল। তার বেশিরভাগই পরে ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে যায়।'

সৈয়দ আবুল মকসুদের এই বক্তব্যকে খণ্ডন করতে গিয়ে শেখ মাসুম কামাল তার রচিত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে রাজনীতি ও তৎকালীন বঙ্গীয় সমাজ' বইয়ে লিখেছেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বহুল প্রচারিত একটি মিথের অবসান ঘটানো দরকার। কথায় কথায় অনেকেই বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নবাব স্যার সলিমুল্লাহ জমি প্রদান করেছিলেন, অথবা জমি প্রদানের অঙ্গীকার করেছিলেন। যে কথাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, প্রতিশ্রুতি প্রদান এবং তার বাস্তবায়ন এক জিনিস নয়।'

আবুল মকসুদের বক্তব্য বিশ্নেষণ করে তিনি বলেন, 'এই বক্তব্য খুব সরল অঙ্কে বিশ্নেষণ করলে যেটা দাঁড়ায় তার অর্থ হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নবাব স্যার সলিমুল্লাহ জমি দান করতে অঙ্গীকার করেছিলেন। লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদের দাবির ভিত্তি সম্ভবত জনশ্রুতিরই অংশ। জনশ্রুতিকেই ইতিহাসের আঙিনায় টেনে আনা হলো! লেখক কোত্থেকে এই তথ্য পেয়েছেন তার কোনো সূত্র তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।'

নবাব আহসানউল্লাহর মৃত্যুর পর নবাব পরিবারের তোষাখানা ছিল প্রায় শূন্য এবং জমিদারির ঋণের বোঝা ছিল অনেক। ফলে নবাবদের পক্ষে জমি দান করা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায়। ঢাকা এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে ২০০৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ 'বাংলাদেশের ইতিহাস'-এর প্রথম খণ্ডে বলা হয়, 'নবাব আহসানউল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পারিবারিক সম্পত্তি তাঁর আট সন্তান এবং বিধবা স্ত্রীর মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। একজন ইংরেজ ম্যানেজার ১৯০৪ সাল পর্যন্ত পুরো পরিবারের পক্ষে এ জমিদারি পরিচালনা করেন।

এরপর নবাব সলিমুল্লাহ নিজেই এস্টেট পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ ম্যানেজার হিসেবে তাঁর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং এ পারিবারিক বিবাদ জটিল রূপ ধারণ করে। বাংলার সরকার তখন ঢাকায় নতুন প্রাদেশিক রাজধানী স্থাপনের পরিকল্পনা নিচ্ছিল। এ মাসগুলিতে সরকার নবাব পরিবারের ঐক্য রক্ষার জন্য হস্তক্ষেপ করে। জমিদারির অংশীদারগণ আরেকজন ইংরেজ ম্যানেজার নিয়োগে রাজি হন। ১৯০৫ সালের মে মাসে কর্নেল জে. হোডিং যখন জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন এর তোষাখানা ছিল প্রায় শূন্য এবং জমিদারির ঋণের বোঝা ছিল প্রায় ৩,০০,০০০ টাকা।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তোরণ

 

ভূমিরাজস্ব এবং সেস্‌ হিসাব করে সরকার এই জমিদারির বাৎসরিক সম্পদ নির্ধারণ করে ১১,৫৯,৪৪১ টাকা। তবে নবাব সলিমুল্লাহর ব্যক্তিগত ঋণ ছিল জমিদারির তুলনায় আরও অনেক বেশি। যদিও জমিদারিতে নবাব সলিমুল্লাহর অংশ ছিল মোট ষোলভাগের তিনভাগেরও কম, তাঁর বিপুল ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬,২৫,০০০ হাজার টাকা। ১৯০৬ সালের নভেম্বর মাসে সরকারের কাছে প্রেরিত একটি রিপোর্টে উলেল্গখ করা হয় যে, নেতৃস্থানীয় হিন্দু রাজনীতিকগণ নবাবের ঋণদাতাদের উৎসাহিত করছিল 'তাদের ঋণ ফেরৎ চেয়ে নবাবের উপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য'।

পূর্ববাংলা ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের পক্ষে তাঁদের প্রধান সমর্থকের এ দেউলিয়া অবস্থা এবং তাঁর জমিদারি হারানোর সম্ভাবনা মেনে নেয়া কষ্টকর ছিল। সুতরাং সরকার সম্পূর্ণ অর্থ বার্ষিক শতকরা তিন এবং সাড়ে তিন টাকা হারে 'কোর্ট অব ওয়ার্ডস'-এর মাধ্যমে নবাবকে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করে।'

অন্যদিকে, ১৯১২ সালে নাথান কমিটির রিপোর্টের মূল বক্তব্য হলো- '১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পূর্বে ১৯০৫ সাল থেকে শুরু করে যে ক'বছর ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল, তখন রমনায় অনেক খালি জমি ছিল, যেখানে নতুন রাজধানী শহরের অবকাঠামো নির্মিত হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, এবং ভবিষ্যতে ওই স্থানে আরো স্থাপনা নির্মিত হবে বলে বিবেচনাধীন ছিল। সরকারের সম্মতি থাকলে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সমীচীন।' মোটা দাগে এই মর্মে কমিটি সুপারিশ প্রদান করেছিল।

জমির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সাবেক এক ম্যানেজার জানান, নবাব সলিমুল্লাহ মৌখিকভাবে ৬০০ একর জমি দান করেছিলেন। তবে এর কোনো লিখিত দলিল নেই। এস্টেট অফিসের বর্তমান ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তাফার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তথ্য দিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি বইপত্রে পড়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬০০ একর জমি নবাব সলিমুল্লাহ দিয়েছেন। আদৌ দিয়েছিলেন কিনা, তা গবেষণার একটি ভালো বিষয় হতে পারে। উপাচার্য জানান, বাস্তবে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৫ একর ভূমি আছে। 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূসম্পত্তি বেহাত হয়েছে কিনা'- এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, 'হয়ে থাকতে পারে। বিস্তর গবেষণা করা হলে সব তথ্যই উঠে আসবে।'

সমকালের সৌজন্যে

ঢাকা, ০৪ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিটিএমডি

 

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।