সরকারী ডিগ্রী কলেজে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ


Published: 2021-02-25 19:24:03 BdST, Updated: 2021-04-21 10:06:33 BdST

বরগুরা লাইভঃ আমতলী সরকারী কলেজের ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের ফরম পুরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় ফরম পুরণের শেষ দিনেও অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরন করতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

জানাগেছে, আমতলী সরকারী কলেজের ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষে এ বছর সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। জাতীয় বিশবিদ্যালয় গত ২৩ জানুয়ারী থেকে ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষে ফরম পুরণের জন্য তারিখ ঘোষনা করে।

গত এক মাস যাবৎ ফরম পূরনের কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার এ ফরম পূরনের শেষ দিন। জাতীয় বিশবিদ্যালয় ফরমপূরন বাবদ ১ হাজার ৪’শ টাকা ও কেন্দ্র ফি বাবদ ৪’শ ৫০ টাকাসহ মোট এক হাজার ৯’শ ৫০ টাকা নির্ধারন করে। কিন্তু জাতীয় বিশবিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বিভিন্ন খাত দেখিয়ে দ্বিগুন ফি অর্থাৎ ৪ হাজার ৪’শ ২০ টাকা আদায় করছেন।

মঙ্গলবার ফরম পূরনের শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা তাদের ধার্যকৃত টাকা কমানোর জন্য কলেজের অফিস কক্ষে এসে অধ্যক্ষের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও তার দেখা পাননি। অধ্যক্ষ বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে কলেজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

খোজ নিয়ে জানাগেছে, ফরম পূরনের শেষ দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই’শ ৪৭ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরন করেছে। এখনো অন্তত এক’শ শিক্ষার্থীর ফরম পূরন করতে পারেনি।

ফরম পূরনে আসা ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মিরাজ হাওলাদার বলেন, ফরম পূরন বাবদ আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ৪ হাজার ৪’শ ২০ টাকা ধার্য্য করেছেন। যেখানে অন্য সকল বে-সরকারী কলেজে নিচ্ছে মাত্র দুই হাজার দুই’শ টাকা।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অভাব অনাটনের কারনে এতো দিন ফরম পূরন করতে পারিনি। ফরম পূরনের শেষ দিনে টাকা কমানোর জন্য অধ্যক্ষের কাছে এসেছি কিন্তু তিনি অফিসে আসেননি। এতো টাকা দিয়ে ফরম পুরন করতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরম পূরন করতে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান ফরম পুরনে ৪ হাজার ৪’শ ২০ টাকা ধার্য্য করেছেন।

ওই একই বর্ষের ফরম পুরণে অন্য সকল বে-সরকারী কলেজে দুই হাজার দুই’শ টাকা ধার্য্য করেছে। করোনাকালীন সময়ে ওই পরিমান টাকা দিয়ে ফরম পূরন খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তারা আরো বলেন, ফরম পূরনে দ্বিগুন টাকা ধার্য্য করে অধ্যক্ষ অফিসে না এসে গা ঢাকা দিয়ে বেরাচ্ছেন। টাকা কমানোর জন্য আমরা তার অপেক্ষায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্ত ফরম পূরনের সময় চলে গেলেও তিনি কলেজে আসেনি।

ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, যেখানে সরকারী কলেজে কম টাকা নেয়ার কথা সেখানে তারা বে-সরকারী কলেজের চেয়ে দ্বিগুন বেশী টাকা আদায় করছে। এ বিষয়ে তারা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আমতলী সরকারী কলেজের ডিগ্রী তৃর্তীয় বর্ষের ফরম পূরণ কমিটির সদস্য মো. শাহজাহান ফারুক বলেন, সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থীর মধ্যে এ পর্যন্ত দুই’শ ৪৭ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরন করেছে।

আরো কিছু শিক্ষার্থী ফরম পূরন করতে পারে। ফরম পূরনে শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি অধ্যক্ষ ভালো বলতে পারবেন।

আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বলেন, ফরম পূরনে নিয়ম মাফিক টাকা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কোন টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেডআইএম//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।