মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের প্রিন্সিপালের এমপিও বাতিল হচ্ছে!


Published: 2019-10-10 20:49:35 BdST, Updated: 2019-10-19 03:53:43 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ অবশেষে ফেঁসে যাচ্ছে প্রিন্সিপাল। তার হয়তো শেষ রক্ষা আর হচ্ছেনা। তার মাথার ওপর থেকে গডফাদাররা হাত তুলে নিয়েছেন। বলেছেন, একটু বেশীই করেছেন তিনি। বলছি রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ড. শাহান আরা বেগমের ব্যাপারে।

জানাগেছে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাতিল হচ্ছে তার এমপিও। ১০ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রিন্সিপালের এমপিও বাতিলে কারণ দর্শাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) চিঠি দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, উপ-সচিব মো. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত মাউশির মহাপরিচালকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ড. শাহান আরা বেগমের বিরুদ্ধে মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখায় ২০১৮ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এমতাবস্থায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ ১৮ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগমের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা এবং কেন তার এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে মর্মে তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. সরকার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার চিঠি এখন পর্যন্ত পাইনি। চিঠি পেলে কারণ দর্শানো হবে।’
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা ২০১৭ সালের ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা শেষে শিক্ষকরা উত্তরপত্র অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগমের কাছে জমা দেন। এরপর অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক আ. ছালাম খান, অফিস সহকারী দীপা, কবির, আতিক ও ছালাম খানের ভাই আতিক ছয়জন মিলে তাদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের খাতা আলাদা করেন।

শাহান আরা বেগম, ছালাম খান ও দীপা রাবার দিয়ে ভুল উত্তর মুছে নিজেরাই সঠিক উত্তর লিখেন। এভাবে প্রতিষ্ঠানটির মূল শাখা, বনশ্রী ও মুগদা শাখার অন্তত ১০০ শিক্ষার্থীর খাতা জালিয়াতি করে পছন্দের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়। সবচেয়ে বেশি জালিয়াতি করা হয়েছে মূল ক্যাম্পাসের বাংলা মাধ্যমের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের খাতায়।

জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি করে অন্তত তিন কোটি টাকা এই চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন। পরে বঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মন্ত্রণালয় ঢাকা জেলার ডিসিকে এবং মাউশি ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ ইউসুফকে দিয়ে তদন্ত করান। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পান তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গত ৮ আগস্ট প্রতিবেদনটি জমা দেন ডিসি। প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে অধ্যক্ষকে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণ জানতে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবর দুই দফা চিঠি দেয়া হয় অধ্যক্ষকে। তাও পাত্তা দেননি প্রিন্সিপাল ।

বাধ্য হয়ে তৃতীয় দফায় ব্যাখ্যা চেয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর তৃতীয় দফা জবাব চেয়ে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। জবাবে প্রিন্সিপাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল শাহান আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ আমি আর কোন কথা বলতে চাইনা।

ঢাকা, ১০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।