ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা গঠনতান্ত্রিক নেত্রীর কাছে যাবেন


Published: 2019-06-18 18:12:41 BdST, Updated: 2019-07-24 07:21:04 BdST

ঢাবি লাইভ: নতুন কর্মসূচী দিয়েছেন পদবঞ্চিতর। ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের দাবী তারা যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ দাবী আদায়ে তাদের কেউ পিছপা হবেন না। ওই দাবী বাস্তবায়নের স্বার্থে তারা ছাত্রলীগের গঠনতান্ত্রিক নেত্রীর কাছে যাবেন। দেবেন একটি স্মারকলিপি।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কামনাসহ পদবঞ্চিতদের উপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও বিতর্কিতদের অপসারণ করে ত্যাগীকর্মীদের মূল্যায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দিবেন তারা। রাজু ভাস্কর্যের সামনে টানা অবস্থান করছেন পদবিঞ্চতরা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ায় তারা বেশ কিছুদিন ধরে এই কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রলীগে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পদবঞ্চিতদের এই কর্মসূচির মুখপাত্র ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে এখানে (রাজু ভাস্কর্যে) মানবেতর জীবনযাপন করছি। অথচ আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। ছাত্রলীগের গত মাসে (১৩ মে) কমিটি দেওয়ার পর থেকে একমাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আমরা ৯৯ জন বিতর্কিত নেতার তালিকা দিলেও ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২৮ মে রাতে বিতর্কিত মাত্র ১৯ জনকে বহিষ্কার করেন। কিন্তু তারা কাদের বহিষ্কার করেছেন, তাও জানাননি। আমাদের পদ-পদবি মুখ্য নয়, আমরা ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করতে চাই।’ এসময় তিনি পদবঞ্চিদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।চারদফা দাবিগুলো হলো-

১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ কামনা।
২. ছাত্রলীগ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি থেকে বিতর্কিত যে ১৯ জনকে বহিষ্কার করেছে অবিলম্বে তাদের পদসহ নাম প্রকাশ করা।
৩. বিতর্কিত কমিটি থেকে বহিষ্কৃত শূন্যপদে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের থেকে যোগ্যতার বিচারে ও ত্যাগী নেতাদের পদায়ন করা।
৪. মধুর ক্যানটিন ও টিএসসিতে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার করা।

এসময় ছাত্রলীগের জহুরুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান বলেন, নতুন একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছাত্রলীগে এই সংকট তৈরি করা হয়েছে। আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৯ জন বিতর্কিতের পদ শুন্য ঘোষণা করেছিলেন।

কিন্তু তাদের নাম পদ প্রকাশ করেননি। এই কানামাছি খেলার মাধ্যমেই ছাত্রলীগে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর কতদিন এখানে বসিয়ে রেখে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে? কার স্বার্থ চরিত্রার্থ করার জন্য তারা আমাদের এখানে বসিয়ে রাখছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় সম্মেলনের প্রায় এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকেই ওই কমিটিকে বিতর্কিত বলে তা পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন পদবঞ্চিতরা।

তাদের অভিযোগ, বিবাহিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ নানা অভিযুক্ত অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বঞ্চিত করা হয়েছে ত্যাগী অনেক নেতাকে।

বিক্ষুব্ধদের আন্দোলনের মুখে গত ১৯ মে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিত ১৭ জনের নাম প্রকাশ করেন। তাদের নির্দোষ প্রমাণেরও সুযোগ দেন। গত ২৮ মে বিদ্রোহীদের তোপের মুখে বিতর্কিত ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেটা শুভংকরের ফাঁকি বলে ঘোষণা দেন তারা।

এরপর ২৯ মে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা হলে ফের অবস্থানে ফেরেন বিক্ষুব্ধরা। তাদের দাবি- আগে বিতর্কিত সবাইকে সরাতে হবে, তারপরই যেন কর্মসূচি নেওয়া হয়। গত ২৬ মে রাত থেকেই রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবি মানা না হলে অনশন কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেন তারা।

ঢাকা, ১৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।