শেকৃবিতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ভিসির বিরুদ্ধে


Published: 2019-03-14 17:37:42 BdST, Updated: 2019-05-25 09:39:34 BdST

শেকৃবি লাইভ: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের বিরুদ্ধে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসে ভিসির বিরুদ্ধে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে অপেক্ষমান রাখা হয়েছে আরও ২১ জনকে। বিজ্ঞাপিত চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, অপেক্ষাকৃত বেশি রেজাল্টধারীদের বঞ্চিত করে কম রেজাল্টধারীদের নিয়োগ, মাস্টার্স সম্পন্ন করা প্রার্থী বাদ দিয়ে স্নাতক সনদধারীদের নিয়োগসহ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর শেকৃবির চারটি অনুষদে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও লেকচারার পদে ৭৫ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিভিন্ন বিভাগের মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ১০১ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদান করা হয়। যা বিজ্ঞাপিত চাহিদার চেয়ে ২৬ জন বেশি। এর মধ্যে ২১ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রাখা হয়। যা ইউজিসি’র আইনের পরিপন্থী।

নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউজিসির আইনে কোনো কন্ডিশনাল (শর্ত সাপেক্ষে) নিয়োগ দেয়া যায় না। যাদেরকে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে তাদের নিয়োগ দিতে হলে আমাদের কাছে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এটা ইউজিসির আইনে না থাকায় আমরা তাদেরকে অনুমতি দেব না। ‘বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যত সংখ্যক পদে নিয়োগ দেয়ার কথা তত সংখ্যক পদেই নিয়োগ দিতে হবে।’

কৃষি রসায়ন বিভাগের প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার বিভাগে অ্যাপিয়ার্ড সনদ দিয়ে আবেদনকারীদের অনেককে ভাইভা কার্ড দেয়া হয়নি। অথচ পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে একজনকে অ্যাপির্য়াড সনদ দিয়ে আবেদন করার পরেও তাকে ভাইভা কার্ড দেয়া হয়েছে। ভাইবার আগের দিন তার পিএইচডির ফলাফল বের হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতিরি সভাপতি উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘শেকৃবির নিয়োগ বিধিমালায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নিয়োগ বিধি অনুসরণ করার কথা রয়েছে। ওই বিধির আলোকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি আপনা আপনি বাদ হয়ে যাওয়ার কথা।’

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, ‘আমার সময় নেই। নিয়োগ নিয়ে কোনো কথা বলার দরকার নাই। আই ডোন্ট ফিল অ্যানি নিড টু টক উইথ ইউ। এই হলো কথা। আমার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তোমরা কি বিতর্ক করার জন্য আসছো?'

 

ঢাকা, ১৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।